এক্সপ্লেইনার/বেতন-ভাতা বাড়বে চার ধাপে, কোন ধাপে কত শতাংশ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৪২
সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে। স্ট্রিম গ্রাফিক
সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে। স্ট্রিম গ্রাফিক

মাসের শুরুতে বেতন হাতে এলেই স্বস্তি ফেরে কর্মজীবীদের জীবনে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, বাজার-সদাই, সন্তানের পড়াশোনা, যাতায়াত, চিকিৎসার খরচ ইত্যাদি নানা খাতে এক এক করে বেতনের বড় অংশ চলে যায়। মাসের শেষ দিকে এসে তখন শুরু হয় নতুন হিসাব— কোন খরচটি এখন না করলেও চলবে, কোনটি পরের মাস পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায়।

এই বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেলের দিকে দীর্ঘদিন ধরে তাকিয়ে আছেন দেশের সরকারি কর্মচারীরা। সর্বশেষ জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় এক যুগে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ বেড়েছে অনেকটাই। সেই তুলনায় বদলায়নি মূল বেতন কাঠামো। ফলে নতুন পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের কাছে শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; বরং বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য ফেরানোর প্রত্যাশাও।

তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মূল বেতন বাড়বে তিন ধাপে, আর ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে পরে।

প্রথম ধাপে কতটা বাড়বে

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেলের মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬, ১ জানুয়ারি ২০২৭ এবং ১ জুলাই ২০২৭ এই তিন পর্যায়ে মূল বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। ফলে মূল বেতন বৃদ্ধির তিন ধাপের সঙ্গে ভাতা কার্যকরের সময়টিকে আলাদা করে ধরলে মোট চারটি পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে।

অবসরভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে সুবিধা কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি হবে। এ জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর সেটিও ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কারা আগে সুবিধা পাবেন

নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে তুলনামূলক কম বেতন পাওয়া কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম দিকেই নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

এর মূল কারণ হলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আয় তুলনামূলক কম হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়ের চাপ তাঁদেরও সমানভাবে বহন করতে হচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব তাঁদের প্রকৃত আয়ে বেশি পড়ে। নতুন কাঠামোয় তাই নিচের গ্রেডগুলোতে তুলনামূলক বড় বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত

নতুন পে স্কেলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে মূল বেতনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমায়। বর্তমানে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ২০ হাজার টাকা হওয়ার কথা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় আড়াই গুণের কাছাকাছি বাড়ছে।

প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। নবম গ্রেডেও মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

পেনশনভোগীদের কী হবে

নতুন কাঠামোর সুবিধা শুধু কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়, পেনশনভোগীরাও এর আওতায় থাকছেন। তবে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।

মাসে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ এবং ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৫৫ শতাংশ।

সরকারের বাড়তি খরচ কত

বেতন ও পেনশন বাড়ানোর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের জোগান। সরকারি হিসাবে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে তিন বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

একবারে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ গেলে বাজারে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে কর্মচারীদের আয় বাড়ানো, অন্যদিকে সরকারের ব্যয় ও অর্থনীতির ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিন ধাপ, নাকি চার

নতুন পে-স্কেলের হিসাবটি সহজ। মূল বেতন বাড়বে তিন ধাপে— ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ। আর ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। অর্থাৎ মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে, আর ভাতা কার্যকরের জন্য রয়েছে আলাদা সময়সীমা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত