স্ট্রিম প্রতিবেদক

সড়কে চলাচলকারীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে যানবাহন থামার স্থানগুলোতে নির্মাণ করা হয় যাত্রীছাউনি। তবে রাজধানীর বনানী থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এমন কিছু যাত্রীছাউনি চোখে পড়বে যেগুলো বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের বাঁচাতে পারে না। বৃষ্টি হলেই দেখা যায়, ছাউনির নিচে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। অথচ এমন ১২টি যাত্রীছাউনি বানাতে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্যানুযায়ী, বনানী-এয়ারপোর্ট সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে যাত্রীছাউনিগুলো নির্মাণ করা হয় ২০১৭ সালে। দেশের প্রধান বিমানবন্দরের সড়ক হওয়ায় নকশায় আনা হয় ভিন্নতা। ১৫ ফুট উচ্চতার এসব স্থাপনায় ছাদের প্রস্থ ১০ ফুট।
সড়কে যাতায়াতকারীরা বলছেন, অনেক উঁচুতে এবং কম প্রশস্ত ছাদ হওয়ায় যাত্রীছাউনিগুলোর সুফল পান না তারা। এইসব ছাউনি থাকা, না থাকা একই কথা।
ফার্মগেট-এয়ারপোর্ট সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী সামির খান জানান, তিনি চাকরি করেন নিকুঞ্জ-১ নম্বর এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি কুড়িল বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠা-নামা করেন। ফলে, এই বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত ছাউনিটি ব্যবহার করতে হয় তাঁকে। তবে, ছাউনির কোনো সুবিধাই পান না।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটা ছাউনি না কি অহেতুক স্থাপনা, সেটা এখনও বুঝতে পারি নাই। ছাউনিটা খুব উঁচু। উপরে ছোট ছাদ, যার কারণে রোদ-বৃষ্টি কোনো কিছু থেকেই বাঁচা যায় না। বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় থাকা আর এই ছাউনির নিচে থাকা একই কথা। রোদেও তাই। এটা নামেই শুধু যাত্রীছাউনি, কাজে ঠনঠন।’
গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের উড়ালসেতুর পর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভিন্ন ঘরানার এমন ১২টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রচলিত ছাউনির থেকে এগুলো বেশ বড় আকৃতির। নির্মাণশৈলীতেও রয়েছে ভিন্নতা। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লোহা, স্টিল ও টেম্পার্ড অ্যাক্রিলিকের পাত (প্লাস্টিকের পাত) ও কাচ। যাত্রীদের বসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে বেঞ্চ। তবে, অধিকাংশ ছাউনিতেই যাত্রী ছিলেন কম।

এর মধ্যে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের ছাউনিতে দেখা হয় মোহাম্মদ আজিজ নামে একজনের সঙ্গে। ময়মনসিংহের বাস ধরে তিনি যাবেন ত্রিশাল। ছাউনির নিচেও রোদ এসে পড়ছিল তাঁর শরীরে। স্ট্রিমকে আজিজ বলেন, ‘আমার এক ভাই আসবেন এখানে। তিনি আসলে বাসে উঠব। তাই ছাউনিতে বসে আছি। কিন্তু রোদ থেকে বাঁচতে পারছি না। ছাদ ম্যালা উপরে। আমি বসে আছি এক জায়গায় আর ছায়া পড়ছে অন্য জায়গায়।’
এমইএস বাসস্ট্যান্ড ও কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের ছাউনিতে একই দৃশ্য দেখা যায়। যাত্রী থাকলেও রোদে পুড়ছেন তাঁরা। এ ছাড়া কয়েকটি ছাউনি ব্যবহারই হচ্ছে না; খালি পড়ে আছে। আর কয়েকটিতে বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান।
বিমানবন্দর থেকে বনানী যেতে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের বাম পাশে ছাউনিতে দেখা যায়, যাত্রী নেই বললেই চলে। পুরো ছাউনি ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটোখাটো একটা বাজার। অস্থায়ী দোকানে বিক্রি চলছে ফল, শরবত, পান, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য।
নিকুঞ্জ-১ নম্বর এলাকার একটু আগে থাকা ছাউনিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, এখানে কোনো বাসই থামে না। ফলে কোনো যাত্রীও নেই। ফাঁকা পড়ে থাকা ছাউনিটির সামনে গজিয়েছে সবুজ ঘাস।
