আলমডাঙ্গা

বিদ্যালয়ের অস্থায়ী পথটিও বন্ধ, কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৬: ০৯
বিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রবেশ পথে ইট দিয়ে তৈরি করা ব্যারিকেট। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা সদরে অবস্থিত পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আঞ্চলিক মহাসড়কের মাত্র আড়াইশ গজ দূরের এই বিদ্যালয়ে যাতায়াতে কোনো রাস্তা নেই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্যের জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করত তারা। সম্প্রতি সেই রাস্তায় ইট রেখে দেয়াল তুলেছেন জমির মালিক। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকেরা বলছেন, একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে প্রতি বছর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। গত তিন বছরে ক্রমহ্রাসে ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৫ জনে।

শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন এলাকা বিবেচনায় দেশে দেড় হাজার নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। এর আওতায় ২০১৫ সালে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ২৫০ গজ দূরে স্থাপিত হয় পৌর বাস টার্মিনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ জন্য ৩০ একর জায়গা দেয় আলমডাঙ্গা পৌরসভা। তবে সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।

শুরুতে মহাসড়ক সংস্কারের সময় তোলা ইটে দুজনের জমির ওপর দিয়ে একটি অস্থায়ী রাস্তাটি নির্ধারণ করা হয়। পরে রাস্তাটি পাকা করতে গেলে বাধা নেন জমির মালিকেরা। সম্প্রতি তারা রাস্তায় ইটের স্তূপ রেখে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থী সিহাব হোসেন বলে, ‘আমাদের স্কুলের যাওয়া-আসার সড়কের ওপর ইট দিয়ে রেখেছে। আমরা পথ দিয়ে স্কুলের যেতে পারছি না। খুব সমস্য হচ্ছে।’ আরেক শিক্ষার্থী আয়েশা খাতুন বলে, ‘অন্য রাস্তা ঘুরে আমাদের স্কুলে আসতে হচ্ছে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ হওয়ার কারণে আমার বন্ধুরা আসতে পারছে না।’

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহিনুর রহমান বলেন, 'বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো উপযুক্ত সড়ক না থাকায় শিশুদের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে তাদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘এই স্কুলের যে সড়ক আছে, তার মাঝখানে ইট তুলে দিয়েছে। এতে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। এর একটা সমাধান হওয়া উচিত।’

জমির মালিক জাবুর আলীর দাবি, মালিকানা স্বত্ব বুঝে নিতে তোলা হয়েছে ইট। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছি। তাই রাস্তার মাঝখান ইট থেকে সড়ানোর প্রশ্নই আসে না।’

এদিকে বিদ্যালয়টিতে তিন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা পড়ে। চার কক্ষের একটি ভবনে চলে পাঠদান। প্রতিষ্ঠার এক দশকে বছরে ২০২৩ সালে এখানে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী ছিল ৯৫ জন। তবে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ৮৫ ও ২০২৫ সালে ৭৫ জনে নেমে আসে। চলতি বছর এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে৷

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনোয়ারা খুশি বলেন, 'বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তার অভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হওয়া দরকার।’

সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরা খাতুন বলেন, ‘এই রাস্তার কারণে আমাদের দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। রাস্তা না থাকাতে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে দিচ্ছে না।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আলাউদ্দিন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে জটিলতা সমাধানে আমি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত বিদ্যালয়ের রাস্তাটি ঠিক করা হবে। আমরা শতভাগ ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিত নিশ্চিতের চেষ্টা করছি।’

আলমডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘রাস্তার জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। ওই মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, ‘প্রতিটা শিক্ষার্থীদের আমাদের বিদ্যালয়মুখী করতে হবে। রাস্তা নিয়ে ঝামেলা সমাধানের চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে পাশে বিকল্প ভালো সড়ক নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত