সালেহ ফুয়াদ

গত সিকি শতক ধরে লাল-সফেদ কেফিয়ায় ঢাকা মুখ নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়েছেন বারবার। দৃঢ় কণ্ঠ আর উজ্জ্বল দুটি চোখ দেখে চেনা যেত তাঁকে। ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের অকুতোভয় এই নায়কের প্রয়াণ তাই আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম বিগ্রেডের মুখপাত্র আবু উবায়দাকে শনিবার সপরিবারে হত্যা করেছে তারা। যদিও হামাসের পক্ষ থেকে এ খবর এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে হামাসের এই নীরবতা ফিলিস্তিনের মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকে হামাস। যেমন তাদের সামরিক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে গত শনিবার (৩০ আগস্ট)। অথচ গত মে মাসে তাঁর নিহত হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। হামাস তাদের আরেক সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফের নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছিল প্রায় ছয় মাস পর। তাই তাদের নিশ্চুপ থাকাকেই নিশ্চিত খবর বলে অনেক সময় ধরে নেওয়া হয়। তবে বিপরীতে ইসরায়েলও অনেক সময় হামাস নেতাদের মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে।

গাজার নির্বাচিত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হামাসের সশস্ত্র সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম বিগ্রেডের মুখপাত্র ছিলেন আবু উবায়দা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর নতুন করে তিনি সারা দুনিয়ায় পরিচিত হয়ে ওঠেন।
গত দুই দশকে বহুবার তাঁকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল। ৭ অক্টোবরের পর অন্তত দুইবার তাঁকে লক্ষবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে হামাসের ‘তথ্যযুদ্ধের প্রধান’ বলে অভিহিত করে।
আবু উবায়দা সারা বিশ্বে পরিচিত গণমাধ্যমে দেওয়া তাঁর ভাষণের জন্য। হামাসের পক্ষে তিনিই যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য ও সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরতেন। ইসরায়েল তাঁকে বহুবার হত্যার চেষ্টা করেছে। এ কারণে তাঁর আসল পরিচয় গুরুত্ব দিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেছে হামাস। তাঁকে সব সময় সামরিক পোশাকে দেখা গেছে। আরবদের ঐতিহ্যবাহী লাল কেফিয়া দিয়ে মুখ ঢাকা থাকতেন বলে দুটি চোখ ছাড়া তাঁকে চেনার কোনো উপায় ছিল না।

৭ অক্টোবরের পর আবু উবায়দা মুক্তিসংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে আরব বিশ্বের একটা বড় অংশ তাঁকে বীর মনে করেন। তাঁর নামে স্লোগান হয় সেখানে। গাওয়া হয় গানও। তাঁর এই জনপ্রিয়তা ইসরায়েলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তিনবার তাঁর বাড়িতে বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা কোনো কোনো দেশ তাঁকে সন্ত্রাসী মনে করে।
গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য আবু উবায়দার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। হামাস কখনোই তাঁর প্রকৃত নাম, চেহারা বা কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি। ‘আবু উবায়দা’ নামটিও তাঁর আসল নাম নয়। ছদ্ম এই নামটি ২০০০ সালের পরে ধারণ করেন তিনি। আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা. নামে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর একজন ঘনিষ্ঠ সাহাবি ও খ্যাতনামা সেনাপতি ছিলেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকে উৎসাহ নিয়েই এই নামটি বেছে নেওয়া তাঁর।
২০০৫ সালে তিনি নিজেই একজন সাংবাদিককে জানান, তাঁর পরিবার ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূমি থেকে ইহুদিবাদী মিলিশিয়াদের হাতে উচ্ছেদের শিকার হয়ে গাজার একটি গ্রামে আশ্রয় নেয়। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, ওই সময় তাঁর বয়স ছিল বিশের কোঠায়। অর্থাৎ তিনি আশির দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি কোনো একসময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশ্যে আসেন আবু উবায়দা। ওই বছরের অক্টোবরে গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি স্থল অভিযান চলাকালে তিনি সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধের আপডেট দেন।
২০০৪ সালে হামাস আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যম অফিস প্রতিষ্ঠা করে। এর পর থেকে আবু উবায়দা একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গণমাধ্যমে হামাসের হয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া, হামাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রেকর্ড করা বক্তৃতা প্রকাশ করার কাজটি তিনি করতেন।
২০০৬ সালে প্রথমবার উবায়দা বড় ধরনের ঘোষণা নিয়ে মিডিয়ার সামনে আসেন। ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে বন্দী করার খবর প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের যুদ্ধে আরেক ইসরায়েলি সেনা শাউল অ্যারনকে বন্দী করার খবরও তিনিই দেন। তাঁর পরিচয়পত্র নম্বর পর্যন্ত তিনি প্রকাশ করেন ওই সময়। শুরুতে ইসরায়েল এই তথ্য অস্বীকার করলেও পরে তারা জানায়, অ্যারন নিহত হয়েছেন, তাঁর দেহ হামাসের কাছে রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর আবু উবায়দা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বক্তৃতা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসতে থাকেন। যুদ্ধ শুরুর দুদিন পর তিনি হুঁশিয়ারি দেন, গাজার প্রতিটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে একজন করে ইসরায়েলি বন্দী নিহত হবেন।

