আজ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস
আজ ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। আজ আমরা যে আধুনিক লাইব্রেরি দেখি, তার শুরু কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে। তখন মানুষ প্রথম লিখে ইতিহাস ধরে রাখতে শুরু করেছিল। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পৃথিবীর ইতিহাসে গড়ে ওঠা সেই প্রাচীন লাইব্রেরিগুলোর কথা, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল জ্ঞান সংরক্ষণের দীর্ঘ যাত্রা।
অনন্ত রায়হান

মানুষ সভ্য হয়েছে জ্ঞান জমাতে শিখে। যা জানা গেল, তা লিখে রাখা আর পরের প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার এই চেষ্টার সবচেয়ে বড় চিহ্ন হলো লাইব্রেরি। আজ আমরা যে আধুনিক লাইব্রেরি দেখি, তার শুরু কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে। তখন মানুষ প্রথম লিখে ইতিহাস ধরে রাখতে শুরু করেছিল।
সেই সময়ের লাইব্রেরিগুলো ছিল মাটির ফলকে লেখা নথির ভাণ্ডার। এসব ফলকের বয়স প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ বছর। আজ সেই লাইব্রেরিগুলোর প্রায় সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তবু মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু লেখা ও ভাঙা অংশ আমাদের জানিয়ে দেয়, জ্ঞান সংরক্ষণের এই চেষ্টা কতটা পুরোনো।
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরির কথা উঠলেই সামনে আসে প্রাচীন এবলা রাজ্যের রাজকীয় গ্রন্থাগারের নাম। এই লাইব্রেরিটি বর্তমান সিরিয়ার মারদিখ অঞ্চলের কাছে গড়ে উঠেছিল। সময়কাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে ২২৫০ সালের মধ্যে।
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে ইতালির রোমের লা সাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখানে খননকাজ চালান। তারা উদ্ধার করেন প্রায় দুই হাজারটি সম্পূর্ণ মাটির ফলক, চার হাজারের বেশি ভাঙা ফলক এবং আরও প্রায় দশ হাজার ছোট টুকরো। ফলকগুলোর আকার ছিল এক ইঞ্চি থেকে এক ফুটেরও বেশি। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ থেকে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় লিখিত নথির সংগ্রহ বলে ধরা হয়।

এবলা লাইব্রেরিকে অন্য প্রাচীন সংরক্ষণাগার থেকে আলাদা করে তোলে এর সাজানোর ধরন। গবেষণায় দেখা যায়, এখানকার ফলকগুলো এলোমেলোভাবে রাখা হয়নি; বরং ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। বড় ফলকগুলো তাকের ওপর রাখা থাকলেও প্রাসাদ ধ্বংস হওয়ার সময় সেগুলো পড়ে যায়। পরে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ফলকগুলোর অবস্থান দেখে বুঝতে পারেন, কোন বিষয়ের লেখা কোথায় রাখা ছিল।
এই লাইব্রেরির ফলকগুলোতেই প্রথম দেখা যায় ভিন্ন ভাষায় লেখার চেষ্টা, লেখা সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য তালিকা করার ভাবনা, আর আকার ও বিষয় অনুযায়ী লেখাগুলো সাজানোর ধারণা।
উত্তর সিরিয়ার উগারিত শহরের লাইব্রেরিগুলো আমাদের আরেক রকম ছবি দেখায়। খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরিগুলো আবিষ্কৃত হয় ১৯২৯ সালে। খননের সময় প্রত্নতত্ত্ববিদরা বুঝতে পারেন, এখানে একটি নয়, একাধিক লাইব্রেরি ছিল। একটি রাজপ্রাসাদের, একটি মন্দিরের এবং দুটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি
এই ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোর একটি ছিল রাপানু নামের এক কূটনীতিকের। তখন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য লাইব্রেরি থাকা ছিল একেবারেই নতুন ধারণা।
উগারিতের লাইব্রেরিগুলোতে কূটনীতি, আইন, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, সাহিত্য ও ধর্মসংক্রান্ত লেখা পাওয়া গেছে। এখানে অন্তত সাত ধরনের লিপির ব্যবহার দেখা যায়—মিশরীয় ও লুউইয়ান হায়ারোগ্লিফ, সাইপ্রো–মিনোয়ান লিপি এবং সুমেরীয়, আক্কাদীয়, হুরিয়ান ও উগারিত কিউনিফর্ম।

এই শহরের লেখকরাই খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৪০০ সালের দিকে ৩০ অক্ষরের উগারিত বর্ণমালা তৈরি করেন। প্রতিটি অক্ষর একটি করে ধ্বনিকে বোঝাত। দেখতে কিউনিফর্মের মতো হলেও এই বর্ণমালা ছিল আলাদা। ইতিহাসে এটিকেই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বর্ণমালা হিসেবে ধরা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৬৬৮ সালে প্রাচীন আসিরিয়ার রাজধানী নিনেভেতে গড়ে ওঠে আশুরবানিপালের রাজকীয় লাইব্রেরি। দীর্ঘদিন ধরে এই লাইব্রেরিকেই পৃথিবীর প্রথম লাইব্রেরি বা সবচেয়ে পুরোনো টিকে থাকা রাজকীয় গ্রন্থাগার হিসেবে মনে করা হতো।
পরে আরও পুরোনো লাইব্রেরির সন্ধান মিললেও, আশুরবানিপালের লাইব্রেরি ছিল প্রথম দিককার এমন একটি জায়গা, যেখানে লেখাগুলোকে নিয়ম মেনে সাজানো হয়েছিল। নব্য আসিরীয় সাম্রাজ্যের শেষ মহান রাজা আশুরবানিপাল সাম্রাজ্য স্থিতিশীল হওয়ার পর এই লাইব্রেরি গড়ে তোলেন।

এই লাইব্রেরিতে চিকিৎসা, পুরাণ, জাদুবিদ্যা, বিজ্ঞান, কবিতা ও ভূগোলসহ নানা বিষয়ের লেখা সংরক্ষিত ছিল। এই লাইব্রেরি থেকেই পাওয়া গেছে ‘এপিক অব গিলগামেশ’, যার বড় একটি অংশ অক্ষত আছে। এটিকেই পৃথিবীর ইতিহাসে টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্যকর্ম হিসেবে ধরা হয়। এখান থেকে ত্রিশ হাজারেরও বেশি মাটির ফলক ও ভাঙা অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লাইব্রেরি নিঃসন্দেহে আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরিটি তখনকার বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রের অংশ ছিল।
বলা হয়, নিনেভেতে আশুরবানিপালের লাইব্রেরি দেখে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট নিজের একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি যে সব অঞ্চল জয় করেছিলেন, সেখানকার লেখা সংগ্রহ করে সেগুলো গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করে রাখতে চেয়েছিলেন।

আলেকজান্ডার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেখেননি। পরে তাঁর সেনাপতি টলেমি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের দিকে আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি নির্মাণ শুরু করেন। এই লাইব্রেরি তখনকার সময়ের প্রায় সব জ্ঞান সংগ্রহ ও প্যাপিরাস স্ক্রোলে সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সালে রোমানরা মিশর দখল করার পর এই লাইব্রেরি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে নষ্ট হয় হাজার হাজার অমূল্য স্ক্রোল।
প্রাচীন গ্রিসের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নগরীগুলোর একটি ছিল পারগামুম বা পারগামন। আজকের তুরস্কের বারগামা এলাকায় অবস্থিত এই শহরটি আলেকজান্দ্রিয়া ও অ্যান্টিওকের পর বড় জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৯৭ সালে এখানে একটি বিশাল লাইব্রেরি গড়ে ওঠে।
গ্রিক লেখক প্লুটার্কের মতে, পারগামুমের লাইব্রেরিতে প্রায় দুই লাখ বই ছিল। তবে আজ এর কোনো সূচি বা ক্যাটালগ পাওয়া যায় না। তাই সংগ্রহের সঠিক আকার জানা যায় না। ফ্লাভা মেলিটেনে এই লাইব্রেরির জন্য বই ও পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে বড় ভূমিকা রাখেন। তিনি লাইব্রেরিতে রোমান সম্রাট হ্যাড্রিয়ানের একটি মূর্তিও উপহার দিয়েছিলেন।

মানুষ সভ্য হয়েছে জ্ঞান জমাতে শিখে। যা জানা গেল, তা লিখে রাখা আর পরের প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার এই চেষ্টার সবচেয়ে বড় চিহ্ন হলো লাইব্রেরি। আজ আমরা যে আধুনিক লাইব্রেরি দেখি, তার শুরু কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে। তখন মানুষ প্রথম লিখে ইতিহাস ধরে রাখতে শুরু করেছিল।
সেই সময়ের লাইব্রেরিগুলো ছিল মাটির ফলকে লেখা নথির ভাণ্ডার। এসব ফলকের বয়স প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ বছর। আজ সেই লাইব্রেরিগুলোর প্রায় সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তবু মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু লেখা ও ভাঙা অংশ আমাদের জানিয়ে দেয়, জ্ঞান সংরক্ষণের এই চেষ্টা কতটা পুরোনো।
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরির কথা উঠলেই সামনে আসে প্রাচীন এবলা রাজ্যের রাজকীয় গ্রন্থাগারের নাম। এই লাইব্রেরিটি বর্তমান সিরিয়ার মারদিখ অঞ্চলের কাছে গড়ে উঠেছিল। সময়কাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে ২২৫০ সালের মধ্যে।
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে ইতালির রোমের লা সাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখানে খননকাজ চালান। তারা উদ্ধার করেন প্রায় দুই হাজারটি সম্পূর্ণ মাটির ফলক, চার হাজারের বেশি ভাঙা ফলক এবং আরও প্রায় দশ হাজার ছোট টুকরো। ফলকগুলোর আকার ছিল এক ইঞ্চি থেকে এক ফুটেরও বেশি। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ থেকে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় লিখিত নথির সংগ্রহ বলে ধরা হয়।

এবলা লাইব্রেরিকে অন্য প্রাচীন সংরক্ষণাগার থেকে আলাদা করে তোলে এর সাজানোর ধরন। গবেষণায় দেখা যায়, এখানকার ফলকগুলো এলোমেলোভাবে রাখা হয়নি; বরং ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। বড় ফলকগুলো তাকের ওপর রাখা থাকলেও প্রাসাদ ধ্বংস হওয়ার সময় সেগুলো পড়ে যায়। পরে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ফলকগুলোর অবস্থান দেখে বুঝতে পারেন, কোন বিষয়ের লেখা কোথায় রাখা ছিল।
এই লাইব্রেরির ফলকগুলোতেই প্রথম দেখা যায় ভিন্ন ভাষায় লেখার চেষ্টা, লেখা সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য তালিকা করার ভাবনা, আর আকার ও বিষয় অনুযায়ী লেখাগুলো সাজানোর ধারণা।
উত্তর সিরিয়ার উগারিত শহরের লাইব্রেরিগুলো আমাদের আরেক রকম ছবি দেখায়। খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরিগুলো আবিষ্কৃত হয় ১৯২৯ সালে। খননের সময় প্রত্নতত্ত্ববিদরা বুঝতে পারেন, এখানে একটি নয়, একাধিক লাইব্রেরি ছিল। একটি রাজপ্রাসাদের, একটি মন্দিরের এবং দুটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি
এই ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোর একটি ছিল রাপানু নামের এক কূটনীতিকের। তখন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য লাইব্রেরি থাকা ছিল একেবারেই নতুন ধারণা।
উগারিতের লাইব্রেরিগুলোতে কূটনীতি, আইন, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, সাহিত্য ও ধর্মসংক্রান্ত লেখা পাওয়া গেছে। এখানে অন্তত সাত ধরনের লিপির ব্যবহার দেখা যায়—মিশরীয় ও লুউইয়ান হায়ারোগ্লিফ, সাইপ্রো–মিনোয়ান লিপি এবং সুমেরীয়, আক্কাদীয়, হুরিয়ান ও উগারিত কিউনিফর্ম।

এই শহরের লেখকরাই খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৪০০ সালের দিকে ৩০ অক্ষরের উগারিত বর্ণমালা তৈরি করেন। প্রতিটি অক্ষর একটি করে ধ্বনিকে বোঝাত। দেখতে কিউনিফর্মের মতো হলেও এই বর্ণমালা ছিল আলাদা। ইতিহাসে এটিকেই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বর্ণমালা হিসেবে ধরা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৬৬৮ সালে প্রাচীন আসিরিয়ার রাজধানী নিনেভেতে গড়ে ওঠে আশুরবানিপালের রাজকীয় লাইব্রেরি। দীর্ঘদিন ধরে এই লাইব্রেরিকেই পৃথিবীর প্রথম লাইব্রেরি বা সবচেয়ে পুরোনো টিকে থাকা রাজকীয় গ্রন্থাগার হিসেবে মনে করা হতো।
পরে আরও পুরোনো লাইব্রেরির সন্ধান মিললেও, আশুরবানিপালের লাইব্রেরি ছিল প্রথম দিককার এমন একটি জায়গা, যেখানে লেখাগুলোকে নিয়ম মেনে সাজানো হয়েছিল। নব্য আসিরীয় সাম্রাজ্যের শেষ মহান রাজা আশুরবানিপাল সাম্রাজ্য স্থিতিশীল হওয়ার পর এই লাইব্রেরি গড়ে তোলেন।

এই লাইব্রেরিতে চিকিৎসা, পুরাণ, জাদুবিদ্যা, বিজ্ঞান, কবিতা ও ভূগোলসহ নানা বিষয়ের লেখা সংরক্ষিত ছিল। এই লাইব্রেরি থেকেই পাওয়া গেছে ‘এপিক অব গিলগামেশ’, যার বড় একটি অংশ অক্ষত আছে। এটিকেই পৃথিবীর ইতিহাসে টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্যকর্ম হিসেবে ধরা হয়। এখান থেকে ত্রিশ হাজারেরও বেশি মাটির ফলক ও ভাঙা অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লাইব্রেরি নিঃসন্দেহে আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরিটি তখনকার বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রের অংশ ছিল।
বলা হয়, নিনেভেতে আশুরবানিপালের লাইব্রেরি দেখে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট নিজের একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি যে সব অঞ্চল জয় করেছিলেন, সেখানকার লেখা সংগ্রহ করে সেগুলো গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করে রাখতে চেয়েছিলেন।

আলেকজান্ডার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেখেননি। পরে তাঁর সেনাপতি টলেমি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের দিকে আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি নির্মাণ শুরু করেন। এই লাইব্রেরি তখনকার সময়ের প্রায় সব জ্ঞান সংগ্রহ ও প্যাপিরাস স্ক্রোলে সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সালে রোমানরা মিশর দখল করার পর এই লাইব্রেরি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে নষ্ট হয় হাজার হাজার অমূল্য স্ক্রোল।
প্রাচীন গ্রিসের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নগরীগুলোর একটি ছিল পারগামুম বা পারগামন। আজকের তুরস্কের বারগামা এলাকায় অবস্থিত এই শহরটি আলেকজান্দ্রিয়া ও অ্যান্টিওকের পর বড় জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৯৭ সালে এখানে একটি বিশাল লাইব্রেরি গড়ে ওঠে।
গ্রিক লেখক প্লুটার্কের মতে, পারগামুমের লাইব্রেরিতে প্রায় দুই লাখ বই ছিল। তবে আজ এর কোনো সূচি বা ক্যাটালগ পাওয়া যায় না। তাই সংগ্রহের সঠিক আকার জানা যায় না। ফ্লাভা মেলিটেনে এই লাইব্রেরির জন্য বই ও পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে বড় ভূমিকা রাখেন। তিনি লাইব্রেরিতে রোমান সম্রাট হ্যাড্রিয়ানের একটি মূর্তিও উপহার দিয়েছিলেন।

আজ থেকে ২২ বছর আগে ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়েছিল। হার্ভার্ডের একটি ডরমরুমে শুরু হওয়া সেই ছোট উদ্যোগ কীভাবে ধীরে ধীরে বদলে দিল যোগাযোগের ভাষা। আর কেন আজও সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় ফেসবুক সবচেয়ে প্রভাবশালী? ফেসবুকের জন্ম, উত্থান ও সাফল্যের সেই গল্পই আজকের আয়োজন।
১৯ ঘণ্টা আগে
হিগস বোসন বা ‘ঈশ্বর কণা’ নামের পেছনে যে একজন বাঙালি বিজ্ঞানীর গল্প আছে, তা অনেকেই জানেন না। তাঁর নাম সত্যেন্দ্রনাথ বসু। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুদিন। তাঁর অবদান স্বীকার করে লিখেছিলেন স্বয়ং বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আবিষ্কারেই বিশ্বজয় বিজ্ঞানীদের, কিন্তু তারপরও সত্যেন বসু নোবেল
২১ ঘণ্টা আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর চতুর্থ পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
১ দিন আগে
জঙ্গলে পথ হারিয়ে গেলে হাঁটতে থাকুন, কিছু না কিছু তো পাবেনই। না খেয়ে কয়েক সপ্তাহ বাঁচা যায়, তাই ক্ষুধা কোনো বড় বিষয় নয়। বন্যপ্রাণী আক্রমণ করলে মড়ার মতো পড়ে থাকুন। তাড়াতাড়ি সাহায্য না এলে ধরে নিতে হবে কেউ আসবে না।
২ দিন আগে