leadT1ad

তেল রপ্তানিতে শীর্ষে আছে যে ৫ দেশ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

জ্বালানি তেলকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক গোল্ড’। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি তেল, যাকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক গোল্ড’। এই তেলের জন্য সারা পৃথিবী প্রায়ই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

বিগত কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে আধিপত্য বজায় রাখতে এক তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ও ইনভেস্টোপিডিয়া অনুযায়ী, রপ্তানির পরিমাণ ও আয়ের ভিত্তিতে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর প্রযুক্তির ব্যবহারে তেলের বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। নিচে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি তেল রপ্তানিকারক দেশের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো।

সৌদি আরব

সৌদি আরব বরাবরের মতোই তেল রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ রয়েছে সৌদি আরবের কাছে।

‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে। যদিও ২০২৩ সালে তেল রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল। তেলের বাণিজ্যে ১ ব্যারেল সমান ১৫৯ লিটার (প্রায়)। সুতরাং ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বলতে ৯৫ কোটি ৪০ লাখ লিটার তেল বোঝায়।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সৌদি আরব প্রতিদিন ১১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে।

রাশিয়া

তেল রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নানামুখী নিষেধাজ্ঞার শিকার হলেও দেশটি তাদের বিশাল তেলের ভাণ্ডার নিয়ে বিশ্ববাজারে টিকে আছে। ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’-এর ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। পশ্চিমা দেশগুলো মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় তাদের রপ্তানির মূল গন্তব্য এখন এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন ও ভারত। তবে ইনভেস্টোপিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, রপ্তানি আয়ের দিক থেকে রাশিয়া তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, যেখানে তাদের আয় প্রায় ১২২ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র

তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে। ইনভেস্টোপিডিয়ার তথ্য মতে, ২০২৫ সালে তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের আয় ছিল ১২৫ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার চেয়ে এগিয়ে থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে রাশিয়ার শূন্যস্থান পূরণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র তেল রপ্তানিতে এত সাফল্যের মুখ দেখেছে বলে মনে করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

কানাডা

চতুর্থ স্থানে রয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। বিশাল ‘অয়েল স্যান্ডস’ বা তেলের খনি সমৃদ্ধ দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে যা ২০২৩ সালে ছিল ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। কানাডার রপ্তানিকৃত তেলের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি যায় প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২৩ সালেও তাদের রপ্তানি আয় ছিল ১০৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা তাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রেখেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

পঞ্চম স্থানটিতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে। ২০২৩ সালে তাদের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৯৯ বিলিয়ন ডলার। যদিও ইরাক আয়ের দিক থেকে বা পরিমাণের দিক থেকে প্রায়ই এই তালিকার ৫ম বা ৬ষ্ঠ স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল রপ্তানি করেছে, যা সে বছর বৈশ্বিক তেল রপ্তানির ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। দেশটির অর্থনীতি এখন তেলের ওপর আগের চেয়ে কম নির্ভরশীল হলেও, তেল ও গ্যাস উৎপাদন এখনো তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে আছে।

এই পাঁচ দেশ ছাড়াও তেল রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইরাক, ব্রাজিল, নরওয়ে, নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো।

Ad 300x250

সম্পর্কিত