leadT1ad

তিন দিনেই ব্যবসা নিবন্ধন, বিনিয়োগকারীদের জন্য চালু হলো ‘বাংলাবিজ ২.০’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ০৬
দেশের বিনিয়োগ সেবাকে ডিজিটাল ও একীভূত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও একীভূত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) যৌথভাবে এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাবিজ ২.০-এর মূল কার্যক্রম ও অনলাইন সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাবিজের প্রথম সংস্করণ চালু হয় ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তখন এটি একটি তথ্যভিত্তিক পোর্টাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে এতে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালগুলো সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্রবেশদ্বার তৈরি হয়েছে।

বাংলাবিজ ২.০-তে বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক নতুন ও উন্নত সেবা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন একটি মাত্র আবেদনে সম্পন্ন করা যাবে। এগুলো হলো—নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন ও ট্রেড লাইসেন্স। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত লাইসেন্সসহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন গ্রহণ ও সম্পন্ন করতে পারবেন। নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস (কেওয়াইএ)’ ফিচারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী কোন কোন অনুমোদন লাগবে এবং কী কী ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে, তা আগেই জানা যাবে। প্রয়োজনে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সহায়তাও পাওয়া যাবে।

এই সংস্করণে ‘বাংলাবিজ আইডি (বিবিআইডি)’ চালু হয়েছে। এটি একটি অনন্য (ইউনিক) ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন সুবিধায় একটি লগইন ব্যবহার করেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনলাইন হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।”

বিশেষ অতিথি জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, “বাংলাবিজ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের স্বচ্ছ, দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সেবার দাবির একটি কার্যকর সমাধান।” তিনি আরও জানান, জাইকা বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তিনি জানান, বাংলাবিজকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশিক চৌধুরী আরও বলেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাবিজে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফিচার যুক্ত করা হবে। এগুলো বিনিয়োগের খরচ, সময় ও অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত