কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
টঙ্গী (গাজীপুর)

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩৫
কারখানার নোটিশ বোর্ডে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকায় নিজের নাম খোঁজেন অনেকে। স্ট্রিম ছবি
কারখানার নোটিশ বোর্ডে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকায় নিজের নাম খোঁজেন অনেকে। স্ট্রিম ছবি

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানার প্রধান ফটকে শ্রমিকেরা জড়ো হন। তাঁরা বোর্ডে টানানো তালিকা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের কেউ নিজের নাম পেয়ে কান্না করেন। কেউ আবার সহকর্মীর নাম দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে কল দিয়ে জানান।

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক সুমন হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ চাকরি নেই– এটা আমার পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা। সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।’ আরেক শ্রমিক আলমগীর মিয়া বলেন, ‘কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন চাকরি চলে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি। পাওনা ঠিকমতো পেলেও, নতুন চাকরি কঠিন হবে।’

কেয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই কার্যকর হবে। তাদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে।

এতে বলা হয়, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে রয়েছে। পরে কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই তালিকায় নিজের নাম পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন শ্রমিকেরা। স্ট্রিম ছবি
কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই তালিকায় নিজের নাম পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন শ্রমিকেরা। স্ট্রিম ছবি

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক আয়শা আক্তার বলেন, কারখানা বন্ধ বা লে-অফের কথা শুনেছি। কিন্তু চাকরি চলে যাবে এটা ভাবিনি। হঠাৎ করে তালিকায় নিজের নাম দেখে খুব খারাপ লেগেছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কারখানাগুলোতে নতুন করে শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাদের চাকরি বহাল, তাদের লে-অফের আওতায় রাখা হবে এবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছাঁটাই শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।’

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য কারখানার প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত