জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পর্যটকেরা ছুটছেন রাঙামাটির হ্রদ-পাহাড়ে, ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙামাটি

রাঙামাটির একটি পর্যটন কেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি

ঈদুল ফিতর ঘিরে সপ্তাহব্যাপী টানা ছুটিতে হ্রদ-পাহাড়মুখী হচ্ছেন পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুরা। এতে বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে পর্যটকদের পদচারণ মুখর হতে যাচ্ছে পাহাড়। গত বছরের চেয়ে এবার ঈদে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে মনে করছেন পর্যটন কারবার সংশ্লিষ্টরা। পর্যটনদের আগমনকে স্বাগত জানাতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ মালিকরা। ইতিমধ্যে বেশির প্রতিষ্ঠান প্রায় শতভাগ বুকড হয়ে গেছে।

রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুমেত চাকমার মালিকানাধীন বার্গী লেক ভ্যালিতে ১৮-২৯ মার্চ পর্যন্ত কোনো রিসোর্ট খালী নেই। সব বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত ১৩টি রিসোর্ট রয়েছে, সেগুলোতেও ২২-২৮ মার্চ পর্যন্ত সব বুকিং আছে। বলা যায় ছোট-বড় রিসোর্টে বুকিং নিশ্চিত হয়েছে। যেহেতু ছুটির দিন বেশি এবার, সে কারণে পর্যটকরাও লম্বা সময় পেয়ে পাহাড়মুখী হচ্ছেন।’

রাঙামাটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ নয়নাভিরাম কাপ্তাই হ্রদ। জেলার পর্যটনশিল্পের অনেকটাই গড়ে উঠেছে এই হ্রদ কেন্দ্র করে। এখানকার রিসোর্ট-কটেজ, হোটেল-মোটেল, পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হ্রদ ঘেঁষে অবস্থিত। এছাড়া জেলার পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আসামবস্তি ব্রিজ, আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক, বার্গী লেকভ্যালি, রেঙ রিসোর্ট, বড়গাঙ, বেরাইন্না, গাঙ সাবারাং, পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক, সওজের লেকভিউ গার্ডেন, রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট, রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট, জুমকিং ইকো রিসোর্টসহ অন্যান্য।

রাঙামাটিতে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড় ও হ্রদ। সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটিতে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড় ও হ্রদ। সংগৃহীত ছবি

এর বাইরে কাপ্তাই উপজেলায় বেশ কিছু পর্যটন ও পিকনিক স্পট রয়েছে। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয় বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে। সেখানে যাতায়াত করতে হয় খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ওপর দিয়ে। এ কারণে সেখানকার পর্যটন অর্থনীতির আংশিক সুবিধাভোগী খাগড়াছড়ির উদ্যোক্তারা।

রাঙামাটির পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের মোটেল ও কটেজ মিলে মোট ৮৭টি রুম আছে। যাতে ১৭০ জন থাকতে পারবেন। ইতিমধ্যে ২২-২৮ মার্চ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদকেন্দ্রিক ছুটি বেশি। আবার নিরাপত্তা, পরিবেশ ও আবহাওয়া; সব দিক অনুকূলে রয়েছে। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। বিশেষ করে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু রঙ করা হয়েছে। সব দিক বিবেচনায় এ বছর রাঙামাটিতে রেকর্ড পর্যটক সমাগম হতে পারে।’

ঈদ ঘিরে প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা হোটেল-মোটেল বহুমুখী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও রিজার্ভ বাজার এলাকার হোটেল সৈকতের স্বত্বাধিকারী মো. মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এমনিতে রমজানে পাহাড়ে পর্যটক কিছুটা কম আসেন। তবে ঈদ ঘিরে পর্যটকদের সমাগম বাড়ে। এবার ঈদে টানা ছুটিতে রাঙামাটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক উপস্থিতি হতে পারেন। এজন্য রাঙামাটিতে এখন পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়েছে।’

রাঙামাটির অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে হ্রদ কেন্দ্র করে। সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটির অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে হ্রদ কেন্দ্র করে। সংগৃহীত ছবি

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ স্ট্রিমকে বলেন, ‘সাজেকে ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ রিসোর্ট কটেজ বুকিং রয়েছে। কোথাও খালি নেই। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল, তাই তেমন ব্যবসা হয়নি। এ বছর ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।’

টুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি জোনের ইন্সপেক্টর মো. তারিকুল আলম জুয়েল বলেন, ‘ঈদ কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটতে পারে এ বছর। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক সেবা ও নিরাপত্তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া আমাদের টহল টিমের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটক স্পট ও নৌ-ঘাটে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।’

ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম বলেন, ‘রাঙামাটি যেহেতু টুরিস্ট এরিয়া, তাই আমরা পর্যটক খাত নির্ভরশীলদেরও বলছি, পর্যটকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে, যেন তারা নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার না হয়।’

সম্পর্কিত