জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঢাকার নগরপিতার দৌড়ে বিএনপির হাফ ডজন নেতা

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ২৩: ০৪
স্ট্রিম গ্রাফিক

ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন বিএনপির হাফ ডজন নেতা। তাদের মধ্যে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মেয়র প্রার্থী, সংসদ সদস্য ছাড়াও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের সামনে হাজির হচ্ছেন। আলোচনায় থাকতে অনুসারীদের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর পদে থাকায়, পলাতক অথবা গ্রেপ্তার হন। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে পরিচালনা করে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের জয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। প্রশাসকরা সরে গেলে, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকার গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে ঢাকা উত্তর এবং আব্দুস সালামকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে। এরপর নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইসি। প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচনের তফসিল দেবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ, বড় বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় দলের হাইকমান্ডকে চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, উত্তরাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। তাই রাজধানীর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে চাইছে বিএনপির হাইকমান্ড।

অবশ্য এই অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপির একাংশ মনে করে, বর্তমান প্রশাসকরা বিএনপির পরীক্ষিত নেতা। ফলে ঢাকার দুই সিটির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই রয়েছে। ফলে উপযুক্ত সময় ও কৌশল বিবেচনা করে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নগরপিতা পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন অন্তত তিন প্রভাবশালী নেতা। সরাসরি মেয়রপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রার্থী হওয়ার কথা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইশরাক। এর আগে ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান।

এই সিটিতে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম। এক সময় তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন এবং ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আব্দুস সালাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে ভাবনা আছে বলেই তো এখানে এসেছি। না হলে তো এমপি-মন্ত্রী হতে হতো।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আলোচনায় অঅছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পরাজিত ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এমএ কাইয়ুমের নাম শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কাইয়ুম স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটি দলের সিদ্ধান্ত। দল চাইলে আমি নির্বাচন করব।’

এ ছাড়া বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে। তবে এ ব্যাপারে শফিকুল ইসলাম খানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত