ইমরান হোসাইন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও গ্রাহক ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি। ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষার সময় আগের চেয়ে কমলেও নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ। জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে চালু করা এই অ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও জটিলতায় অনেক গ্রাহকই তেল নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
গ্রাহকরা বলছেন, কারিগরি ত্রুটি, পর্যাপ্ত নির্দেশনার অভাব ও ডিজিটাল জটিলতায় অ্যাপটি ঠিক মতো কাজ করছে না। এতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভুল তথ্যও দেখাচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর বেশ কিছু পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল নিতে আসা চালকদের দীর্ঘ সারি। তবে এই সারি তেলের জন্য নয়, বরং অ্যাপে লগইন করার জন্য।
মোটরসাইকেল চালক জিহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘অ্যাপে তথ্য দিতে গিয়ে ওটিপি আসছে না। বারবার চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রেশন ফেইল দেখাচ্ছে। অনেক পরে কোড এলেও তা কাজ করছে না।’
অপেক্ষা কমলেও ভোগান্তি শেষ হয়নি
গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন কিছুটা কমেছে।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক জাকিরুল জানান, এক সপ্তাহ আগে ১৪ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করে তেল পেলেও এখন ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে পাচ্ছেন। মোহাম্মদ ফজল নামে আরেকজন বলেন, ৫-৬ ঘণ্টার নিচে আগে তেল পাওয়া যেত না। এখন এর অর্ধেক সময়েই তেল মিলছে।
গাবতলীর একটি পাম্পে মাত্র আধা ঘণ্টায় তেল পেয়েছেন বলেও জানান আনোয়ার নামে এক চালক। অবশ্য সব পাম্পে এই স্বস্তি মিলছে না। কিছু ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে তেলের পরিমাণ নিয়ে আক্ষেপ আছে অনেকের। মোটরসাইকেল চালক ফজল বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ৫০০ টাকার বা তিন লিটারের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল শেষ হলে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নতুন যন্ত্রণা ফুয়েল পাস অ্যাপ
জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে গত ৯ এপ্রিল ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এতে গ্রাহকের তেল নেওয়ার পুরো হিসাব এক স্থানে পাওয়া যাচ্ছে। এতে অতিরিক্ত তেল নেওয়া অনেকটাই বন্ধ হয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, এই অ্যাপ নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। যেনতেনভাবে চালু করায় অ্যাপে লগইন করতে ঝামেলায় পড়ছেন অনেকে। আবার পর্যাপ্ত নির্দেশনা না থাকায় অনেকে রেজিস্ট্রেশনও করতে পারছেন না। এত বড় একটি ডিজিটাল সিস্টেম চালুর আগে গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন ছিল।
তাদের অভিযোগ, অ্যাপটিতে রেজিস্ট্রেশনে চেসিস নম্বর বা ইঞ্জিন নম্বরের মতো তথ্য চাওয়া হচ্ছে, যে বিষয়ে অনেক সাধারণ চালকের কোনো ধারণা নেই। এ ছাড়া লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ‘ঢাকা’ নাকি ‘ঢাকা মেট্রো ল’— লিখে সার্চ করতে হবে তার কোনো স্পষ্ট গাইডলাইন না থাকায় তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।
হাসান আলী নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, ৩ বার চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘পাম্পে এই সিস্টেম বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কোনো দক্ষ লোক নেই। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে তেল না নিয়েই অন্য পাম্পে যাচ্ছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ‘Fuel Pass BD’ নামের একটি গ্রুপকে হেল্পলাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই গ্রুপে শত শত অভিযোগ দেখা গেছে। কেউ বলছেন, লগইন করতে গেলে ‘ইনভ্যালিড ক্রেডেনশিয়ালস’ দেখাচ্ছে, আবার কেউ বলছেন, টাকার হিসেবে গরমিল। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এক হাজার টাকার তেল নেওয়ার পর অ্যাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৭৫০ টাকা বা ১২.৫ লিটার দেখানো হয়েছে।
ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দৈনিক ১২.৫ লিটার এবং মাসে ২৫ লিটারের সীমাও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চালকরা বলছেন, সারাদিন রাইড শেয়ারিং করতে এই জ্বালানি যথেষ্ট নয়। তবে অ্যাপে এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন যারা নতুন মোটরসাইকেল কিনেছেন। এখনও লাইসেন্স নম্বর না পাওয়ায় অ্যাপে নিবন্ধনের কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না এসব মোটরসাইকেলের মালিকরা। ফলে বাইক ঘরেই ফেলে রাখা লাগছে।
বিষয়টি নিয়ে রহমান ওয়াসিফ নামে এক গ্রাহক বলেন, এই বিড়ম্বনা কমাতে অ্যাপে সব পাম্পের তালিকা যুক্ত করা, ডিজিটাল বুকিং সুবিধা এবং লাইভ ট্র্যাকিং ফিচার চালু করা উচিত।
ফুয়েল পাস চালুর কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী আশরাফ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আগে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করত, পাস চালুর ফলে সেই প্রবণতা কমেছে। এতে পাম্পে লাইনের ভিড়ও কমেছে।’
তবে বর্তমানে মাসে ২৫ লিটারের সীমা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা দৈনন্দিন কাজে বাইক ব্যবহার করেন, তাদের জন্য অন্তত ৩০ লিটার এবং রাইড শেয়ার চালকদের জন্য দৈনিক চাহিদা বিবেচনায় আলাদা নীতিমালা থাকা দরকার।’
এছাড়া রেজিস্ট্রেশন জটিলতা কাটাতে পাম্পে ‘সহায়তা বুথ’ স্থাপন ও প্রচারণার ওপর জোর দেন ওই শিক্ষার্থী।
এদিকে, ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্ট্রিমকে বলেন, ‘ব্যবস্থাটি এখনো পরীক্ষামূলক (পাইলট) পর্যায়ে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পর বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।’
গ্রাহকদের যে কোনো সমস্যা নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য ওয়েবাসইটে দেওয়া গ্রুপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুরুতে যানবাহনের ক, খ, গ সিরিজের জন্য ফুয়েল পাস চালু করা হয়েছে। বাকিগুলো ধীরে ধীরে আসবে। আর বিআরটিএ-এর সঙ্গে তথ্যের মিল যাচাই করার জন্য ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর চাওয়া হচ্ছে।’
মালিকানা হস্তান্তর (নেম ট্রান্সফার) চলাকালীন গ্রাহকদের ভোগান্তি নিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, যাদের নাম ট্রান্সফার হয়নি তারা পুরোনো তথ্য দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা যিনি ব্যবহার করছেন, তাঁর এনআইডি দিয়ে করবেন।
অ্যাপে মাসে ২৫ লিটারের কোটা দেখালেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ সাদেক বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো লিমিটেশন করে দেওয়া হয়নি। পাম্প থেকে কী বলছে সেটা না দেখে অ্যাপে কী নির্দেশনা আছে, সেটা দেখতে হবে।’ এরপরও যৌক্তিক কোনো সমস্যা থাকলে তা ফেসবুক গ্রুপে জানালে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
সরবরাহ নিয়ে পাম্প মালিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গ্রাহকরা ভোগান্তির কথা বললেও অ্যাপের সুবিধার কথাই বললেন একাধিক পাম্প মালিক। শাহবাগের মেঘনা ফুয়েল পাম্প, মহাখালীর ক্রিসেন্ট অটোমোবাইল ও চাষাড়ার আসগর ফিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য– ফুয়েল পাস চালুর পর সরবরাহে অনেকটা শৃঙ্খলা এসেছে। গাড়ির দীর্ঘ সারিও কমেছে। একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ না থাকায় বণ্টন ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে ভারসাম্য আসছে।
জ্বালানি সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও জানায় এই পাম্পগুলো। তারা জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি পাচ্ছেন তারা। ঘাটতি নেই বললেই চলে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক পাম্পের কর্মী জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় তারা প্রায় ৯ হাজার লিটার তেল কম পেয়েছেন। সরবরাহ কম থাকায় অনেক পাম্প বাধ্য হয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য রমনা ও শাহবাগ এলাকায় নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার পরিস্থিতি ‘খুবই ভালো’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহক ২০০-৩০০ টাকার তেল নিয়ে বারবার লাইনে দাঁড়ানোয় লাইন বড় হচ্ছে।
আয় কমেছে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের
জ্বালানির দাম বাড়ায় এবং পাম্পে দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ায় রাইডশেয়ারিং চালকদের দৈনন্দিন আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জাকিরুল নামে এক চালক জানান, আগে দৈনিক ২ হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা ১২০০-১৫০০ টাকায় নেমেছে।