এর কয়েক দিন পর তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। ওই বছরের ১১ দিনের যুদ্ধের পরই বড়সর আক্রমণের কথা ভাবতে থাকে হামাস। আবু উবায়দাহ জানান, প্রায় সাড়ে চার হাজার যোদ্ধা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার যোদ্ধা সরাসরি মাঠের লড়াইয়ে অংশ নেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দক্ষিণ কমান্ডের অংশ ‘গাজা ডিভিশন’ ধ্বংস করা।
আরব বিশ্বের কাছে আবু উবায়দা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ, রহস্যময় পরিচয় ও তেজি ভাষণ তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা দিয়েছে।
আবু উবায়দার ভাষণের সময় আরবের বিয়ের অনুষ্ঠান থেমে যায়। তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য মুখিয়ে থাকা শিশু-কিশোররা টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকে। কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিও ইরানের বিপক্ষে ফিলিস্তিনের ফুটবল ম্যাচের সময় তাঁর বক্তৃতা দেখতে থেমেছিলেন।
উবায়দাকে ঘিরে অনেকগুলো আরবি সংগীত রচিত হয়েছে। একটি গানে বলা হয়, ‘হে আবু উবায়দা, তোমার ইচ্ছাশক্তি দৃঢ়, তোমার কথাই বুলেটের গুলি।’
আল-জাজিরা, মিডলইস্ট আই, দ্য প্যালেস্টাইন ক্রনিকল অবলম্বনে

গত সিকি শতক ধরে লাল-সফেদ কেফিয়ায় ঢাকা মুখ নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়েছেন বারবার। দৃঢ় কণ্ঠ আর উজ্জ্বল দুটি চোখ দেখে চেনা যেত তাঁকে। ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের অকুতোভয় এই নায়কের প্রয়াণ তাই আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম বিগ্রেডের মুখপাত্র আবু উবায়দাকে শনিবার সপরিবারে হত্যা করেছে তারা। যদিও হামাসের পক্ষ থেকে এ খবর এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে হামাসের এই নীরবতা ফিলিস্তিনের মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকে হামাস। যেমন তাদের সামরিক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে গত শনিবার (৩০ আগস্ট)। অথচ গত মে মাসে তাঁর নিহত হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। হামাস তাদের আরেক সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফের নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছিল প্রায় ছয় মাস পর। তাই তাদের নিশ্চুপ থাকাকেই নিশ্চিত খবর বলে অনেক সময় ধরে নেওয়া হয়। তবে বিপরীতে ইসরায়েলও অনেক সময় হামাস নেতাদের মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে।

গাজার নির্বাচিত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হামাসের সশস্ত্র সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম বিগ্রেডের মুখপাত্র ছিলেন আবু উবায়দা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর নতুন করে তিনি সারা দুনিয়ায় পরিচিত হয়ে ওঠেন।
গত দুই দশকে বহুবার তাঁকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল। ৭ অক্টোবরের পর অন্তত দুইবার তাঁকে লক্ষবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে হামাসের ‘তথ্যযুদ্ধের প্রধান’ বলে অভিহিত করে।
আবু উবায়দা সারা বিশ্বে পরিচিত গণমাধ্যমে দেওয়া তাঁর ভাষণের জন্য। হামাসের পক্ষে তিনিই যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য ও সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরতেন। ইসরায়েল তাঁকে বহুবার হত্যার চেষ্টা করেছে। এ কারণে তাঁর আসল পরিচয় গুরুত্ব দিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেছে হামাস। তাঁকে সব সময় সামরিক পোশাকে দেখা গেছে। আরবদের ঐতিহ্যবাহী লাল কেফিয়া দিয়ে মুখ ঢাকা থাকতেন বলে দুটি চোখ ছাড়া তাঁকে চেনার কোনো উপায় ছিল না।