এসব ছাউনি নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘সরকার আমলাতান্ত্রিকভাবে এসব প্রজেক্ট করে থাকে। এসব যারা ব্যবহার করে, যারা সাধারণ যাত্রী, প্রজেক্টগুলো করার আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত নেওয়া হয় না। শুধু যাত্রীছাউনি না, সড়কের কোনো কাজেই ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা চিন্তা করা হয় না। ফলে অনেক প্রজেক্ট জনগণের কোনো কাজে আসে না।’
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকায় এসব প্রজেক্টে মূলত অপচয়, দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়। বলা যায়, এগুলো অপচয়ের প্রজেক্ট। এই যাত্রীছাউনিগুলো তারই অংশ।’
ওই এলাকার যাত্রীছাউনি নির্মাণের তত্ত্বাবধানে ছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। জানতে চাইলে সওজ ঢাকা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রজেক্টটা অনেক আগে করা হয়েছে। তখন এটা কারা করেছেন, কীভাবে করেছেন, এমন ডিজাইন কেন করা হলো, সে সব বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারছি না।’
বনানী-এয়ারপোর্ট সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ‘ভিনাইল ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এসব বিষয়ে জানতে ভিনাইল ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে স্ট্রিম। তবে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার গুগলে দেওয়া ঠিকানা ধরে রাজধানীর খিলক্ষেতের খাঁ পাড়া রোডে অবস্থিত ভিনাইল ওয়ার্ল্ডের অফিসে যান এই প্রতিবেদক। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী প্রথমে বলেন, আবেদ মনসুর অফিসে আছেন। এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দেখা করতে চাইলে ওই নিরাপত্তাকর্মী বলেন, উপর থেকে আগে অনুমতি নিতে হবে। পরে তিনি টেলিফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফোন রেখে তিনি বলেন, আবেদ মনসুর অফিসে নেই।
এ সময় টেলিফোনের অপরপ্রান্তের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চান এই প্রতিবেদক। কয়েকবার অনুরোধের পর অপরপ্রান্তের ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তি স্ট্রিমকে বলেন, ‘তিনি অ্যাকাউন্টস দেখেন। স্যার অফিসে নেই। এটা আমাদের কারখানা। এখানে স্যার মাঝে মাঝে আসেন। তবে এই অফিসে বসেন না।’
নিরাপত্তাকর্মী কেন আবেদ মনসুর আছেন বলে জানিয়েছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে নতুন এসেছে। সে কিছু জানে না।’
এ ছাড়া গত দুই দিনে ভিনাইল ওয়ার্ল্ডসহ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ‘ভুল নম্বর’ বলে কল কেটে দেওয়া হয়। আবেদ মনসুরকে চেনেন না বলেও দাবি করেন কয়েকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আবেদ মনসুরের সখ্য ছিল। সেই জন্যই আবেদ এ প্রকল্পের কাজ পান বলে জানান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও আছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয়ে নিয়েছেন। তাঁর সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও পরে দেশ ছাড়েন। এরপর আবেদ মনসুরও গা-ঢাকা দেন। ৫ আগস্টের পর আবেদ মনসুরকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

সড়কে চলাচলকারীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে যানবাহন থামার স্থানগুলোতে নির্মাণ করা হয় যাত্রীছাউনি। তবে রাজধানীর বনানী থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এমন কিছু যাত্রীছাউনি চোখে পড়বে যেগুলো বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের বাঁচাতে পারে না। বৃষ্টি হলেই দেখা যায়, ছাউনির নিচে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। অথচ এমন ১২টি যাত্রীছাউনি বানাতে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্যানুযায়ী, বনানী-এয়ারপোর্ট সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে যাত্রীছাউনিগুলো নির্মাণ করা হয় ২০১৭ সালে। দেশের প্রধান বিমানবন্দরের সড়ক হওয়ায় নকশায় আনা হয় ভিন্নতা। ১৫ ফুট উচ্চতার এসব স্থাপনায় ছাদের প্রস্থ ১০ ফুট।
