leadT1ad

বিবিসির প্রতিবেদন

স্বৈরাচার খেদাল তরুণরা, নির্বাচনে এগিয়ে ‘বুড়োদের দল’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২১
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি দেয়ালচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

জেনারেশন জেড (জেন-জি)-এর আন্দোলনে সূত্র ধরেই বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। পরে সরকার পতন হয়। গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানেও তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল। দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকে তাঁরা গঠন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে দলটি খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। বরং পুরোনো রাজনৈতি দলগুলোই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন রাহাত হোসেন। নিরুপায় হয়ে এক সময় গুলিবিদ্ধ অচেতন বন্ধুকে ফেলেই নিজের জীবন বাঁচান তিনি। যদিও তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ঘটনাটি ছিল ওই বছরের ২০ জুলাইয়ের।

ওই সহিংসতাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দেশব্যাপী এক গণবিক্ষোভে রূপ দেওয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। আর ওই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানী ঢাকা। তার দুই সপ্তাহের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই হাসিনার নির্দেশে চলা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান।

হাসিনার পতন নতুন এক যুগের দেখা মিলবে বলে আশা তৈরি হয়েছিল। আন্দোলনে সরকারের পতনের পর কয়েকজন ছাত্রনেতা অন্তর্বর্তী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীনও হন। তাঁরা যে দাবিতে রাজপথে লড়াই করেছিলেন, তা গড়ার চেষ্টা করেন। হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কয়েক দশকের শাসনের পর ধারণা করা হয়েছিল, তাঁরা দেশটির ভবিষ্যৎ প্রশাসনে বড় ভূমিকা রাখবেন।

কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠেয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের গড়া নতুন দলটি মারাত্মকভাবে বিভক্ত। আবার আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীরাও অনেকটা কোণঠাসা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় অন্য পুরোনো দলগুলোই এখন শূন্যস্থান পূরণ করছে।

রাহাতসহ তরুণ-তরুণী, ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় নির্বিশেষে সবাই ওই গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধ ছিল। শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও, পরে এটি ‘স্বৈরাচারী শাসনের অবসান’ ঘটানোর আন্দোলনে পরিণত হয়।

রাহাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
রাহাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

রাহাত বিবিসিকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার প্রত্যাশিত সেই ‘শান্তি, সাম্য এবং ন্যায়বিচারের সুন্দর বাংলাদেশ’ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অত্যন্ত অনভিজ্ঞ—এমনটা ভাবার ক্ষেত্রে তিনি একা নন। বরং তিনি পুরোনো দল ‘জামায়াতে ইসলামী’র প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।

এই দলটি বিএনপি জোটে ছিল। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে তারা নিজস্ব গতি পেয়েছে। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ।

১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াত সবসময়ই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিজেদের অবস্থানের জন্য বিতর্কিত। জামায়াতের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সহযোগিতার অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেই ইতিহাস রাহাতকে বিচলিত করছে না। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, জামায়াত আধুনিক হয়েছে।

তাঁর মতে, ‘জামায়াত জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গীদের এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়েছে।’

জামায়াতের নেতা শফিকুর রহমান বিবিসিকে বলেছেন, তাঁর দল দুর্নীতি নির্মূল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে দুর্নীতির মাত্রা অনেক বেশি। তাই এই দাবিগুলো অনেকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তৌফিক হক বলেন, ‘তরুণ ভোটারদের অধিকাংশেরই জন্ম একাত্তরের অনেক পরে। তাই তারা জামায়াতকে তার ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখতে পারে এবং একে কোনো “রেড লাইন” বা অগ্রহণযোগ্য মনে করে না।’

সীমা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
সীমা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রজন্মগত বিষয়। তারা এই পুরোনো বিতর্কে আটকে থাকতে চায় না।’

তৌফিকের মতে, তরুণ ভোটাররা বরং এই দলটিকে হাসিনার শাসনের শিকার হিসেবেই দেখেছে। কারণ দলটি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ছিল এবং এর অনেক নেতা কারাগারে ছিলেন।

রাহাত একাই জামায়াতের দিকে ঝুঁকছেন এমন নয়। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন বড় ধরনের জয় পেয়েছে। একে দেশের মানুষের মনোভাবের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো ইসলামপন্থী দল মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এটা ছিল ছাত্রনেতাদের জন্য প্রথম বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত। কারণ বাংলাদেশের প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৪ জনের বয়সই এখন ৩৭ বছরের নিচে।

বিতর্কিত আপস

এনসিপির ওপর আস্থার এই অভাব ছাত্রনেতাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এই ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে এনসিপির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা অনেক ভালো করার আশা করেছিলাম।’

পরিস্থিতি প্রতিকূলে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছর ধরে মাত্র দুটি দল বাংলাদেশ শাসন করেছে... আমরা নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করছি।’

তাই এনসিপি একটি পথ বেছে নিল। আর তা হলো তারা ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের ঘোষণা দিলো।

জামায়াতের মতো এনসিপিও দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের ইশতেহারে তরুণ ভোটারদের জন্য আরও কিছু অঙ্গীকার রয়েছে। যেমন—অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের বিচার নিশ্চিত করা, ভোটাধিকারের বয়স কমিয়ে ১৬ বছর করা এবং কর ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

