জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

থাকছে চার হাজার প্রতীকী কবর, আয়নাঘরের নমুনা, নিপীড়নের নথি

স্ট্রিম গ্রাফিক

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তিতে ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ খুলে দেওয়া হচ্ছে। গণভবনে গড়ে তোলা এই জাদুঘর ১৬ বছরের শাসনচিত্র এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস সংরক্ষণের এক অনন্য স্থান হিসেবে প্রদর্শিত হবে। জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে জাদুঘরকে। একদিকে শাসন-নিপীড়নের স্মারক ও নথি, অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন থাকবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানিয়েছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ, প্রদর্শনী ও গবেষণা সুবিধা যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি ও গবেষণাকেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের গবেষক হাসান ইনাম জানান, গণভবনের নিচতলায় একটি বিশেষ কক্ষ সাজানো হয়েছে ‘কলম রুম’ নামে, যেখানে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বৈঠক করতেন। এই ঘরে গত ১৬ বছরের বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর পরিচালিত নিপীড়ন, পিলখানার বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং গণমাধ্যমের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ছোট ছোট প্যানেলে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গণভবন থেকে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো গোয়েন্দা তথ্য—যেমন কারা আন্দোলন পরিচালনা করছে, নিহতদের স্বজনদের রাজনৈতিক পরিচয় বা আন্দোলনের নেতৃত্ব কাদের হাতে ছিল। এছাড়া গত ১৬ বছরের বিভিন্ন নজরদারির নথিও প্রদর্শিত হচ্ছে। এমনকি যেসব র‍্যাব কর্মকর্তা ক্রসফায়ারে অংশ নিতে চাননি এবং অন্যত্র বদলির আবেদন করেছিলেন, সেসব নথিও এখানে স্থান পেয়েছে।

নিচতলার অন্যান্য কক্ষের বর্ণনায় গবেষক হাসান ইনাম বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের শহীদদের স্মরণে একটি ডেডিকেটেড রুম রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের স্মারক ও ছবি রয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার ওপর একটি আলাদা ঘর রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের ওপর পরিচালিত নির্যাতনের ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে পাওয়া নির্যাতনের নানা উপকরণ—যেমন টর্চার চেয়ার ও ইলেকট্রিক শক দেওয়ার সরঞ্জাম প্রদর্শিত হচ্ছে। গুমের ভুক্তভোগীদের স্মারক নিয়ে সাজানো হয়েছে একটি পৃথক ঘর। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা বহুল আলোচিত সেই ‘লাল টেলিফোন’ও রাখা হয়েছে নিজ স্থানে।

দ্বিতীয় তলায় শহীদদের স্মৃতি ও গণমানুষের অংশীদারত্ব

দ্বিতীয় তলার পুরো প্রাঙ্গণে স্থান পেয়েছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মারক। হাসান ইনাম জানান, এখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের নানা মুহূর্ত, ছবি ও গল্প স্থান পেয়েছে। আন্দোলনের নারীদের ভূমিকা ফুটিয়ে তুলতে ‘জুলাই উইমেন’ নামে একটি আলাদা কক্ষ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিবিসি, মনসুন আর্কাইভ, প্রথম আলো ও বাংলাদেশ ফটো আর্কাইভসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সংবাদ ও ছবির আর্কাইভ নিয়ে একটি আলাদা রুম তৈরি করা হয়েছে।

অন্য একটি কক্ষে শহীদদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, তাদের ও তাদের মায়েদের আলোকচিত্র রাখা হয়েছে। ওপরতলায় দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে একটি ছোট লাইব্রেরি, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসসংক্রান্ত বইপত্র পড়ে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আসবাবপত্র ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী

গণভবনের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ে হাসান ইনাম জানান, জাদুঘরে নতুন কোনো আসবাবপত্র তেমন কেনা হয়নি। গণভবনে শেখ হাসিনার ব্যবহৃত আসবাবপত্রের ওপরই গ্যালারি সাজানো হয়েছে। শেখ হাসিনার খাটে ও তাক বা শেলফে রাখা হয়েছে শহীদদের জিনিসপত্র এবং খাটে লিখে রাখা হয়েছে শহীদদের নাম। অন্যদিকে, ৫ আগস্ট গণভবন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া নানা শাড়ি-কাপড় ও বিভিন্ন সামগ্রীর প্রায় অর্ধেকের মতো সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়ে গেছেন, আর যা পাওয়া যায়নি তা অন্যান্য জিনিস দিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

প্রাঙ্গণে প্রতীকী কবর ও আয়নাঘর

ভবনের বাইরের খোলা প্রাঙ্গণ নিয়ে হাসান ইনাম জানান, বাইরে তৈরি করা হয়েছে চার হাজার প্রতীকী কবর। বিগত ১৬ বছরে নিহত, শহীদ ও গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে এই কবরগুলো তৈরি করা হয়েছে, যেগুলোর ফলকে চার হাজার মানুষের নাম রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে গোপন নির্যাতনকেন্দ্র ‘আয়নাঘর’-এর তিনটি ভিন্ন ধরনের প্রতীকী প্রোটোটাইপ এবং চত্বরজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের নানামুখী প্রতীকী ভাস্কর্য।

যা রাখা হয়নি

তবে পরিকল্পনা থাকলেও কিছু উপাদান এই জাদুঘরের প্রদর্শনীতে যুক্ত করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গবেষক বলেছেন, সীমান্তে নিহত ফেলানী স্মরণে যে স্মৃতিস্তম্ভ ছিল, তা আর জাদুঘরে নেই। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহিংসতা তুলে ধরার জন্য নির্ধারিত ‘ক্যাম্পাস ভায়োলেন্স’ সম্পর্কিত ছোট যে কক্ষটিতে তালা মারা ছিল, সেটিও জাদুঘরের মূল প্রদর্শনী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের আরেক কর্মী বলেন, ‘এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় নিশ্চিতই যে তারা ফেলানীর ওই কনটেন্ট রাখবে না। এর কারণও তারা বলে না। জিজ্ঞেস করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।’

৬ আগস্ট খুলবে জুলাই জাদুঘর, যেভাবে যাবেন

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

জাদুঘরে ঢোকার জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিট মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

এদিকে উদ্বোধনের দিনটি বরাদ্দ থাকবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য। এ বিষয়ে আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘উদ্বোধনের প্রথম দিন শুধু জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ জাদুঘর নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। একসঙ্গে অনেক দর্শনার্থী প্রবেশ করলে জাদুঘরের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য সময়ভিত্তিক স্লট বরাদ্দ থাকবে। অনলাইনে আবেদন করে যে স্লট পাওয়া যাবে, সে সময়েই দর্শনার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে।’

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি ৬ আগস্টের বুকিং করতে চান এবং ওই দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে তাকে পরবর্তী কোনো দিনের স্লট নিতে হবে। আবেদনকারী আগেই জানতে পারবেন তিনি কোন সময়ের জন্য জাদুঘরে ঢোকার অনুমোদন পেয়েছেন।’

এ বিষয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের আরেক কর্মী বলেন, এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় নিশ্চিতই যে তারা ফেলানীর ওই কনটেন্ট রাখবে না। এর কারণও তারা বলে না। জিজ্ঞেস করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

৬ আগস্ট খুলবে জুলাই জাদুঘর, যেভাবে যাবেন

আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। আজ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

জাদুঘরে ঢোকার জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

এ দিকে উদ্বোধনের দিনটি বরাদ্দ থাকবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য। এ বিষয়ে আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিন শুধু জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, এ জাদুঘর নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। একসঙ্গে অনেক দর্শনার্থী প্রবেশ করলে জাদুঘরের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য সময়ভিত্তিক স্লট বরাদ্দ থাকবে। অনলাইনে আবেদন করে যে স্লট পাওয়া যাবে, সে সময়েই দর্শনার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি ৬ আগস্টের বুকিং করতে চান, ওই দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে তাকে পরবর্তী কোনো দিনের স্লট নিতে হবে। আবেদনকারী আগেই জানতে পারবেন তিনি কোন সময়ের জন্য জাদুঘরে ঢোকার অনুমোদন পেয়েছেন।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত