কাজী নিশাত তাবাসসুম

চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু এখন ফেসবুকের আলোচিত বিষয়। নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা নামের এই চিকিৎসক গত ২ জুন মারা গেছেন। বন্ধুদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ধীপ্রা। আর শ্বশুরবাড়ির মানুষদের দাবি, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন তিনি।
বিষয়টি এরই মধ্যে মামলা পর্যায়ে গড়িয়েছে। ধীপ্রার পরিবার তাঁর শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে ফেসবুকে থামেনি ধীপ্রার মৃত্যু ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে আলোচনা।
বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন ও পরিসংখ্যান বলছে, দেশে নারীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটে পরিবারের ভেতরেই, আর অপরাধীর বড় অংশই স্বামী বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময় স্বামী বা পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের কাছে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তবে গত এক বছরে ৪১ শতাংশ নারী তাঁর স্বামীর কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
২০১৫ সালে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সহিংসতা কমলেও এখনো প্রতি ১০ জনে প্রায় ৪ জন নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ৫৪ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার স্বামীর শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়াও গত এক বছরে ১৬ শতাংশ নারী শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী নির্যাতনের কথা কাউকে জানান না, ফলে পারিবারিক সহিংসতার বড় একটি অংশ আড়ালেই থেকে যায়।
অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে যে তথ্য সংগ্রহ করে, সেখানে ২০২৫ সালেও নারী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-জুলাই) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট ৩৬৩টি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ৩২২ জন নারী ভুক্তভোগী হয়েছেন। ১১৩ জন নারী স্বামীর হাতে নিহত হয়েছেন। ৪২ জন নারী শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। ৩৩ জন নারী নিজ পরিবারের সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। ১১৪ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন, যাদের অনেকের ক্ষেত্রেই পারিবারিক নির্যাতনের যোগসূত্রের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সংবাদে প্রকাশিত ঘটনা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।
নিজের বাড়িতেই নারীরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হন কিনা, এ বিষয়ে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বলেছে, গত পাঁচ বছরের নথিভুক্ত ৬৮০টি মামলা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৮৬টি ঘটনা ভুক্তভোগীর বাড়ির ভেতরে ঘটেছে এবং এর পরেই রয়েছে অপরাধীর বাসভবনে ঘটা ১৭৯টি ঘটনা।
সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা এরই ইঙ্গিত বহন করে। মেয়েদের যৌন নির্যাতনের সবচেয়ে বড় স্থান কোনো জনসমাগম এলাকা নয়, বরং নিজ বাড়ি।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের সদস্য, স্বামী, আত্মীয় কিংবা পরিচিত মানুষ। অর্থাৎ নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত পারিবারিক পরিবেশই অনেক সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা যৌন সহিংসতার প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।
সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীরা কয়েকটি কারণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো, যেখানে নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক চাপ ও বেকারত্ব, যা পারিবারিক দ্বন্দ্ব বাড়ায়। যৌতুক, সম্পত্তি ও পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, যার কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়। সামাজিক লজ্জা ও পরিবারের চাপ, যার কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে ভয় পান।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী সুলতানা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক নারী নির্যাতনকে ‘পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে মেনে নেন বা মেনে নিতে বাধ্য হন। ফলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার আগেই বহু ঘটনা চাপা পড়ে যায়।
বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রধান আইন হলো পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষা) আইন, ২০১০। এই আইনে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক নির্যাতনকেও পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আদালত ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুরক্ষা আদেশ, বাসস্থান সংক্রান্ত আদেশ ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ এই আইন অমান্য করলে তার সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে ২ বছরের কারাদণ্ড, সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এ ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা, নির্যাতনের কারণে মৃত্যু ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কয়েকটি পদক্ষেপ চালু রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ অভিযোগের সুযোগ। ১০৯ জাতীয় হেল্পলাইন, যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যায়। জেলা পর্যায়ে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ও আইনি সহায়তা। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সেবা সম্প্রসারণে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ কর্মসূচি।
ধীপ্রার মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে কী সত্য বেরিয়ে আসে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বড় অংশ ঘটে ঘরের ভেতরেই। আইন রয়েছে, সহায়তা ব্যবস্থাও রয়েছে, কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা কমানো কঠিন।

চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু এখন ফেসবুকের আলোচিত বিষয়। নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা নামের এই চিকিৎসক গত ২ জুন মারা গেছেন। বন্ধুদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ধীপ্রা। আর শ্বশুরবাড়ির মানুষদের দাবি, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন তিনি।
বিষয়টি এরই মধ্যে মামলা পর্যায়ে গড়িয়েছে। ধীপ্রার পরিবার তাঁর শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে ফেসবুকে থামেনি ধীপ্রার মৃত্যু ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে আলোচনা।
বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন ও পরিসংখ্যান বলছে, দেশে নারীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটে পরিবারের ভেতরেই, আর অপরাধীর বড় অংশই স্বামী বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময় স্বামী বা পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের কাছে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তবে গত এক বছরে ৪১ শতাংশ নারী তাঁর স্বামীর কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
২০১৫ সালে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সহিংসতা কমলেও এখনো প্রতি ১০ জনে প্রায় ৪ জন নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ৫৪ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার স্বামীর শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়াও গত এক বছরে ১৬ শতাংশ নারী শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী নির্যাতনের কথা কাউকে জানান না, ফলে পারিবারিক সহিংসতার বড় একটি অংশ আড়ালেই থেকে যায়।
অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে যে তথ্য সংগ্রহ করে, সেখানে ২০২৫ সালেও নারী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-জুলাই) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট ৩৬৩টি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ৩২২ জন নারী ভুক্তভোগী হয়েছেন। ১১৩ জন নারী স্বামীর হাতে নিহত হয়েছেন। ৪২ জন নারী শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। ৩৩ জন নারী নিজ পরিবারের সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। ১১৪ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন, যাদের অনেকের ক্ষেত্রেই পারিবারিক নির্যাতনের যোগসূত্রের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সংবাদে প্রকাশিত ঘটনা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।
নিজের বাড়িতেই নারীরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হন কিনা, এ বিষয়ে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বলেছে, গত পাঁচ বছরের নথিভুক্ত ৬৮০টি মামলা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৮৬টি ঘটনা ভুক্তভোগীর বাড়ির ভেতরে ঘটেছে এবং এর পরেই রয়েছে অপরাধীর বাসভবনে ঘটা ১৭৯টি ঘটনা।
সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা এরই ইঙ্গিত বহন করে। মেয়েদের যৌন নির্যাতনের সবচেয়ে বড় স্থান কোনো জনসমাগম এলাকা নয়, বরং নিজ বাড়ি।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের সদস্য, স্বামী, আত্মীয় কিংবা পরিচিত মানুষ। অর্থাৎ নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত পারিবারিক পরিবেশই অনেক সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা যৌন সহিংসতার প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।
সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীরা কয়েকটি কারণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো, যেখানে নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক চাপ ও বেকারত্ব, যা পারিবারিক দ্বন্দ্ব বাড়ায়। যৌতুক, সম্পত্তি ও পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, যার কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়। সামাজিক লজ্জা ও পরিবারের চাপ, যার কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে ভয় পান।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী সুলতানা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক নারী নির্যাতনকে ‘পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে মেনে নেন বা মেনে নিতে বাধ্য হন। ফলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার আগেই বহু ঘটনা চাপা পড়ে যায়।
বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রধান আইন হলো পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষা) আইন, ২০১০। এই আইনে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক নির্যাতনকেও পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আদালত ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুরক্ষা আদেশ, বাসস্থান সংক্রান্ত আদেশ ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ এই আইন অমান্য করলে তার সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে ২ বছরের কারাদণ্ড, সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এ ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা, নির্যাতনের কারণে মৃত্যু ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কয়েকটি পদক্ষেপ চালু রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ অভিযোগের সুযোগ। ১০৯ জাতীয় হেল্পলাইন, যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যায়। জেলা পর্যায়ে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ও আইনি সহায়তা। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সেবা সম্প্রসারণে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ কর্মসূচি।
ধীপ্রার মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে কী সত্য বেরিয়ে আসে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বড় অংশ ঘটে ঘরের ভেতরেই। আইন রয়েছে, সহায়তা ব্যবস্থাও রয়েছে, কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা কমানো কঠিন।

সিসা দূষণ বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের একটি আলোচিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষত, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। ইউনিসেফ, পিউর আর্থের মতো সংস্থাগুলো বরাবরই এই সংকটের কথা বলে গেলেও, বাজেটের ভেতরে এ সংকটের জন্য আলাদা কোনো দৃশ্যমান বরাদ্দ বা জাতীয় কর্মসূচি খুঁজে পাওয়া কঠিন।
২১ ঘণ্টা আগে
মরুভূমির দেশ সৌদি আরব। চারদিকে শুধু বালু আর বালু। তারপরও নির্মাণকাজের জন্য দেশটিকে বিদেশ থেকে বালু আমদানি করতে হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত কারণ।
১ দিন আগে
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান—সব পক্ষই একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনো আমাদের অজানা। এই চুক্তিটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
২ দিন আগে
ইতিহাসে প্রায় সব ধরনের সরকার—গণতান্ত্রিক, সামরিক, সমাজতান্ত্রিক কিংবা স্বৈরশাসক—কোনো না কোনো সময়ে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। তবে সেই নিয়ন্ত্রণের ধরন এক ছিল না। কোথাও সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়েছে, কোথাও সাংবাদিকদের কারারুদ্ধ করা হয়েছে, কোথাও পুরো মিডিয়া রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়েছে, আবার কো
২ দিন আগে