৩৪ বছরের বিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষার্থী, সমন্বয়ে চিন্তার ভাজ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
মেহেরপুর

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২৫
মাত্র দুই শিক্ষার্থীকে পাঠদানে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি
মাত্র দুই শিক্ষার্থীকে পাঠদানে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

প্রতিষ্ঠা ১৯৯২ সালে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ১৪। সরকারি নিয়মে এভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। ফলে মেহেরপুর সদরের নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যটির সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নিকটবর্তী যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমন্বয় হবে, সেটি তিন কিলোমিটার দূরে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের পক্ষে এতদূরে গিয়ে পড়ালেখা করা সম্ভব নয়। অভিভাবকেরাও শিশুসন্তানদের দূরে পাঠাতে রাজি নন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র বলেন, ৫০ শিক্ষার্থী না থাকলে সেটি নিকটবর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে। নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই তালিকায় রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে খালপাড়ায় ৩০টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের ১৪ সন্তান বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩, প্রথম শ্রেণিতে ২, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে একজন।

মেহেরপুর সদরের সীমান্তবর্তী নবীনগর গ্রামের খালপাড়া অংশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। ৩৪ বছর আগে সিরাজুল ইসলাম নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিনিই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়।

নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। স্ট্রিম ছবি
নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। স্ট্রিম ছবি

স্থানীয়রা জানান, এক সময় নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করত। ২০০৩ সালে ভারত সরকার কাঁটাতারের বেড়া দিলে দেশটির ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রায় ২০০ পরিবারের শিশুদের এখানে আসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন সময় ছয়টি পরিবার অন্যত্র চলে যায়।

বর্তমানে খালপাড়ায় ৩০টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের ১৪ সন্তান বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩, প্রথম শ্রেণিতে ২, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে একজন।

স্থানীয় অভিভাবক মোহাম্মদ খোদাবক্স বলেন, ‘স্কুল যখন হয়েছিল, তখন ছাত্রছাত্রী অনেক ছিল। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সময় দুই শতাধিক পরিবার ওপারে চলে যায়। এরপর থেকেই স্কুল ফাঁকা হতে শুরু করে। এখন যা শুনছি, তা ঘটলে সন্তানদের খুব ক্ষতি হবে।’

বিদ্যালয়ে ২০১২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের জন্য একটি এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ছয় শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়। এ সময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহামম্মদ মিঠু বলে, ‘আমাদের দূরের স্কুলে পাঠানো হলে আর লেখাপড়া করব না। এত দূরে আমরা যেতে পারব না।’

প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম হলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুই শিফটে ক্লাস নিতে হয়। বর্তমানে পাঁচ শিক্ষক কর্মরত। সমন্বয় হলে কিছুটা ঝামেলা হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত