স্ট্রিম ডেস্ক

কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করা এবং সেই দলের ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করা দুটি শব্দ শুনতে একই মনে হলেও আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অর্থ এক নয়। বিভিন্ন দেশে সরকার বা আদালত কখনো একটি রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, আবার কখনো দলটির কার্যক্রম সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখে। ফলে প্রশ্ন আসে এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য কী?
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা অর্থ হলো রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সেই দলের আইনগত স্বীকৃতি বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করা। এর ফলে দলটি আর বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না। দল নিষিদ্ধ হলে সাধারণত দলটি নির্বাচন করতে বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করা যায় না। দলীয় নামে সভা, সমাবেশ বা প্রচারণা চালানো বেআইনি হয়ে যায়। দলটির নিবন্ধন বা আইনগত মর্যাদা বাতিল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দলের সম্পদ জব্দ বা আর্থিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এসব ব্যবস্থা দেশভেদে এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা মানে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এতে দলটির আইনগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় না। এক্ষেত্রে সরকার বা আদালত বলতে পা,রে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। মিছিল, প্রচারণা বা সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। দলীয় অফিস ব্যবহার বা জনসম্মুখে সংগঠিত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। সদস্য সংগ্রহ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি সীমিত রাখতে হবে। অর্থাৎ দলটি কাগজে-কলমে থেকে গেলেও বাস্তবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।
সহজ করে বললে, দল নিষিদ্ধ করা হলো সংগঠনের আইনগত অস্তিত্বের ওপর আঘাত, আর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো সেই সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরও সহজ করে বোঝা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি আর বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে না। অন্যদিকে লাইসেন্স বহাল রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব থাকে, কিন্তু কাজ করতে পারে না। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা যায়।
বিভিন্ন দেশে সরকার বা আদালত সাধারণত কয়েকটি কারণে কোনো রাজনৈতিক দল বা তার কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ, জননিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া কিংবা আদালতের রায় বা বিশেষ আইনের বিধান। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিরোধী পক্ষ অনেক সময় অভিযোগ করে, নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে সরকার দাবি করে, জননিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রেও সরকার একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলটির বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থকদের দাবি, এ নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সংকুচিত করতে পারে। ফলে বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুতর সাংবিধানিক পদক্ষেপ। তাই অনেক দেশে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় থাকে। বাংলাদেশেও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী আইনকে বাতিলযোগ্য ঘোষণা করে, অনুচ্ছেদ ৩৭ শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অধিকার এবং অনুচ্ছেদ ৩৮ সংগঠন বা রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দেখাতে হয় যে, পদক্ষেপটি সংবিধানসম্মত, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় এবং তা মৌলিক অধিকারের ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ নয়। এ কারণে আদালত সাধারণত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ, সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনা করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার নজির রয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতের সিদ্ধান্ত বা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, জার্মানিতে ১৯৫২ সালে সমাজতান্ত্রিক রাইখ পার্টি এবং ১৯৫৬ সালে জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টিকে সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দেশটির সাংবিধানিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অন্যদিকে স্পেনে ২০০৩ সালে বামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন (ইটিএ) সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে বাতাসুনা দলকে আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়। বাস্ক ভাষায় বাতাসুনা বলতে ঐক্য বা একতাকে বোঝায়।
আবার সব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকেনি। তুরস্কে বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দল আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হলেও, এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রে একটি চূড়ান্ত ও ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। যদি কম কঠোর কোনো আইনি উপায়ে জননিরাপত্তা ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়, তবে সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ রাজনৈতিক দল গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।
বাস্তবে অনেক সময় সরকারি ঘোষণা, আদালতের আদেশ বা সংবাদ প্রতিবেদনে ‘দল নিষিদ্ধ’ এবং ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ দুটি শব্দই একই প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দুটি বিষয়কে একই অর্থে মনে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এদের তাৎপর্য ও পরিণতি এক নয়।
কোনো ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা আইনগত অস্তিত্ব বহাল থাকলেও তার সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকতে পারে। আবার অন্য ক্ষেত্রে দলটির নিবন্ধন বা আইনগত স্বীকৃতিই বাতিল হয়ে যায়, ফলে দলটি আর বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না। অর্থাৎ, দুটি সিদ্ধান্তের আইনি প্রভাব ও বাস্তব প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
এ কারণে কোনো রাজনৈতিক দলকে ঘিরে সরকারি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের সময় শুধু শিরোনাম বা ঘোষণার ভাষা নয়, সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদালতের আদেশ এবং সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা জরুরি।

কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করা এবং সেই দলের ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করা দুটি শব্দ শুনতে একই মনে হলেও আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অর্থ এক নয়। বিভিন্ন দেশে সরকার বা আদালত কখনো একটি রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, আবার কখনো দলটির কার্যক্রম সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখে। ফলে প্রশ্ন আসে এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য কী?
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা অর্থ হলো রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সেই দলের আইনগত স্বীকৃতি বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করা। এর ফলে দলটি আর বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না। দল নিষিদ্ধ হলে সাধারণত দলটি নির্বাচন করতে বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করা যায় না। দলীয় নামে সভা, সমাবেশ বা প্রচারণা চালানো বেআইনি হয়ে যায়। দলটির নিবন্ধন বা আইনগত মর্যাদা বাতিল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দলের সম্পদ জব্দ বা আর্থিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এসব ব্যবস্থা দেশভেদে এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা মানে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এতে দলটির আইনগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় না। এক্ষেত্রে সরকার বা আদালত বলতে পা,রে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। মিছিল, প্রচারণা বা সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। দলীয় অফিস ব্যবহার বা জনসম্মুখে সংগঠিত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। সদস্য সংগ্রহ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি সীমিত রাখতে হবে। অর্থাৎ দলটি কাগজে-কলমে থেকে গেলেও বাস্তবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।
সহজ করে বললে, দল নিষিদ্ধ করা হলো সংগঠনের আইনগত অস্তিত্বের ওপর আঘাত, আর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো সেই সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরও সহজ করে বোঝা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি আর বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে না। অন্যদিকে লাইসেন্স বহাল রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব থাকে, কিন্তু কাজ করতে পারে না। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা যায়।
বিভিন্ন দেশে সরকার বা আদালত সাধারণত কয়েকটি কারণে কোনো রাজনৈতিক দল বা তার কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ, জননিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া কিংবা আদালতের রায় বা বিশেষ আইনের বিধান। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিরোধী পক্ষ অনেক সময় অভিযোগ করে, নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে সরকার দাবি করে, জননিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রেও সরকার একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলটির বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থকদের দাবি, এ নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সংকুচিত করতে পারে। ফলে বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুতর সাংবিধানিক পদক্ষেপ। তাই অনেক দেশে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় থাকে। বাংলাদেশেও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী আইনকে বাতিলযোগ্য ঘোষণা করে, অনুচ্ছেদ ৩৭ শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অধিকার এবং অনুচ্ছেদ ৩৮ সংগঠন বা রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দেখাতে হয় যে, পদক্ষেপটি সংবিধানসম্মত, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় এবং তা মৌলিক অধিকারের ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ নয়। এ কারণে আদালত সাধারণত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ, সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনা করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার নজির রয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতের সিদ্ধান্ত বা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, জার্মানিতে ১৯৫২ সালে সমাজতান্ত্রিক রাইখ পার্টি এবং ১৯৫৬ সালে জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টিকে সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দেশটির সাংবিধানিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অন্যদিকে স্পেনে ২০০৩ সালে বামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন (ইটিএ) সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে বাতাসুনা দলকে আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়। বাস্ক ভাষায় বাতাসুনা বলতে ঐক্য বা একতাকে বোঝায়।
আবার সব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকেনি। তুরস্কে বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দল আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হলেও, এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রে একটি চূড়ান্ত ও ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। যদি কম কঠোর কোনো আইনি উপায়ে জননিরাপত্তা ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়, তবে সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ রাজনৈতিক দল গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।
বাস্তবে অনেক সময় সরকারি ঘোষণা, আদালতের আদেশ বা সংবাদ প্রতিবেদনে ‘দল নিষিদ্ধ’ এবং ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ দুটি শব্দই একই প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দুটি বিষয়কে একই অর্থে মনে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এদের তাৎপর্য ও পরিণতি এক নয়।
কোনো ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা আইনগত অস্তিত্ব বহাল থাকলেও তার সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকতে পারে। আবার অন্য ক্ষেত্রে দলটির নিবন্ধন বা আইনগত স্বীকৃতিই বাতিল হয়ে যায়, ফলে দলটি আর বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না। অর্থাৎ, দুটি সিদ্ধান্তের আইনি প্রভাব ও বাস্তব প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
এ কারণে কোনো রাজনৈতিক দলকে ঘিরে সরকারি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের সময় শুধু শিরোনাম বা ঘোষণার ভাষা নয়, সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদালতের আদেশ এবং সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা জরুরি।
.png)

বিশ্বরাজনীতির পুরোনো ছক যেন দ্রুত ভেঙে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর টানাপোড়েন সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতা ও নতুন মেরুকরণ।
৭ ঘণ্টা আগে
আধুনিক বিশ্বে শরণার্থী সংকট সামলানোর একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলো নিজের দেশে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বদলে অন্য দেশকে অর্থ দিয়ে তাদের সেখানে রাখতে চাইছে। ফলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্বের বিষয় থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীত
১ দিন আগে
ভারতে ছাত্রদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আপাতত থেমেছে। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তর পরিষ্কার করা হয়েছে। দেয়ালের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও যেন আপাতত নিজেদের পর্ব শেষ করেছে। অন্যদিকে বিজেপি আবার সংসদে নিজেদের বিল পাস করানোর কাজে ফিরেছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবার সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত আউটরিচ সেশনগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