স্ট্রিম ডেস্ক

প্রায় প্রতিবর্ষায় বন্যা আসে। এ বছরও জুলাই মাসে টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় মারা গেছেন অন্তত ৫১ জন।
এইসব মৃত্যু, বন্যা ও দুর্যোগ মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যাকে। মোহাম্মদপুরে স্বপ্নধারা হাউজিংয়ের মুদি দোকানি ৭৫ বছর বয়সী এমদাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল। জীবনে বহু বন্যা দেখেছি। ৮৮ আর ৯৮ সালের বন্যার মতো বন্যা জীবনে দেখি নাই।’
বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই দুটি বন্যার সঙ্গে এ বছরের বন্যার কি কোনো মিল আছে?
১৯৮৮ সালের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। ওই বছর অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণের পাশাপাশি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—তিনটি প্রধান নদীর উচ্চ প্রবাহ প্রায় একই সময়ে মিলিত হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ প্লাবিত হয়েছিল। বন্যাটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন স্থায়ী হলেও এর ধাক্কা ছিল ব্যাপক। রাজধানী ঢাকার বড় অংশও পানির নিচে চলে যায় এবং সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের মতো। ভারী বর্ষণ, উজানের পানি এবং প্রধান নদীগুলোর সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল এর স্থায়িত্ব। প্রায় ৬৫ দিন ধরে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ছিল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাস্তুচ্যুত হয়। কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
চলতি বছরের বন্যা ভয়াবহ হলেও এর ধরন ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ সালের মতো নয়। এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধস মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক জেলা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রমে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে অংশ নিতে হয়েছে।
প্রায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাতটি জেলায় কয়েক লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ সালের মতো এখনো দেশব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী নদীবন্যায় পরিণত হয়নি।
তিনটি বন্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায় বিস্তৃতি, স্থায়িত্ব এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরনে।
১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি বৃহৎ নদীবন্যা। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের বন্যার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল এর দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী থাকা, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে মাসের পর মাস বিপর্যস্ত করে রাখে।
আর চলতি মৌসুমের বন্যায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে অঞ্চলভিত্তিক তীব্রতা। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে কয়েক দিনের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মারা গেছে অন্তত ৫১ জন। তবে এখন পর্যন্ত দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা একসঙ্গে পানির নিচে চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এমদাদ হোসেন শুধু মুদি দোকানিই নন, তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায়। এমদাদ বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যা আমাদের শিখিয়েছিল নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব। ১৯৯৮ সালের বন্যা দেখিয়েছিল দীর্ঘস্থায়ী প্লাবন কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন থামিয়ে দিতে পারে। আর ২০২৬ সালে আমরা দেখছি শুধু বড় নদীর পানি নয়; পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতাও এখন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় প্রতিবর্ষায় বন্যা আসে। এ বছরও জুলাই মাসে টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় মারা গেছেন অন্তত ৫১ জন।
এইসব মৃত্যু, বন্যা ও দুর্যোগ মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যাকে। মোহাম্মদপুরে স্বপ্নধারা হাউজিংয়ের মুদি দোকানি ৭৫ বছর বয়সী এমদাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল। জীবনে বহু বন্যা দেখেছি। ৮৮ আর ৯৮ সালের বন্যার মতো বন্যা জীবনে দেখি নাই।’
বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই দুটি বন্যার সঙ্গে এ বছরের বন্যার কি কোনো মিল আছে?
১৯৮৮ সালের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। ওই বছর অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণের পাশাপাশি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—তিনটি প্রধান নদীর উচ্চ প্রবাহ প্রায় একই সময়ে মিলিত হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ প্লাবিত হয়েছিল। বন্যাটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন স্থায়ী হলেও এর ধাক্কা ছিল ব্যাপক। রাজধানী ঢাকার বড় অংশও পানির নিচে চলে যায় এবং সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের মতো। ভারী বর্ষণ, উজানের পানি এবং প্রধান নদীগুলোর সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল এর স্থায়িত্ব। প্রায় ৬৫ দিন ধরে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ছিল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাস্তুচ্যুত হয়। কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
চলতি বছরের বন্যা ভয়াবহ হলেও এর ধরন ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ সালের মতো নয়। এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধস মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক জেলা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রমে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে অংশ নিতে হয়েছে।
প্রায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাতটি জেলায় কয়েক লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ সালের মতো এখনো দেশব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী নদীবন্যায় পরিণত হয়নি।
তিনটি বন্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায় বিস্তৃতি, স্থায়িত্ব এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরনে।
১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি বৃহৎ নদীবন্যা। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের বন্যার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল এর দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী থাকা, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে মাসের পর মাস বিপর্যস্ত করে রাখে।
আর চলতি মৌসুমের বন্যায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে অঞ্চলভিত্তিক তীব্রতা। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে কয়েক দিনের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মারা গেছে অন্তত ৫১ জন। তবে এখন পর্যন্ত দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা একসঙ্গে পানির নিচে চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এমদাদ হোসেন শুধু মুদি দোকানিই নন, তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায়। এমদাদ বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যা আমাদের শিখিয়েছিল নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব। ১৯৯৮ সালের বন্যা দেখিয়েছিল দীর্ঘস্থায়ী প্লাবন কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন থামিয়ে দিতে পারে। আর ২০২৬ সালে আমরা দেখছি শুধু বড় নদীর পানি নয়; পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, ভূমিধস এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতাও এখন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
.png)

গত ৪০ দিনে রাজধানী ঢাকা এবং ভারতের আসামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে, যার অধিকাংশই বিদেশি। ধরা পড়েছেন পাচার চক্রের একাধিক সদস্য। পাচারের ধরন, আটক ব্যক্তিদের বয়ান এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের একটি নি
০৭ জুলাই ২০২৬
কোনো বন্য প্রাণীকে উদ্ধার করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। কিন্তু এরপর কী ঘটে? নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, সব ক্ষেত্রে বনে ফিরে পাওয়া স্বাধীনতা নিরাপদ নয়। অনেক সময় সেটিই প্রাণীদের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ হতে পারে।
০৭ জুলাই ২০২৬
একসময় বাংলাদেশের বন-জঙ্গল, তৃণভূমি আর জলাভূমি ছিল বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ঘাসভূমিতে দৌড়ে বেড়াত নীলগাই, সুন্দরবনের আশপাশে বিচরণ করত একশৃঙ্গ গন্ডার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বনে ঘুরে বেড়াত বনমহিষ।
০৭ জুলাই ২০২৬
সারা দিনের কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমের পর মানুষ অপেক্ষায় থাকে রাতের একটু শীতলতার। কিন্তু সেই স্বস্তিটুকুও এখন আর মিলছে না। বরং দিনের চেয়ে রাতের তাপমাত্রা এখন বাড়ছে আরও দ্রুতগতিতে।
২৩ জুন ২০২৬