সড়কে যাতায়াতকারীরা বলছেন, অনেক উঁচুতে এবং কম প্রশস্ত ছাদ হওয়ায় যাত্রীছাউনিগুলোর সুফল পান না তারা। এইসব ছাউনি থাকা, না থাকা একই কথা।
ফার্মগেট-এয়ারপোর্ট সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী সামির খান জানান, তিনি চাকরি করেন নিকুঞ্জ-১ নম্বর এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি কুড়িল বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠা-নামা করেন। ফলে, এই বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত ছাউনিটি ব্যবহার করতে হয় তাঁকে। তবে, ছাউনির কোনো সুবিধাই পান না।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটা ছাউনি না কি অহেতুক স্থাপনা, সেটা এখনও বুঝতে পারি নাই। ছাউনিটা খুব উঁচু। উপরে ছোট ছাদ, যার কারণে রোদ-বৃষ্টি কোনো কিছু থেকেই বাঁচা যায় না। বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় থাকা আর এই ছাউনির নিচে থাকা একই কথা। রোদেও তাই। এটা নামেই শুধু যাত্রীছাউনি, কাজে ঠনঠন।’
গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের উড়ালসেতুর পর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভিন্ন ঘরানার এমন ১২টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রচলিত ছাউনির থেকে এগুলো বেশ বড় আকৃতির। নির্মাণশৈলীতেও রয়েছে ভিন্নতা। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লোহা, স্টিল ও টেম্পার্ড অ্যাক্রিলিকের পাত (প্লাস্টিকের পাত) ও কাচ। যাত্রীদের বসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে বেঞ্চ। তবে, অধিকাংশ ছাউনিতেই যাত্রী ছিলেন কম।

এর মধ্যে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের ছাউনিতে দেখা হয় মোহাম্মদ আজিজ নামে একজনের সঙ্গে। ময়মনসিংহের বাস ধরে তিনি যাবেন ত্রিশাল। ছাউনির নিচেও রোদ এসে পড়ছিল তাঁর শরীরে। স্ট্রিমকে আজিজ বলেন, ‘আমার এক ভাই আসবেন এখানে। তিনি আসলে বাসে উঠব। তাই ছাউনিতে বসে আছি। কিন্তু রোদ থেকে বাঁচতে পারছি না। ছাদ ম্যালা উপরে। আমি বসে আছি এক জায়গায় আর ছায়া পড়ছে অন্য জায়গায়।’
এমইএস বাসস্ট্যান্ড ও কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের ছাউনিতে একই দৃশ্য দেখা যায়। যাত্রী থাকলেও রোদে পুড়ছেন তাঁরা। এ ছাড়া কয়েকটি ছাউনি ব্যবহারই হচ্ছে না; খালি পড়ে আছে। আর কয়েকটিতে বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান।
বিমানবন্দর থেকে বনানী যেতে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের বাম পাশে ছাউনিতে দেখা যায়, যাত্রী নেই বললেই চলে। পুরো ছাউনি ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটোখাটো একটা বাজার। অস্থায়ী দোকানে বিক্রি চলছে ফল, শরবত, পান, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য।
নিকুঞ্জ-১ নম্বর এলাকার একটু আগে থাকা ছাউনিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, এখানে কোনো বাসই থামে না। ফলে কোনো যাত্রীও নেই। ফাঁকা পড়ে থাকা ছাউনিটির সামনে গজিয়েছে সবুজ ঘাস।
এসব ছাউনি নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘সরকার আমলাতান্ত্রিকভাবে এসব প্রজেক্ট করে থাকে। এসব যারা ব্যবহার করে, যারা সাধারণ যাত্রী, প্রজেক্টগুলো করার আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত নেওয়া হয় না। শুধু যাত্রীছাউনি না, সড়কের কোনো কাজেই ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা চিন্তা করা হয় না। ফলে অনেক প্রজেক্ট জনগণের কোনো কাজে আসে না।’
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকায় এসব প্রজেক্টে মূলত অপচয়, দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়। বলা যায়, এগুলো অপচয়ের প্রজেক্ট। এই যাত্রীছাউনিগুলো তারই অংশ।’
ওই এলাকার যাত্রীছাউনি নির্মাণের তত্ত্বাবধানে ছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। জানতে চাইলে সওজ ঢাকা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রজেক্টটা অনেক আগে করা হয়েছে। তখন এটা কারা করেছেন, কীভাবে করেছেন, এমন ডিজাইন কেন করা হলো, সে সব বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারছি না।’
বনানী-এয়ারপোর্ট সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ‘ভিনাইল ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এসব বিষয়ে জানতে ভিনাইল ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে স্ট্রিম। তবে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার গুগলে দেওয়া ঠিকানা ধরে রাজধানীর খিলক্ষেতের খাঁ পাড়া রোডে অবস্থিত ভিনাইল ওয়ার্ল্ডের অফিসে যান এই প্রতিবেদক। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী প্রথমে বলেন, আবেদ মনসুর অফিসে আছেন। এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দেখা করতে চাইলে ওই নিরাপত্তাকর্মী বলেন, উপর থেকে আগে অনুমতি নিতে হবে। পরে তিনি টেলিফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফোন রেখে তিনি বলেন, আবেদ মনসুর অফিসে নেই।
এ সময় টেলিফোনের অপরপ্রান্তের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চান এই প্রতিবেদক। কয়েকবার অনুরোধের পর অপরপ্রান্তের ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তি স্ট্রিমকে বলেন, ‘তিনি অ্যাকাউন্টস দেখেন। স্যার অফিসে নেই। এটা আমাদের কারখানা। এখানে স্যার মাঝে মাঝে আসেন। তবে এই অফিসে বসেন না।’
নিরাপত্তাকর্মী কেন আবেদ মনসুর আছেন বলে জানিয়েছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে নতুন এসেছে। সে কিছু জানে না।’
এ ছাড়া গত দুই দিনে ভিনাইল ওয়ার্ল্ডসহ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ‘ভুল নম্বর’ বলে কল কেটে দেওয়া হয়। আবেদ মনসুরকে চেনেন না বলেও দাবি করেন কয়েকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আবেদ মনসুরের সখ্য ছিল। সেই জন্যই আবেদ এ প্রকল্পের কাজ পান বলে জানান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও আছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয়ে নিয়েছেন। তাঁর সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও পরে দেশ ছাড়েন। এরপর আবেদ মনসুরও গা-ঢাকা দেন। ৫ আগস্টের পর আবেদ মনসুরকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, গ্রাহকের অজান্তে সিম রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অজান্তে এনআইডি ব্যবহার, বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) জালিয়াতি, অনুমতি ছাড়া সিম সক্রিয়করণ ও সিম রিপ্লেসমেন্ট।
৩ দিন আগেআমবাগানের পেছনে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত। তারপর বিশাল এলাকার একপাশে একাধিক ঘানি থেকে মাড়াই হচ্ছে তেল। অন্য পাশে গবাদি পশুর খামার; মাছের ঘের। সঙ্গে মুরগি ও বিদেশি কুকুরের বাণিজ্যিক ফার্ম। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর তারাইল ইউনিয়নের রাতইলে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চলছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) নিলাম আটকে গেছে। পরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্রে একমাত্র গ্রামীণফোনের অংশ নেওয়া ও অন্যান্য অপারেটরের সরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
৭ দিন আগে
শুরুর দিকে বলা হয়েছিল, এসব প্রকল্পে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এগুলো অদূর ভবিষ্যতে একেকটি ‘সিলিকন ভ্যালি’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে চেনাবে। কাগজে-কলমে এগুলোই ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর গর্বিত স্মারক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাই-টেক পার্কের নামে গত দেড় দশকে তৈরি করা হয়েছে
১৪ দিন আগে