জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে শিল্প ও অর্থনীতি, উত্তরণে মহাপরিকল্পনার আহ্বান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৪৮
‘গ্লোবাল এনার্জি শক: ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা। সংগৃহীত ছবি

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ ও মহাপরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘গ্লোবাল এনার্জি শক: ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ (বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তাঁরা এ আহ্বান জানান। আলোচনাটি আয়োজনে সহায়তা করে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি এসোসিয়েশন এবং ইনফ্রাস্ট্রাচকার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল)।

সভায় বক্তারা সংকট কাটাতে তিনটি মূল কৌশলের ওপর জোর দেন—নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়। মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” তিনি অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বছরে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। তেলের দাম ১২০ ডলারের বেশি হলে বছরে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬১০ বিলিয়ন টাকা খরচ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিল্প সচিব মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে এফবিসিসিআই প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম খান ও বিইআরসি সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শহীদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম ও ড. ইজাজ হোসেনসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, সোলার প্যানেল, রুফটপ সোলার ও সোলার সেচ ব্যবস্থার প্রসারে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। শিল্প রক্ষায় সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি স্টোরেজ আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রস্তাব দেন তাঁরা। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তত ৪৫ দিন থেকে ৩ বছরের কৌশলগত মজুত রাখার সুপারিশ করা হয়। আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি স্থাপন এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

আলোচনায় নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং অদক্ষ ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা সতর্ক করেন, বর্তমান সংকটকে ‘ওয়েকআপ কল’ হিসেবে না নিলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। তবে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কিত