সেপ্টেম্বরেও কাতার থেকে আসছে না এলএনজি, স্পট মার্কেটেই ভরসা পেট্রোবাংলার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৫০
বাংলাদেশের এলএনজির বড় অংশ আসে কাতার থেকে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের এলএনজির বড় অংশ আসে কাতার থেকে। ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরেও কাতারের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এলএনজি সরবরাহে কাতারএনার্জি ‘ফোর্স মেজার’-এর মেয়াদ বাড়ানোর কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি এশিয়া ও ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাছে এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজারের সময়সীমা বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। বাংলাদেশের জন্য এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি পিছিয়ে যাওয়ায় আরও অন্তত এক মাস স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চিন্তা করছে পেট্রোবাংলা। গত মার্চ থেকেই প্রতিষ্ঠানটি স্পট মার্কেটের মাধ্যমে এলএনজি কিনছে। এর আগে সরকার সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও সরবরাহকারীরা তা দিতে ব্যর্থ হয়।

ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে কয়েকটি ক্রেতাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কাতারএনার্জির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি।

অনিবার্য কারণে কোনো চুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারলে আইনি দায়বদ্ধতা এড়াতে ফোর্স মেজার ঘোষণা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে গত মার্চ থেকেই কাতারএনার্জির এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেটের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। এলএনজি ঘাটতির কারণে এখনো কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে এলএনজি পাচ্ছি না। এ কারণে স্পট মার্কেট থেকে নিয়ে চালাচ্ছি। গত কয়েক মাসে স্পট মার্কেট থেকে কিনেই সরবরাহ করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, ‘দুটি টার্মিনালের জন্য মাসে ১০টি করে এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এরই মধ্যে ৯টি কার্গোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

এদিকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরবরাহকারী কোম্পানির তালিকা বড় করছে পেট্রোবাংলা। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৯টি কোম্পানির বাইরে আরও ৯টি নতুন কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানোয় এই খাতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম এখন আকাশচুম্বী। গত জানুয়ারিতে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০ থেকে ১১ ডলার ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে ২৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, চড়া দামে এলএনজি কেনার আর্থিক সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই। এজন্য সরকারকে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা নির্ধারণ করতে হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত