leadT1ad

জলবায়ু সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনাগুলো যেন নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে: পরিবেশ উপদেষ্টা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ১০
‘স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন’ সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: এডিবির সৌজন্যে

জলবায়ু সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনাগুলো যেন কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর হয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন’ সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এই অভিযোজন নীতিমালার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের যোগসূত্র তৈরি হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে আমাদের পরিকল্পনাগুলো যেন কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর হয়।’

অনুষ্ঠানটির অন্যতম সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশ ‘স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন’ সংক্রান্ত জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা উন্মোচন করল। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এই নীতিমালার বিস্তারিত প্রচার ও প্রসারের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে গত বছরের মে মাসে মন্ত্রিসভা এই ফ্রেমওয়ার্ক বা নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন খুবই সীমিত এবং প্রতিযোগিতামূলক। এই ফ্রেমওয়ার্ক নিশ্চিত করবে যে প্রতিটি সম্পদ যেন বিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয় এবং বাংলাদেশে অভিযোজন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলতে পারে।’ তিনি ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’ (বিসিডিপি)-কে এই রূপকল্প বাস্তবায়নের উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদী বলেন, ‘এই ফ্রেমওয়ার্ক একটি শক্তিশালী ভিত্তি। তবে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এটি কেবল কাগজের শব্দ হিসেবেই থেকে যাবে। আজকের এই আয়োজন এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সূচনামাত্র।’

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, ‘জাতীয় এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অর্থায়ন যেন সরাসরি স্থানীয় সরকার ও সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে এডিবি সহায়তা করবে। আমাদের লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত পরিবার, ক্ষুদ্র কৃষক, নারী উদ্যোক্তা এবং শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা।’

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার জানান, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সারা দেশে ‘লজিক’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণে দিকনির্দেশনা দেবে।

ছবি: এডিবির সৌজন্যে
ছবি: এডিবির সৌজন্যে

ব্রিটিশ হাই কমিশনের জলবায়ু ও পরিবেশ টিমের প্রধান নাথানিয়েল স্মিথ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নীতিমালা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে পুনরায় জলবায়ু অভিযোজনের অগ্রপথিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট কীর্তন চন্দ্র সাহু বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে স্থিতিস্থাপকতা অর্জনে আঞ্চলিক নেতা হিসেবে কাজ করছে। এই নীতিমালা স্থানীয় সক্ষমতা বাড়াতে এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এডিবির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক পরিচালক অর্ঘ্য সিনহা রায় বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এটি প্রমাণিত যে, জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসের সিদ্ধান্তগুলো যখন স্থানীয় পর্যায়ে নেওয়া হয় এবং সম্পদ স্থানীয় জনগণের হাতে থাকে, তখনই ঝুঁকি সবচেয়ে ভালো মোকাবিলা করা যায়। বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাও এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’

এই এলএলএ নীতিমালা মূলত জাতীয় ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ত জলবায়ু কার্যক্রমকে গতিশীল করার দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এডিবি ছাড়া আরও সহযোগিতা করেছে ব্রিটিশ হাই কমিশনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বিশ্বব্যাংক। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, দেশি-বিদেশি এনজিও, জলবায়ু কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত