তরুণকে ডেকে বাইক কেড়ে নিয়ে দেননি তুহিন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুমিল্লা

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৫১
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আটক তুহিন হোসেন। ইনসেটে অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আটক তুহিন হোসেন। ইনসেটে অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক তুহিন হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি আইফোন উদ্ধার করেছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিলেন।

নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছিলেন, আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম।

পুলিশের দেওয়া সিসিটিভির ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে ক্যাপ মাথায় তুহিনকে ঘুরতে দেখা যায়। পরে আটক করে তাঁর দেওয়া তথ্যে এই ঘটনায় আরও দুজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

তুহিনকে আটকের পর তাঁর বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আসাদুল্লা সোহাগ (২১) ফেসবুক পোস্টে সেই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। আসাদুল্লা সোহাগের অভিযোগ, অপ্রতিমের মতোই ডেকে নিয়ে তাঁর মোটরসাইকেল কেড়ে নিয়েছিলেন তুহিন। পরে পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

‘চোর তুহিন থেকে আজকে সে খুনি তুহিন!’ শিরোনামে আসাদুল্লা সোহাগ লেখেন, সে (তুহিন) একইভাবে ডেকে এনে কৌশলে আমার বাইকটি নিয়ে যায়। ওর বিরুদ্ধে আমি মামলা করতে গিয়েছিলাম, সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ শুধু একটি জিডি নিয়েছিল। কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাদের বলেছিল– ওর মাথার ওপর নাকি কোনো এক রাজনৈতিক দলের বড় নেতার হাত আছে। তাই ওকে যেন কিছু করা না হয়!

আসাদুল্লা সোহাগের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট
আসাদুল্লা সোহাগের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

তিনি লেখেন, আমি সেদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু আজ বলব– দেশের পুলিশের শুধু পোশাকই পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র নয়। টাকা ছাড়া এই দেশে কোনো কিছুর বিচার পাওয়া যায় না। আমার বাইক চুরি গেছে। সেটি নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই। কিন্তু আমি মনে করি, ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলেই অপরাধীরা পরে বড় অপরাধ করার সাহস পায়। সেদিন যেই নেতার পাওয়ার দেখিয়ে ওকে আইন থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, আজ ওকে কীভাবে বাঁচাবেন?

JusticeForOprotim হ্যাশট্যাগ দিয়ে আসাদুল্লা তাঁর পোস্টে থানায় অভিযোগপত্রের কপি, চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল এবং তুহিনের ছবি ও একটি ফটোকার্ড সংযুক্ত করেছেন।

গত বছরের এপ্রিলে সোহাগের মা মরিয়ন আক্তারের করা জিডির কপির তথ্য অনুযায়ী, তুহিন হোসেনের বয়স ছিল ১৯ বছর। সোহাগ এবং তুহিন পূর্বপরিচিত। গত বছরের ২৭ মার্চ সোহাগকে পরিবার ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় সুজুকি মনোটন মডেলের একটি মোটরসাইকেল কিনে দেয়।

জিডিতে বলা হয়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে বিবাদী (তুহিন) আমার ছেলের মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য ফোন করে ডাকলে সে সেটি দেয়। এরপর পাশেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি দোকানে বসে। কিছুক্ষণ পরে তুহিন এসে আমার ছেলেকে জানান– মোটরসাইকেলটি তার কাছে নেই। এরপর আর সেটি ফেরত দেননি। অনেক চেষ্টা এবং এলাকার গণ্যমান্য লোকজন ধরেও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে না পেরে থানায় আসতে হলো বলে উল্লেখ করেন মরিয়ম আক্তার।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত