এসএসসি পরীক্ষা

অংশ নিচ্ছে না নিবন্ধিত সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী, থাকছে যেসব নির্দেশনা

যানজট এড়াতে সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ০০
এসএসসি পরীক্ষার ফাইল ছবি

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা।

যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য এবার পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ–সংক্রান্ত আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে নিজ আসনে গ্রহণ করতে হবে।

নিবন্ধিত সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় নেই

এবারের পরীক্ষার পরিসংখ্যানে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।

গেলবারের তুলনায় এবার এসএসসি ও সমমানে ৭৯ হাজার ২৩৫ জন পরীক্ষার্থী কমেছে। এবার মোট পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন দুই বছর আগে (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। কিন্তু এবার নিয়মিত হিসেবে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ, নিবন্ধিত প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষা দিচ্ছে না। তারা হয় ঝরে গেছে, না হয় আগের ক্লাসে রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, এবার কেন এত পরীক্ষার্থী কম হলো, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। তবে গত বছর অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছিল, তাদের বড় অংশেরই বাল্যবিবাহ হয়েছিল।

সব মিলিয়ে এবার মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে চার লাখের বেশি।

পরীক্ষা বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও পরে রচনামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

পরীক্ষার্থীকে রচনামূলক, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। উত্তরপত্র কোনো অবস্থাতেই ভাঁজ করা যাবে না।

পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।

কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ মে পর্যন্ত এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ১৮ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক উত্তরপত্র ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে বলে বোর্ড জানিয়েছে।

বিষয়:

পরীক্ষা

সম্পর্কিত