আসিফ মাহমুদ যুক্তি দেন, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তির জন্য এনসিপি’র জামায়াতের সহায়তা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বলেছি আমরা কোনো ইসলামপন্থী দল নই। এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়।’

গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি দেয়ালচিত্র। ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি দেয়ালচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

তবে জামায়াত এনসিপিকে যে ৩০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ২ জন নারী। অন্যদিকে, জামায়াত ২০০ জনেরও বেশি প্রার্থী দিচ্ছে, যাদের সবাই পুরুষ।

এই আপসের কারণে তাসনিম জারার মতো এনসিপির জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যরা ‘নৈতিক রেড লাইন’ বা সীমা লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই কারণেই তিনি এবং আরও বেশ কয়েকজন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এই ব্যাপারে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সীমা আক্তার (২৫) বলেন, ‘তারা আমাদের একপাশে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিল।’

অভ্যুত্থানে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও সীমা যুক্তি দেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পুরুষশাসিত।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘নারীরা কোথায়?’

অভ্যুত্থানের পর সীমা এবং অন্যান্য নারী কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেইসবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘কিছু মিম ভিডিও ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং হতাশাজনক। আমাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলা হয়েছে, ট্রল করা হয়েছে।’

তাদের নিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওইসব ভিডিওতে তাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিয়ের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে গেছে দাবি করা হয়। এমনকি সীমার গায়ের রঙ নিয়েও আক্রমণ করা হয়েছে।

যদিও দুটি দলই নারীদের সরিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। বরং দাবি করেছে নারী প্রার্থীর এই সংখ্যা বাংলাদেশের ‘সামাজিক কাঠামোর’ ফল। জামায়াতের শফিকুর রহমান যোগ করেন, তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে এটি পরিবর্তন হবে।

সীমা একে ‘কেবল পিতৃতান্ত্রিক এক অজুহাত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। দলটি ২৫০ জনের বেশি প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন নারীকে মনোনীত করেছে। তিনি বলেন, ‘খুব খারাপের চেয়ে এটিই ভালো।’

পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি কি থেকেই যাবে?

এনসিপির প্রতি সমর্থনের অভাব এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। আর দলটি এখন নিজেদের উদার গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে।

আওয়ামী শাসনামলে বিএনপির হাজার হাজার কর্মী ও জ্যেষ্ঠ নেতাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। তবে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বড় দল এখন বিএনপি। এই দলও এনসিপিকে আরও চাপে ফেলেছে।

শেখ হাসিনা ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। তারেক রহমানও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে। খালেদা জিয়া নিজেও ক্ষমতায় এসেছিলেন তার স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর।

বিএনপির সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রার্থী আমীর খাসরু মাহমুদ চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, ‘আপনি কোনো শাসক পরিবার থেকে এসেছেন কি না তা অপ্রাসঙ্গিক।’

কাকতালীয় হলেও এটাই সত্য যে, এই পরিবার তন্ত্রের টিকে থাকাও সম্ভব হয়েছে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের কারণেই। এই অভ্যুত্থানের ফলেই তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরতে পেরেছেন। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি তাঁকে ও তাঁর মাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অবশ্য এসব অভিযোগকে তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন।

তারেক রহমান ভোট পেতে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহারে জামায়াতের সমালোচনা করেছেন। তিনি নির্বাচনে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে তিনি জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কথা বলছেন। আর এই দেশে নতুন ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ বিভাজন দূর করতে কাজ করবে।

হাসিনা ১৫ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখিয়েছেন, কিন্তু ক্রমবর্ধমানভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেছেন। এসবের মধ্যে ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। গত বছর ট্রাইব্যুনাল জুলাই অভ্যুত্থানে দমনের জন্য হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি দেয়ালচিত্র। ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি দেয়ালচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাসন থেকে তিনি তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাও তার সঙ্গে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ দেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আত্মগোপনে থাকা দলটির এক জেলা নেতার সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

শেখ হাসিনা যদি নির্দেশ দেন, তবে দল ও সমর্থকরা নির্বাচন ‘প্রতিরোধ’ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই নেতা বলেন, ‘তিনি যদি সিদ্ধান্ত নেন মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে না, তবে আমরা যাব না। তিনি যদি বলেন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে হবে, তবে আমরা তাই করব।’

তাদের ক্ষমতায় থাকার সময় রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো করেছে, তাকে তিনি ‘মিথ্যা’ এবং ‘বানোয়াট’ অভিহিত করেন।

আগামী সপ্তাহের ভোটের পর শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন তাদের বিপ্লব এবং রক্তক্ষয় সার্থক ছিল কিনা।

বন্ধুকে ফেলে আসার সেই দৃশ্য এখনো রাহাতকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে তিনি এও স্বীকার করেন, তাদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ এখনো আসেনি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি নির্বাচিত সরকার দেশ সংস্কার না করা পর্যন্ত এটি সম্ভব নয়।

তার ভাষায়, ‘এমন ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থা থেকে আমরা কেউ ইতিবাচক কিছু আশা করতে পারি না।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত