ওলিউর রহমান

ঈদের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
যাত্রাপথকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে ইসলাম কিছু দোয়া ও আদব শিক্ষা দিয়েছে। যেগুলো মেনে চললে সফর ইনশাআল্লাহ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হতে পারে।
আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘরে ভালো করে তালা লাগিয়ে যাত্রা শুরু করা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়তে হয়-- ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
অর্থ : আল্লাহর নামে, আল্লাহ তাআলার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহ তাআলার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারও নেই।
আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ওপরের দোয়াটি পড়ে তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)
বাস, ট্রেন ইত্যাদি স্থলপথের যানবাহনে আরোহনের সময় রাসূল (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন— ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন।’
অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অশেষ করুণাময়। তিনি পূতপবিত্র ওই সত্তা যিনি বাহনকে আমার অধীন করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তাকে আয়ত্তে আনার ক্ষমতা ছিল না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। ( সুরা যুখরুফ: ১৩,১৪)
নৌপথে কোনো বাহনে চড়ার সময় এই দোয়াটি পড়তে হয়—‘বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসা-হা, ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম।’
অর্থ : তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান। (সুরা হুদ :৪১)
সফরে রাসুল (সা.) আরেকটি দোয়া পড়তেন—
‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তার-দা আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হা-যা, ওয়াতওই আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্-সাহিবু ফিস্-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এ সফর সহজ করে দাও। রাস্তার দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের কাছে তুমি আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি ও ভয়ানক দৃশ্য দেখা থেকে এবং পরিবার, সম্পদ-বিত্ত ও অধীনস্তদের কাছে খারাপ অবস্থায় ফেরত আসা থেকে তোমার কাছে রক্ষা চাই। (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮/২)
উচ্চস্বরে কথা বলা, অযথা গান বাজানো, ময়লা ফেলা—এসব আচরণ অন্যের জন্য কষ্টের কারণ হয়। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসাতে আল্লাহ তাআলা সহযাত্রীদের সাথেও সদাচারের নির্দেশ দিয়ে বলেন— তোমরা যাত্রাপথের সঙ্গীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো।
যানবাহনে দুর্বল, শিশু, নারী ও প্রবীণদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা ইসলামি শিষ্টাচারের অংশ। ওঠা-নামায় তাদেরকে অগ্রাধীকার দেওয়া, প্রয়োজনে জায়গা ছেড়ে দেওয়া।
রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি অনুগ্রহ এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে না সে আমাদের দলভূক্ত নয়।
চালক, হেলপার বা যানবাহনের অন্য স্টাফদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণও নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের সাথে অযথা খারাপ ব্যবহার করা ইসলাম পছন্দ করে না।
ঈদ যাত্রায় বাস, ট্রেন, লঞ্চ সর্বত্রই কিছু ভিড় হয়। এসব ভিড়ের মধ্যে অযথা ধাক্কাধাক্কি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা। ভিড়ে মানুষ অনেক সময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। অথচ একজন মুসলমানের পরিচয়ই হলো ধৈর্য ও শিষ্টাচার।
ঈদ যাত্রায় রাস্তায় মাঝেমাঝেই যানজটে পড়তে হয়। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা এবং যিকির, দুরুদ শরীফ, ইস্তেগফার পড়তে থাকা।
যানবাহনে আরোহনের সময় সম্ভব হলে ডান পা দিয়ে ওঠা এবং বাম পা দিয়ে নামার চেষ্টা করা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও বাম পা দিয়ে বের হওয়া।
ঈদযাত্রা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়; এটি একজন মুসলমানের চরিত্র প্রকাশেরও একটি ক্ষেত্র। যাত্রাপথেও যদি আমরা ইসলামের আদব ও শিষ্টাচার মেনে চলি, তাহলে আমাদের সফর হবে আরও সুন্দর ও কল্যাণময়।
আল্লাহ আমাদের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করুন এবং সবাইকে সুস্থভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিন।

ঈদের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
যাত্রাপথকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে ইসলাম কিছু দোয়া ও আদব শিক্ষা দিয়েছে। যেগুলো মেনে চললে সফর ইনশাআল্লাহ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হতে পারে।
আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘরে ভালো করে তালা লাগিয়ে যাত্রা শুরু করা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়তে হয়-- ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
অর্থ : আল্লাহর নামে, আল্লাহ তাআলার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহ তাআলার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারও নেই।
আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ওপরের দোয়াটি পড়ে তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)
বাস, ট্রেন ইত্যাদি স্থলপথের যানবাহনে আরোহনের সময় রাসূল (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন— ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন।’
অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অশেষ করুণাময়। তিনি পূতপবিত্র ওই সত্তা যিনি বাহনকে আমার অধীন করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তাকে আয়ত্তে আনার ক্ষমতা ছিল না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। ( সুরা যুখরুফ: ১৩,১৪)
নৌপথে কোনো বাহনে চড়ার সময় এই দোয়াটি পড়তে হয়—‘বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসা-হা, ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম।’
অর্থ : তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান। (সুরা হুদ :৪১)
সফরে রাসুল (সা.) আরেকটি দোয়া পড়তেন—
‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তার-দা আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হা-যা, ওয়াতওই আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্-সাহিবু ফিস্-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এ সফর সহজ করে দাও। রাস্তার দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের কাছে তুমি আমাদের স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ! তোমার কাছে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি ও ভয়ানক দৃশ্য দেখা থেকে এবং পরিবার, সম্পদ-বিত্ত ও অধীনস্তদের কাছে খারাপ অবস্থায় ফেরত আসা থেকে তোমার কাছে রক্ষা চাই। (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮/২)
উচ্চস্বরে কথা বলা, অযথা গান বাজানো, ময়লা ফেলা—এসব আচরণ অন্যের জন্য কষ্টের কারণ হয়। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসাতে আল্লাহ তাআলা সহযাত্রীদের সাথেও সদাচারের নির্দেশ দিয়ে বলেন— তোমরা যাত্রাপথের সঙ্গীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো।
যানবাহনে দুর্বল, শিশু, নারী ও প্রবীণদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা ইসলামি শিষ্টাচারের অংশ। ওঠা-নামায় তাদেরকে অগ্রাধীকার দেওয়া, প্রয়োজনে জায়গা ছেড়ে দেওয়া।
রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি অনুগ্রহ এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে না সে আমাদের দলভূক্ত নয়।
চালক, হেলপার বা যানবাহনের অন্য স্টাফদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণও নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের সাথে অযথা খারাপ ব্যবহার করা ইসলাম পছন্দ করে না।
ঈদ যাত্রায় বাস, ট্রেন, লঞ্চ সর্বত্রই কিছু ভিড় হয়। এসব ভিড়ের মধ্যে অযথা ধাক্কাধাক্কি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা। ভিড়ে মানুষ অনেক সময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। অথচ একজন মুসলমানের পরিচয়ই হলো ধৈর্য ও শিষ্টাচার।
ঈদ যাত্রায় রাস্তায় মাঝেমাঝেই যানজটে পড়তে হয়। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা এবং যিকির, দুরুদ শরীফ, ইস্তেগফার পড়তে থাকা।
যানবাহনে আরোহনের সময় সম্ভব হলে ডান পা দিয়ে ওঠা এবং বাম পা দিয়ে নামার চেষ্টা করা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও বাম পা দিয়ে বের হওয়া।
ঈদযাত্রা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়; এটি একজন মুসলমানের চরিত্র প্রকাশেরও একটি ক্ষেত্র। যাত্রাপথেও যদি আমরা ইসলামের আদব ও শিষ্টাচার মেনে চলি, তাহলে আমাদের সফর হবে আরও সুন্দর ও কল্যাণময়।
আল্লাহ আমাদের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করুন এবং সবাইকে সুস্থভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিন।

সমাপ্তির পথে এ বছরের রমজান। আর মাত্র দুই দিন বা তিন দিন পরই শেষ হবে এই বরকতময় মাস। প্রকৃতির বসন্ত যেমন একসময় ফুরিয়ে যায়, তেমনি মানুষের অন্তরের বসন্তও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন মুমিনের জন্য অন্তরের সেই বসন্তের নাম—‘রমজান’।
১ দিন আগে
আজ ২৬ রমজান। সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে ২৭ রমজান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এ রাতটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়। এ রাতের প্রেক্ষাপট ও মহিমা বর্ণনা করে আল কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাযিল হয়েছে, যেখানে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
২ দিন আগে
রমজানের শেষ দশ দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতেকাফ। দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রেখে একান্তই আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ ঘটে ইতেকাফের মাধ্যমে।
৩ দিন আগে
এদিকে রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়—শেষ দশ দিন—ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই দশ দিনের মধ্যেই রয়েছে শবে কদর; কোরআনের ভাষায় যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই রাতগুলোর গুরুত্ব মুসলমানদের কাছে অপরিসীম।
৪ দিন আগে