‘জুলাই জঙ্গি’ লিখে ফেসবুকে জাবি ছাত্রের পোস্ট, পুলিশে দিল প্রশাসন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাবি

শারাফাত শারিক। ছবি: স্ট্রিম

ফেসবুকে ‘জুলাই জঙ্গি’ লিখে পোস্ট দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক হওয়া শারাফাত শারিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র।

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শারাফাত শারিক ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে, দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, শত শত নিরীহ মানুষের লাশের ওপর পাড়া মেরে রাজনীতি করা জুলাই জঙ্গিদের পতন সময়ের ব্যাপার। সত্য প্রকাশিত হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সত্যবাদীদের সঙ্গে আছেন।’

পোস্টের শেষে তিনি ‘জুলাই মুর্দাবাদ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ’, ‘জয় বাংলা’, ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান যোগ করেন।

পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে বেলা ১২টার দিকে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল সংসদের নেতারা তাকে আটক করে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম আসা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের এজিএস মো. নাদিম মাহমুদ বলেন, শারাফাত শারিক জুলাই আন্দোলন কটাক্ষ করে ফেসবুক পোস্ট করে। তার প্রেক্ষিতে একটা নিউজ হয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলের শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ওই ছেলেকে নিয়ে আমরা বসি। পরে প্রক্টরিয়াল টিম এসে তাকে নিয়ে যায়।

আটক শারাফাত শারিকের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই জঙ্গি’ এবং ‘জুলাই মুর্দাবাদ’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত হয়নি। জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা। সেখানে আঘাত করা আমার উচিত হয়নি। এজন্য আমি অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিক সভা করেছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি আইসিটি আইনের আওতায় অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি তা স্বীকারও করেছেন। আইসিটি আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ছেলেটিকে আইসিটি আইন অনুসারে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, সে আমাদের হেফাজতে আছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত