ঘটনাবহুল ২০২৫ শেষ করে আরো একটি নতুন বছরের যাত্রা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটি মানুষ নতুন এই বছরে পা রাখল আশাবাদ ও চাপা উত্তেজনা নিয়ে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটছে।
২০২৫ সালটা ছিল এই অঞ্চলের মানুষদের জন্য নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনার বছর। এই বছরের সেপ্টেম্বরে হিমালয়কন্যা নেপালে মাত্র দুইদিনের আন্দোলনেই ঘটে গেছে সরকার পতনের মতো বিরাট এক ঘটনা। এছাড়া এই অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ভারতও এই বছর ব্যাপক কূটনৈতিক চাপে পড়েছিল। তাদের প্রতিবেশী, আরেক পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তানেও দেখা দিয়েছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। আর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর পুরো বছরটাই কেটেছে অস্থিতিশীলভাবে।
২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতির গতিপথ দুই দিকে মোড় নিতে পারে। নির্বাচন ও সংস্কারের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। আবার সীমান্ত বিরোধ, অর্থনৈতিক সংকটের চাপ ও জাতিগত সংঘাতের কারণে উত্তেজনাও বাড়তে পারে।
এই বছর দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটতে পারে। যার মধ্যে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন একটি বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এই বছর নেপালেও নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ ও নেপালে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন
২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ ও নেপালে নতুন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুটি দেশেই গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১২ ফেব্রুয়ারি। নেপালে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৫ মার্চ।
উভয় দেশে যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার মনে করেন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি, তাহলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। মোটকথা, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার জনসমর্থন না পেলে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বছরের শেষ দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছেবাংলাদেশ ও নেপাল উভয় দেশেই রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমেই আগের সরকারগুলোর পতন ঘটে। এই তরুণরা নির্বাচনকে সুশাসন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তারা আবার রাজপথে নামতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আবার বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে ভারতের ও চীনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তারাও দুদেশের নির্বাচন গভীর নজরে পর্যবেক্ষণ করবে।
সফলভাবে নির্বাচন হলে একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে ব্যর্থ হলে আবার কর্তৃত্ববাদ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা ফেরার ঝুঁকি থাকবে।
সংস্কার সফল হলে রাজনীতি বহুমুখী ভারসাম্যের দিকে এগোতে পারে। আর বিরোধ ও দ্বন্দ্ব স্থায়ী হলে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
সরকার পরিবর্তনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেপালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ মার্চ। ছবি: নেপালের নির্বাচন কমিশনভারত: কূটনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মুখে
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাবশালী দেশ ভারত ২০২৬ সালে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে। দেশটি একদিকে বৈদেশিক চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও টানাপোড়েন চলছে।
কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের মতো সহযোগিতামূলক অবস্থানে নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে। ভারতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই সম্পর্ক একসময় চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো।
এর ফলে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের কৌশলগত ঝুঁকি বেড়েছে। দেশের ভেতরে রাজনীতি তীব্রভাবে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
দেশটিতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ ভেঙে পড়েছে। জেনারেশন জেড বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের প্রভাব বাড়ছে। ডিজিটাল প্রচার ও তরুণদের লক্ষ্য করে নেওয়া নীতির মাধ্যমে তারা রাজনীতির ভাষা বদলে দিতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চাকরি ও বৈষম্যের প্রশ্ন আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ আরও তীব্র হতে পারে।
ভারতকেন্দ্রিক দক্ষিণ এশিয়া নীতি থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চিন্তিত ভারত। স্ট্রিম গ্রাফিকসাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল এর বড় উদাহরণ। তবে ভারত এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত নেতা। নতুন বছরে মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা বাড়বে। বিশেষ করে ২০২৯ সালে তিনি টানা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে প্রশ্ন সামনে আসবে। এ পর্যন্ত মোদির অবসর নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ভারতে নরেন্দ্র মোদি এখনো ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৫ সালে তার দল বিজেপি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে জয় পেয়েছে। এ ফলাফল সমালোচকদের জন্য শক্ত জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ ফল মোদির পতনের সূচনা। তবে ২০২৫ সালের রাজ্য সরকার নির্বাচনের ফল সেই ধারণাকে দুর্বল করেছে।
আগামী বছর আরও কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ভারতের দক্ষিণের কিছু রাজ্যও রয়েছে, যেখানে বিজেপির অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল।
যদি এসব নির্বাচনেও বিজেপি সাফল্য পায়, তবে ক্ষমতাসীনবিরোধী মনোভাবের আশঙ্কা আরও কমবে।
পাকিস্তান: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংকট
চলতি বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের একটি স্বল্পমেয়াদি সামরিক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের সঙ্গেও প্রায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৬ সালে পাকিস্তান উভয় প্রতিবেশীর সঙ্গেই নতুন করে সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত অবস্থায় আছে।
যেকোনো একটি ঘটনা নতুন সংঘাত উসকে দিতে পারে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী হামলা একটি কারণ হতে পারে। সীমান্ত অতিক্রম করে অনুপ্রবেশও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ভারতের কোনো বড় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পও সংঘাতের সূত্র হতে পারে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমনে রাজি করাতে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জবাবে তালেবানও পাকিস্তানের ভেতরে হামলা জোরদার করতে পারে।
সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীতমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ভারত তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করায় সেই সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেছে।
সবমিলিয়ে পাকিস্তান ২০২৬ সালে প্রবেশ করছে এক জটিল বাস্তবতায়। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও নড়বড়ে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কার বাস্তবায়নে এগোচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্পদের বেসরকারিকরণ। বিমান সংস্থা ও ব্যাংক বিক্রির পরিকল্পনাও এর অংশ। লক্ষ্য হলো ঋণখেলাপি পরিস্থিতি এড়ানো। তবে অর্থনৈতিক সংকট এখনো তীব্র। দেশটির ঋণের বোঝা অনেক বেশি। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাজিক অসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে।
২০২৬ সালে পাকিস্তানে নাগরিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পাকিস্তানকেও অস্থিরতার তালিকায় রাখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভবিষ্যৎ বড় প্রশ্ন হয়ে আছে। তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের অবস্থানও অনিশ্চিত। যদি দলটি পর্যাপ্ত রাজনৈতিক পরিসর না পায়, তবে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে।
২০২৯ সালের আগে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা অর্থনৈতিক ধসের আশঙ্কার কথা বলছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশটির রাজনীতিকে কর্তৃত্ববাদ বা বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আফগানিস্তান তালেবান শাসনের অধীনে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এই পরিস্থিতির প্রভাব পাকিস্তানের ওপরও পড়ছে।
মালদ্বীপে অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বিশ্বের দুটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের উদ্ভব হয়েছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি হয়। ২০২৩ সালে পাকিস্তান অল্পের জন্য একই পরিণতি এড়াতে সক্ষম হয়।
এখন মালদ্বীপ বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এই চাপ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে দেশটি পরবর্তী শ্রীলঙ্কায় পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে জানায়, মালদ্বীপ ‘উচ্চমাত্রার ঋণঝুঁকিতে’ রয়েছে। এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি একটি বড় কারণ। বিকল্প উৎসও সীমিত। ঋণ পরিশোধের দায় অত্যন্ত বেশি।
এই ঋণের বড় একটি অংশ এসেছে চীনের কাছ থেকে। আগামী বছরে মালদ্বীপের সরকারি ঋণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়াই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল। তবে মালদ্বীপের জন্য কিছুটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। পর্যটন খাত থেকে শক্তিশালী আয় দেশটিকে এখনো বড় সংকট থেকে রক্ষা করছে। ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সহায়তাও এতে ভূমিকা রেখেছে।
তবু মালদ্বীপের অর্থনীতি এখনো খুবই নাজুক। বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য হঠাৎ বেড়ে গেলে সমস্যা বাড়তে পারে। পর্যটন আয় হঠাৎ কমে গেলেও বড় সংকট দেখা দিতে পারে। এই কারণে সামান্য বাহ্যিক ধাক্কাও মালদ্বীপের অর্থনীতির জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মালদ্বীপ ও ভুটান অর্থনৈতিক কূটনীতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। এই দুই দেশই ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে।
শ্রীলঙ্কা: রাজনৈতিক ঐক্যের পথে
শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পর প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৬ সালের বাজেটে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পুনর্গঠন এই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশটির সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। ডিজিটাল রূপান্তর ও বিনিয়োগ আকর্ষণকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে শ্রীলঙ্কায় বড় কোনো নির্বাচন নেই। তবে সরকারকে ঋণ পুনর্গঠন ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। রাজনীতি বাস্তবধর্মী সংস্কারের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের চীন-নীতির প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায়
নতুন বছরে চীন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির দিকনির্দেশনা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বেইজিং সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ঘোষণা করেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা বলেছেন। অন্যদিকে সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। এই দ্বৈত অবস্থান নীতিগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিন পিং। ফাইল ছবিট্রাম্পের চূড়ান্ত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। দীর্ঘদিন ধরে চীনকে মোকাবিলার অভিন্ন লক্ষ্য এই সম্পর্কের ভিত্তি ছিল। ওয়াশিংটন যদি চীনের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি ঘটতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প যদি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান।
সে ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা দক্ষিণ এশিয়াকে বড় শক্তির প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিও এর অংশ। এই নীতির লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চীনের প্রভাব কমানো।
এর জন্য অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অস্ত্র সরবরাহের মতো প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের প্রতি নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
এ ধরনের পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাজধানীতে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হতে পারে। কারণ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়।
তথ্যসূত্র: ফরেন পলিসি, দ্য ডিপ্লোম্যাট, মডার্ন ডিপ্লোমেসি