ছাত্রত্ব শেষ, সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না জাকসুর ভিপি-জিএস

জাবি সংবাদদাতা
জাবি সংবাদদাতা

জাকসুর ভিপি আব্দুর রশীদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলাম (বাম থেকে)। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলাম। আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩-এর ধারা ১৯(১) (ক) অনুযায়ী সিনেটে পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। তবে অধ্যাদেশের ১৯(২) ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব না থাকলে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাখা সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার মাধ্যমে জিএস মাজহারুল ইসলামের ছাত্রত্ব শেষ হয়। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ছাত্রত্ব হারিয়েছেন ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সিনেট অধিবেশনের আগেই জাকসুর (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) শীর্ষ দুই নেতার সদস্যপদ বাতিল হয়ে গেছে।

এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর জাকসু সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাকসুর ৩য় কার্যনির্বাহী সভায় পাঁচজন প্রতিনিধিকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। মনোনীত সদস্যরা হলেন—জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জিএস মাজহারুল ইসলাম, এজিএস-পুরুষ ফেরদৌস আল হাসান, এজিএস-নারী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক শাফায়েত মীর।

ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব না থাকায় বাকি ৩ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সিনেট অধিবেশনে অংশ নেবেন বলে স্ট্রিমকে জানিয়েছেন জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সে কারণে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিনেটে যাব না।’

তাঁদের জায়গায় নতুন প্রতিনিধি মনোনীত করার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জিতু বলেন, ‘নতুন কাউকে মনোনীত করার সুযোগ নেই। উপাচার্য স্যার এই বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা ৫ জন নিয়ম অনুযায়ী মনোনীত হয়েছি। এখন যদি নতুন ২ জনকে সুযোগ দেওয়া হয় তবে প্রতিনিধি সংখ্যা হবে ৭ জন। তাই এটি আর সম্ভব নয়।’

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় আমাদের জানিয়েছেন নীতিগতভাবে সিনেটে আমার এবং জিতু ভাইয়ের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অংশ নেব না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসু সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তাঁদের সিনেট অধিবেশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। সিনেট সদস্যপদ সংক্রান্ত গঠনতন্ত্রের সঙ্গে জাকসুর গঠনতন্ত্রের একটি সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। সিনেটের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব শেষ হলে তাঁদের সদস্যপদও বাতিল হয়ে যায়। তবে একই পরিস্থিতিতে জাকসুর সদস্যপদ বহাল থাকে। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করেছি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত