বাজারে নিত্যপণ্যে আগুন, ঘরে জ্বলছে না চুলা
৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাছ-মুরগিসহ অধিকাংশ পণ্যের দামও চড়া।
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

গ্যাস সংকটে গৃহিণীরা চুলা জ্বালতে পারছেন না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে রান্না সারছেন। এদিকে, নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ সংকটে ক্রেতার নাভিশ্বাস। ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাছ-মুরগি কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১২০ টাকা কেজি। শসা ১৪০-১৬০, বেগুন ১২০-১৬০, করলা ১০০-১২০, কাঁকরোল ও বরকটি ১২০, গাজর ১৩০, কচুর লতি ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতিপিস কিনতে গুণতে হচ্ছে ১০০ টাকা কিংবা তারও বেশি।
আকার ভেদে রুই মাছের কেজি ঠেকেছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০-৩৮০। তেলাপিয়া ২৪০-২৬০, পাঙ্গাস ২২০-২৫০, পাবদা ৪০০-৪৫০ এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের নাগালের বাইরেই রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে লাগছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
ডিমের দাম কিছুটা বেড়ে ১৩৫-১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ঠেকেছে ৫০-৬০ টাকায়। অথচ গত সপ্তাহেও মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।
৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। কাঁচা মরিচ এক লাফে ২৪০ টাকা হয়েছে। গ্যাস নেই। রান্না হচ্ছে না। বাজারে এল মাথা ঘুরছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শহিদুল ইসলাম, ক্রেতা
বিক্রেতারা বলছেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে টানা বর্ষণ ও বন্যার কারণে সরবরাহ সংকটে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। দক্ষিণ-পূর্ব, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকায় পণ্য আসছে দেরিতে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়বে।
নিউমার্কেট বনলতা কাঁচাবাজারের মুরগি-ডিম বিক্রেতা আজিম উদ্দিন বলেন, বন্যাকবলিত জেলা থেকে পণ্য আসা কমে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি, শিগগির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। ডিম ও মুরগির দাম কমে আসবে।
নিউমার্কেটে আসা সরকারি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। কাঁচা মরিচ এক লাফে ২৪০ টাকা হয়েছে। গ্যাস নেই। রান্না হচ্ছে না। বাজারে এল মাথা ঘুরছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে বাজার তদারকির দাবি জানান তিনি।
এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা সাদিয়া রহমান বলেন, ‘কাঁচা মরিচ, শসা ও বেগুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারের ফর্দে কাটছাট করতে হচ্ছে। অনেক নিত্যপণ্য কেনা বাদ দিয়েছি।’ বেসরকারি চাকরিজীবী খালিদ হাসানের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর আর কমে না। মুনাফার জন্য ব্যবসায়ীরা সব সময় কিছু না কিছুর ছুতা পেয়ে যান।
.png)




-e3d250-256x144.webp)