৭ অক্টোবরের পর আবু উবায়দা মুক্তিসংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে আরব বিশ্বের একটা বড় অংশ তাঁকে বীর মনে করেন। তাঁর নামে স্লোগান হয় সেখানে। গাওয়া হয় গানও। তাঁর এই জনপ্রিয়তা ইসরায়েলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তিনবার তাঁর বাড়িতে বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা কোনো কোনো দেশ তাঁকে সন্ত্রাসী মনে করে।
গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য আবু উবায়দার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। হামাস কখনোই তাঁর প্রকৃত নাম, চেহারা বা কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেনি। ‘আবু উবায়দা’ নামটিও তাঁর আসল নাম নয়। ছদ্ম এই নামটি ২০০০ সালের পরে ধারণ করেন তিনি। আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা. নামে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর একজন ঘনিষ্ঠ সাহাবি ও খ্যাতনামা সেনাপতি ছিলেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকে উৎসাহ নিয়েই এই নামটি বেছে নেওয়া তাঁর।
২০০৫ সালে তিনি নিজেই একজন সাংবাদিককে জানান, তাঁর পরিবার ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূমি থেকে ইহুদিবাদী মিলিশিয়াদের হাতে উচ্ছেদের শিকার হয়ে গাজার একটি গ্রামে আশ্রয় নেয়। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, ওই সময় তাঁর বয়স ছিল বিশের কোঠায়। অর্থাৎ তিনি আশির দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি কোনো একসময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশ্যে আসেন আবু উবায়দা। ওই বছরের অক্টোবরে গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি স্থল অভিযান চলাকালে তিনি সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধের আপডেট দেন।
২০০৪ সালে হামাস আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যম অফিস প্রতিষ্ঠা করে। এর পর থেকে আবু উবায়দা একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গণমাধ্যমে হামাসের হয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া, হামাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রেকর্ড করা বক্তৃতা প্রকাশ করার কাজটি তিনি করতেন।
২০০৬ সালে প্রথমবার উবায়দা বড় ধরনের ঘোষণা নিয়ে মিডিয়ার সামনে আসেন। ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে বন্দী করার খবর প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের যুদ্ধে আরেক ইসরায়েলি সেনা শাউল অ্যারনকে বন্দী করার খবরও তিনিই দেন। তাঁর পরিচয়পত্র নম্বর পর্যন্ত তিনি প্রকাশ করেন ওই সময়। শুরুতে ইসরায়েল এই তথ্য অস্বীকার করলেও পরে তারা জানায়, অ্যারন নিহত হয়েছেন, তাঁর দেহ হামাসের কাছে রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর আবু উবায়দা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বক্তৃতা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসতে থাকেন। যুদ্ধ শুরুর দুদিন পর তিনি হুঁশিয়ারি দেন, গাজার প্রতিটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে একজন করে ইসরায়েলি বন্দী নিহত হবেন।

এর কয়েক দিন পর তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। ওই বছরের ১১ দিনের যুদ্ধের পরই বড়সর আক্রমণের কথা ভাবতে থাকে হামাস। আবু উবায়দাহ জানান, প্রায় সাড়ে চার হাজার যোদ্ধা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার যোদ্ধা সরাসরি মাঠের লড়াইয়ে অংশ নেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দক্ষিণ কমান্ডের অংশ ‘গাজা ডিভিশন’ ধ্বংস করা।
আরব বিশ্বের কাছে আবু উবায়দা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ, রহস্যময় পরিচয় ও তেজি ভাষণ তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা দিয়েছে।
আবু উবায়দার ভাষণের সময় আরবের বিয়ের অনুষ্ঠান থেমে যায়। তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য মুখিয়ে থাকা শিশু-কিশোররা টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকে। কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিও ইরানের বিপক্ষে ফিলিস্তিনের ফুটবল ম্যাচের সময় তাঁর বক্তৃতা দেখতে থেমেছিলেন।
উবায়দাকে ঘিরে অনেকগুলো আরবি সংগীত রচিত হয়েছে। একটি গানে বলা হয়, ‘হে আবু উবায়দা, তোমার ইচ্ছাশক্তি দৃঢ়, তোমার কথাই বুলেটের গুলি।’
আল-জাজিরা, মিডলইস্ট আই, দ্য প্যালেস্টাইন ক্রনিকল অবলম্বনে
.png)

বিশ্বরাজনীতির পুরোনো ছক যেন দ্রুত ভেঙে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর টানাপোড়েন সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতা ও নতুন মেরুকরণ।
৭ ঘণ্টা আগে
আধুনিক বিশ্বে শরণার্থী সংকট সামলানোর একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলো নিজের দেশে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বদলে অন্য দেশকে অর্থ দিয়ে তাদের সেখানে রাখতে চাইছে। ফলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্বের বিষয় থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীত
১ দিন আগে
ভারতে ছাত্রদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আপাতত থেমেছে। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তর পরিষ্কার করা হয়েছে। দেয়ালের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও যেন আপাতত নিজেদের পর্ব শেষ করেছে। অন্যদিকে বিজেপি আবার সংসদে নিজেদের বিল পাস করানোর কাজে ফিরেছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবার সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত আউটরিচ সেশনগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