জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ফাঁকা ঢাকা

নিরাপত্তায় পুলিশের নির্দেশনা, মূল্যমানসামগ্রী রাখা যাবে থানায়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৯: ৫৬
ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ। সংগৃহীত ছবি

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা। এ সময় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই ছুটিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা। এমনকি মূল্যবানসামগ্রী থানায় রাখার সুযোগও পাবেন। আর পুলিশ সদস্যরাও বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।

ঈদের ছুটিতে বাসা ছাড়ার আগেই কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। এগুলোর মধ্যে রয়েছেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যাওয়া। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে প্রয়োজনে এসব জিনিস থানায় রাখা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে যাওয়ার আগে বাসার প্রধান দরজা পাশাপাশি বারান্দা ও রান্নাঘরের দরজাগুলো বারবার চেক করতে হবে। সেইসঙ্গে বাসার জানালা ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না সেটাও দেখে নিতে হবে। দরজায় মানসম্মত তালা লাগাতে হবে। সম্ভব হলে অতিরিক্ত লক, চেইন লক বা ডিজিটাল লক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা-ও নিশ্চিত করা জরুরি।

ফাঁকা বাসায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও অনেক সময় চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব কোনো ঘটনা যেন ঘটতে না পারে, তাই পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তালেবুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘পুলিশের ওপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করা হয়েছে, সে দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে। জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি সারা ঢাকায় বিশেষ টিম মোতায়ন করা হয়েছে।’

এদিকে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বিশেষভাবে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে ট্রাফিক পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই নানা অপরাধের ঘটনা ঘটে। তালা ভেঙে বা গ্রিল কেটে ফাঁকা বাসায় চুরি ও মালামাল লুটের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ছাড়া বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকাতেও সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন অপরাধী চক্র।

ঈদের যানজট ঘিরে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সব টার্মিনাল, ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে তাঁরা স্থাপন করেছেন কন্ট্রোল রুম।

পদ্মাসেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গে যাতায়াত করা বাসগুলো যাত্রাবাড়ির ধোলাইপাড় হয়ে যাতায়াত করে। ঈদ ঘিরে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে ওই রাস্তায়। যানজট তৈরি হয় ধোলাইপাড় মোড়ে। এই যানজট এড়াতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

সকাল ১০টায় ধোলাইপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঈদ ঘিরে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে পুলিশ। ঢাকা থেকে বের হতে চাওয়া গাড়িগুলো যেন আটকে না যায়, সে ব্যবস্থা করছেন তারা। আবার কোনো গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে দিচ্ছেন না।

একই চিত্র দেখা গেছে গাবতলী বাস টার্মিনালে। ঢাকা থেকে বের হওয়া গাড়িগুলো যেন সহজে বের হয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে কাজ করছে তাঁরা। দায়িত্বল সদস্যরা স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, টার্মিনাল বাদে আর কোথাও কোনো কোনো গাড়িকে তাঁরা দাঁড়াতে দিচ্ছেন না। ফলে যত্রতত্র যাত্রী উঠানো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গাবতলী এলাকায় যানজট অনেকটাই কমে এসেছে।

মহাখালী বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে একই চিত্র। এ ছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। ঈদ ঘিরে গতকাল ১৭ মার্চ থেকে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। ছুটি শেষ হবে আগামী ২৩ মার্চ।

সম্পর্কিত