কিছু চালকের অভিযোগ, তেলের লিটারে ২০ টাকা বাড়লেও অ্যাপভিত্তিক কোম্পানিগুলো ভাড়া আগের মতোই রেখেছে, এতে চালকদের আয় কমে গেছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেয়।
অবশ্য রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘পাঠাও’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া সমন্বয় এবং কমিশন কাঠামো নিয়ে তারা কাজ করছে।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনা, মজুতদারি রোধ এবং বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই উদ্যোগ নেয়।
গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ‘হ’ ও ‘ল’ সিরিজের মোটরসাইকেলকে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১২ এপ্রিল এই কার্যক্রম আরও ৫টি পাম্পে সম্প্রসারণ করা হয়।
১৮ এপ্রিল পাইলট যুক্ত হয় আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্প। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর ছাড়াও চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ জেলায় (মহানগর এলাকাগুলোসহ) নিবন্ধিত মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। ২০ এপ্রিল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বগুড়াসহ আরও ১৯টি জেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়।
২১ এপ্রিল পাইলটিং সম্পন্ন হওয়া রাজধানীর সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি তেল নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
সবশেষ ২৬ এপ্রিল মোটরসাইকেলের পর ফুয়েল পাসের সুবিধা ব্যক্তিগত গাড়ির জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িকে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্য সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িও এর আওতায় আসবে।
উল্লেখ্য, পাস পেতে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর এবং এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও গ্রাহক ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি। ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষার সময় আগের চেয়ে কমলেও নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ। জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে চালু করা এই অ্যাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও জটিলতায় অনেক গ্রাহকই তেল নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
গ্রাহকরা বলছেন, কারিগরি ত্রুটি, পর্যাপ্ত নির্দেশনার অভাব ও ডিজিটাল জটিলতায় অ্যাপটি ঠিক মতো কাজ করছে না। এতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভুল তথ্যও দেখাচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর বেশ কিছু পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল নিতে আসা চালকদের দীর্ঘ সারি। তবে এই সারি তেলের জন্য নয়, বরং অ্যাপে লগইন করার জন্য।
মোটরসাইকেল চালক জিহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘অ্যাপে তথ্য দিতে গিয়ে ওটিপি আসছে না। বারবার চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রেশন ফেইল দেখাচ্ছে। অনেক পরে কোড এলেও তা কাজ করছে না।’
অপেক্ষা কমলেও ভোগান্তি শেষ হয়নি
গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন কিছুটা কমেছে।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক জাকিরুল জানান, এক সপ্তাহ আগে ১৪ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করে তেল পেলেও এখন ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে পাচ্ছেন। মোহাম্মদ ফজল নামে আরেকজন বলেন, ৫-৬ ঘণ্টার নিচে আগে তেল পাওয়া যেত না। এখন এর অর্ধেক সময়েই তেল মিলছে।
গাবতলীর একটি পাম্পে মাত্র আধা ঘণ্টায় তেল পেয়েছেন বলেও জানান আনোয়ার নামে এক চালক। অবশ্য সব পাম্পে এই স্বস্তি মিলছে না। কিছু ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে তেলের পরিমাণ নিয়ে আক্ষেপ আছে অনেকের। মোটরসাইকেল চালক ফজল বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ৫০০ টাকার বা তিন লিটারের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল শেষ হলে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নতুন যন্ত্রণা ফুয়েল পাস অ্যাপ
জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে গত ৯ এপ্রিল ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এতে গ্রাহকের তেল নেওয়ার পুরো হিসাব এক স্থানে পাওয়া যাচ্ছে। এতে অতিরিক্ত তেল নেওয়া অনেকটাই বন্ধ হয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, এই অ্যাপ নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। যেনতেনভাবে চালু করায় অ্যাপে লগইন করতে ঝামেলায় পড়ছেন অনেকে। আবার পর্যাপ্ত নির্দেশনা না থাকায় অনেকে রেজিস্ট্রেশনও করতে পারছেন না। এত বড় একটি ডিজিটাল সিস্টেম চালুর আগে গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন ছিল।
তাদের অভিযোগ, অ্যাপটিতে রেজিস্ট্রেশনে চেসিস নম্বর বা ইঞ্জিন নম্বরের মতো তথ্য চাওয়া হচ্ছে, যে বিষয়ে অনেক সাধারণ চালকের কোনো ধারণা নেই। এ ছাড়া লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ‘ঢাকা’ নাকি ‘ঢাকা মেট্রো ল’— লিখে সার্চ করতে হবে তার কোনো স্পষ্ট গাইডলাইন না থাকায় তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।
হাসান আলী নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, ৩ বার চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘পাম্পে এই সিস্টেম বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কোনো দক্ষ লোক নেই। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে তেল না নিয়েই অন্য পাম্পে যাচ্ছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ‘Fuel Pass BD’ নামের একটি গ্রুপকে হেল্পলাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই গ্রুপে শত শত অভিযোগ দেখা গেছে। কেউ বলছেন, লগইন করতে গেলে ‘ইনভ্যালিড ক্রেডেনশিয়ালস’ দেখাচ্ছে, আবার কেউ বলছেন, টাকার হিসেবে গরমিল। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এক হাজার টাকার তেল নেওয়ার পর অ্যাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৭৫০ টাকা বা ১২.৫ লিটার দেখানো হয়েছে।
ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দৈনিক ১২.৫ লিটার এবং মাসে ২৫ লিটারের সীমাও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চালকরা বলছেন, সারাদিন রাইড শেয়ারিং করতে এই জ্বালানি যথেষ্ট নয়। তবে অ্যাপে এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন যারা নতুন মোটরসাইকেল কিনেছেন। এখনও লাইসেন্স নম্বর না পাওয়ায় অ্যাপে নিবন্ধনের কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না এসব মোটরসাইকেলের মালিকরা। ফলে বাইক ঘরেই ফেলে রাখা লাগছে।
বিষয়টি নিয়ে রহমান ওয়াসিফ নামে এক গ্রাহক বলেন, এই বিড়ম্বনা কমাতে অ্যাপে সব পাম্পের তালিকা যুক্ত করা, ডিজিটাল বুকিং সুবিধা এবং লাইভ ট্র্যাকিং ফিচার চালু করা উচিত।
ফুয়েল পাস চালুর কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী আশরাফ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আগে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করত, পাস চালুর ফলে সেই প্রবণতা কমেছে। এতে পাম্পে লাইনের ভিড়ও কমেছে।’
তবে বর্তমানে মাসে ২৫ লিটারের সীমা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা দৈনন্দিন কাজে বাইক ব্যবহার করেন, তাদের জন্য অন্তত ৩০ লিটার এবং রাইড শেয়ার চালকদের জন্য দৈনিক চাহিদা বিবেচনায় আলাদা নীতিমালা থাকা দরকার।’
এছাড়া রেজিস্ট্রেশন জটিলতা কাটাতে পাম্পে ‘সহায়তা বুথ’ স্থাপন ও প্রচারণার ওপর জোর দেন ওই শিক্ষার্থী।
এদিকে, ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্ট্রিমকে বলেন, ‘ব্যবস্থাটি এখনো পরীক্ষামূলক (পাইলট) পর্যায়ে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পর বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।’
গ্রাহকদের যে কোনো সমস্যা নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য ওয়েবাসইটে দেওয়া গ্রুপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুরুতে যানবাহনের ক, খ, গ সিরিজের জন্য ফুয়েল পাস চালু করা হয়েছে। বাকিগুলো ধীরে ধীরে আসবে। আর বিআরটিএ-এর সঙ্গে তথ্যের মিল যাচাই করার জন্য ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর চাওয়া হচ্ছে।’
মালিকানা হস্তান্তর (নেম ট্রান্সফার) চলাকালীন গ্রাহকদের ভোগান্তি নিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, যাদের নাম ট্রান্সফার হয়নি তারা পুরোনো তথ্য দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা যিনি ব্যবহার করছেন, তাঁর এনআইডি দিয়ে করবেন।
অ্যাপে মাসে ২৫ লিটারের কোটা দেখালেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ সাদেক বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো লিমিটেশন করে দেওয়া হয়নি। পাম্প থেকে কী বলছে সেটা না দেখে অ্যাপে কী নির্দেশনা আছে, সেটা দেখতে হবে।’ এরপরও যৌক্তিক কোনো সমস্যা থাকলে তা ফেসবুক গ্রুপে জানালে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
সরবরাহ নিয়ে পাম্প মালিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গ্রাহকরা ভোগান্তির কথা বললেও অ্যাপের সুবিধার কথাই বললেন একাধিক পাম্প মালিক। শাহবাগের মেঘনা ফুয়েল পাম্প, মহাখালীর ক্রিসেন্ট অটোমোবাইল ও চাষাড়ার আসগর ফিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য– ফুয়েল পাস চালুর পর সরবরাহে অনেকটা শৃঙ্খলা এসেছে। গাড়ির দীর্ঘ সারিও কমেছে। একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ না থাকায় বণ্টন ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে ভারসাম্য আসছে।
জ্বালানি সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও জানায় এই পাম্পগুলো। তারা জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি পাচ্ছেন তারা। ঘাটতি নেই বললেই চলে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক পাম্পের কর্মী জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় তারা প্রায় ৯ হাজার লিটার তেল কম পেয়েছেন। সরবরাহ কম থাকায় অনেক পাম্প বাধ্য হয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য রমনা ও শাহবাগ এলাকায় নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার পরিস্থিতি ‘খুবই ভালো’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহক ২০০-৩০০ টাকার তেল নিয়ে বারবার লাইনে দাঁড়ানোয় লাইন বড় হচ্ছে।
আয় কমেছে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের
জ্বালানির দাম বাড়ায় এবং পাম্পে দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ায় রাইডশেয়ারিং চালকদের দৈনন্দিন আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জাকিরুল নামে এক চালক জানান, আগে দৈনিক ২ হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা ১২০০-১৫০০ টাকায় নেমেছে।
কিছু চালকের অভিযোগ, তেলের লিটারে ২০ টাকা বাড়লেও অ্যাপভিত্তিক কোম্পানিগুলো ভাড়া আগের মতোই রেখেছে, এতে চালকদের আয় কমে গেছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেয়।
অবশ্য রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘পাঠাও’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া সমন্বয় এবং কমিশন কাঠামো নিয়ে তারা কাজ করছে।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনা, মজুতদারি রোধ এবং বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই উদ্যোগ নেয়।
গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ‘হ’ ও ‘ল’ সিরিজের মোটরসাইকেলকে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১২ এপ্রিল এই কার্যক্রম আরও ৫টি পাম্পে সম্প্রসারণ করা হয়।
১৮ এপ্রিল পাইলট যুক্ত হয় আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্প। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর ছাড়াও চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ জেলায় (মহানগর এলাকাগুলোসহ) নিবন্ধিত মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। ২০ এপ্রিল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বগুড়াসহ আরও ১৯টি জেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়।
২১ এপ্রিল পাইলটিং সম্পন্ন হওয়া রাজধানীর সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি তেল নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
সবশেষ ২৬ এপ্রিল মোটরসাইকেলের পর ফুয়েল পাসের সুবিধা ব্যক্তিগত গাড়ির জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িকে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্য সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িও এর আওতায় আসবে।
উল্লেখ্য, পাস পেতে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর এবং এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাবে এই তথ্য জানানো হয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১৭ ঘণ্টা আগে
আজ বুধবার (১০ জুন) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এর আগে ১-৩ জানুয়ারি পর্যন্ত একই ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল বছরের সর্বনিম্ন ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।
১ দিন আগে
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন দেশে তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থালিসামগ্রী ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দাম কমতে পারে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং বিলাসী পণ্য নিরুৎসাহিত করতে কিছু আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
২ দিন আগে