কর-ভ্যাট সুবিধাসহ বাজেটে ১৩ প্রস্তাব বিকেএমইএর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫৪
বিকেএমইএ-র লোগো

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে নিটওয়্যার খাতের জন্য কর-ভ্যাট সুবিধাসহ ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

চিঠিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এর ফলে পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমছে। বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে রপ্তানি আয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে গত দুই বছরে প্রায় ৮০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে আয়কর, কাস্টমস, বন্ড ও ভ্যাট খাতে সংস্কার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আয়কর-সংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—রপ্তানি আয়ের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ হারে আরও পাঁচ বছর বহাল রাখা, নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার, সম্পদ বিক্রির লাভ বা কিছু ব্যয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর বাতিল, সাব-কন্ট্রাক্ট প্রতিষ্ঠানের করহার পুনর্বিবেচনা এবং উৎসে কাটা করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা। এ ছাড়া আয়কর আইন, বিধিমালা ও এসআরও সমন্বিত একটি হালনাগাদ গাইড প্রকাশের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বিকেএমইএ কাস্টমস ও বন্ড ব্যবস্থায় বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে সাব-কন্ট্রাক্ট কার্যক্রমে শর্ত সহজীকরণ, বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু নির্দেশনা বাতিল এবং বন্ড লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্স স্থগিতকরণ নীতির সংস্কার এবং সরাসরি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি জটিলতা দূর করারও দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, বর্তমান প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভ্যাট-সংক্রান্ত প্রস্তাবে কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রিসাইকেলড ফাইবার বা সুতা উৎপাদনে ভ্যাট ছাড় চাওয়া হয়েছে। বিকেএমইএ বলছে, বৈশ্বিক বাজারে ম্যানমেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ এখনো তুলাভিত্তিক পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতে কর ছাড় দিলে উৎপাদন ব্যয় কমবে ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ সম্ভব হবে।

চিঠির শেষাংশে সংগঠনটি বলেছে, নিটওয়্যার ও তৈরি পোশাক খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি খাত এবং বিপুল কর্মসংস্থানের উৎস। বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো বিবেচনা করলে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত