স্ট্রিম প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের বাজার, শেয়ারবাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা না দিলেও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের বাজারে ইরান যুদ্ধের এখনো তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আমদানি-রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়েও এর বড় প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।”
তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে ধাক্কা
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে হামলার পর থেকেই তেলের বাজার অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। সোমবার (২ মার্চ) ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের ঘোষণা দিলে দাম আরও বাড়ে। গত কয়েক দিনে তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বেড়ে ৭৭.৪২ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। বুধবার এশিয়ার বড় সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে—দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ১২ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ৩.৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং প্রায় ২ শতাংশ কমে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারও ১ শতাংশের বেশি নেমে যায়।
তবে ওয়াল স্ট্রিটে সূচকের উত্থান হওয়ায় বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক আগের দিনের বড় ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। এদিন কোসপি সূচক পতন থেকে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জাপানের নিক্কি সূচকও বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
আইএমএফ কর্মকর্তা ড্যান কাটজ সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির ঝুঁকি
বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংঘাত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় ৭৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। সেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কমলে প্রবাসী আয়ে ভাটা পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিম্নমুখী হবে, যার বড় ধাক্কা লাগবে বাংলাদেশের ওপর।”
রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ
তৈরি পোশাক খাতের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “রপ্তানিনির্ভর দেশ হিসেবে এই যুদ্ধের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বেই। সংঘাত দীর্ঘ হলে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমতে পারে।”
ইতিমধ্যে আকাশ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এয়ারলাইন ঢাকা থেকে কার্গো পরিবহন স্থগিত করায় বিমানবন্দরে রপ্তানি পণ্য আটকে আছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনারের নতুন বুকিং বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রচুর কনটেইনার জমে গেছে। এতে পোশাক, খাদ্য ও প্লাস্টিক পণ্য পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানির খরচ ও সময়—উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের বাজার, শেয়ারবাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা না দিলেও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের বাজারে ইরান যুদ্ধের এখনো তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আমদানি-রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়েও এর বড় প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।”
তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে ধাক্কা
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে হামলার পর থেকেই তেলের বাজার অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। সোমবার (২ মার্চ) ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের ঘোষণা দিলে দাম আরও বাড়ে। গত কয়েক দিনে তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বেড়ে ৭৭.৪২ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। বুধবার এশিয়ার বড় সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে—দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ১২ শতাংশ, জাপানের নিক্কেই ৩.৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং প্রায় ২ শতাংশ কমে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারও ১ শতাংশের বেশি নেমে যায়।
তবে ওয়াল স্ট্রিটে সূচকের উত্থান হওয়ায় বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক আগের দিনের বড় ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। এদিন কোসপি সূচক পতন থেকে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জাপানের নিক্কি সূচকও বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
আইএমএফ কর্মকর্তা ড্যান কাটজ সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির ঝুঁকি
বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংঘাত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় ৭৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। সেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কমলে প্রবাসী আয়ে ভাটা পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিম্নমুখী হবে, যার বড় ধাক্কা লাগবে বাংলাদেশের ওপর।”
রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ
তৈরি পোশাক খাতের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “রপ্তানিনির্ভর দেশ হিসেবে এই যুদ্ধের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বেই। সংঘাত দীর্ঘ হলে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমতে পারে।”
ইতিমধ্যে আকাশ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এয়ারলাইন ঢাকা থেকে কার্গো পরিবহন স্থগিত করায় বিমানবন্দরে রপ্তানি পণ্য আটকে আছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনারের নতুন বুকিং বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রচুর কনটেইনার জমে গেছে। এতে পোশাক, খাদ্য ও প্লাস্টিক পণ্য পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানির খরচ ও সময়—উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাবে এই তথ্য জানানো হয়।
১৩ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১৬ ঘণ্টা আগে
আজ বুধবার (১০ জুন) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এর আগে ১-৩ জানুয়ারি পর্যন্ত একই ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল বছরের সর্বনিম্ন ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।
১ দিন আগে
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন দেশে তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থালিসামগ্রী ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দাম কমতে পারে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং বিলাসী পণ্য নিরুৎসাহিত করতে কিছু আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
২ দিন আগে