leadT1ad

জেফরি সাকসের বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি না কি কেবল সাময়িক বিরতি

প্রফেসর জেফরি সাকস একজন বিশ্বখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে তাঁর নিরপেক্ষ ও সাহসী সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই লেখাটি তাঁর একটি সাক্ষাতকারের কিঞ্চিৎ সংক্ষেপিত রূপ।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৮: ২৯
ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান—সব পক্ষই একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনো আমাদের অজানা। এই চুক্তিটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা যা জানি, তা হলো তিনটি পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই তিন পক্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইরান হলো মূল প্রতিপক্ষ এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী। যতটুকু জানা গেছে, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয়।

চুক্তি ধোঁয়াশাময়

চুক্তিতে শত্রুতা অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি ঘোষণার ভাষ্যমতে, এটি শত্রুতার ‘স্থায়ী অবসান’। চুক্তিটি মূলত দুটি বড় পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস চলাচল স্বাভাবিক করা। দ্বিতীয় পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা। ঘোষণাগুলো থেকে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধের দাবি জানিয়েছিল, সেগুলো এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছে। সেখানে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন, ক্রয় বা অন্য উপায়ে তা সংগ্রহ করবে না—এরকম একটি অপরিবর্তনীয় প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হবে।

এটাই চুক্তির মূল কাঠামো, যদিও এর বিস্তারিত বিষয় এখনো অস্পষ্ট। ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরান দাবি করছে এটি কোনো আন্তর্জাতিক জলপথ নয়, বরং ইরান ও ওমানের যৌথ মালিকানাধীন জলপথ এবং তারা এর সহ-দায়িত্ব নিতে চায়। এটি চুক্তির কোথাও লিপিবদ্ধ আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো টোল আদায় করা হবে না। হয়তো এটি চুক্তির অন্যতম শর্ত। কারণ ইরান আগে প্রতিটি ব্যারেল তেলের ওপর ১ ডলার টোল দাবি করছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জমে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ অবমুক্ত করবে বলে জানা গেছে। এই সম্পদগুলো কেন, কীভাবে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে জব্দ করা হয়েছিল বা এখন কীভাবে গণনা করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে মনে হচ্ছে, জলপথে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত হবে এবং সেখানে ইরান ও ওমানের নামমাত্র বা কিছুটা বেশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে।

গুজব যদি সত্য হয়, তবে তেল-গ্যাস পরিবহনে কোনো টোল লাগবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে জব্দ করা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ অবমুক্ত করবে।

চুক্তিটি অত্যন্ত ভঙ্গুর

ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয়। তাছাড়া, নেতানিয়াহু সরকার লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নেবে—এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইসরায়েল যেকোনো অজুহাতে (যেমন—হিজবুল্লাহর কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে) লেবাননে বোমাবর্ষণ চালিয়ে চুক্তিটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে। সব মিলিয়ে এই চুক্তিটি অত্যন্ত ভঙ্গুর। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এই চুক্তিটি মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের আগের অবস্থায় সবকিছু ফিরিয়ে নিচ্ছে, তবে প্রণালীর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ বা সম্পদ অবমুক্তির মতো কিছু বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন থাকতে পারে। চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে মিডিয়াতেও অস্পষ্টতা রয়েছে। ইরান ছাড়া নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই।

যুদ্ধ একেবারেই ব্যর্থ ছিল

একটি বিষয় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই যুদ্ধ একেবারেই ব্যর্থ ছিল। এটি ছিল মোসাদের একটি অপারেশন, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই যুদ্ধে কোনো কৌশলগত অর্জন নেই। কিন্তু তা অগণিত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতৃত্ব দায়ী। কূটনৈতিকভাবে ইসরায়েল কার্যত একটি ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ট্রাম্প নিজেই নেতানিয়াহুকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজ করেছেন। ইরানকেও এই যুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি ছিল উভয়পক্ষের জন্য একটি পরাজয়ের যুদ্ধ।

লড়াই থামানোর জন্য উভয় পক্ষেরই এখন যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইসরায়েল হয়তো শান্তি বিঘ্নিত করতে চাইবে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তাদের সমর্থনের পতন ঘটেছে। তাদের পক্ষে আগের মতো বিপর্যয়কর খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভাষা থেকে এটি স্পষ্ট যে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো এখন ইসরায়েলের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সাথে চলতে নারাজ।

চুক্তির অস্পষ্টতাগুলো আসলে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। যেমন, হরমুজ প্রণালিতে টোল না থাকলেও ‘ফি’ বা মাশুল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইনিভাবে টোল ও ফি-এর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, দিনশেষে এটি ইরানের জন্য নতুন একটি ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা এক ধরনের ছাড় বা পরাজয়। তাই বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে ট্রাম্প প্রশাসন প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়বে।

এক্ষেত্রে একদিকে জায়নবাদী লবি চুক্তিটিকে ‘দুষ্টু শাসনের প্রতি ছাড়’ হিসেবে আক্রমণ করবে। অন্যদিকে রাজনীতি সচেতন মানুষ প্রশ্ন তুলবে—কংগ্রেসের অনুমোদন বা ছাড়া কেন প্রেসিডেন্ট এই অযৌক্তিক যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কেন কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হলো না? এই যুদ্ধবিরোধী সমালোচনা অদূর ভবিষ্যতে বাড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জায়নবাদী লবির প্রভাব যে সহসাই শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা বলা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য চিরতরে হারিয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ম নেই। বোমাবর্ষণ বা মানুষ হত্যার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘের চার্টারের কোনো তোয়াক্কা এখন আর করা হয় না। বর্তমানে আমরা একদল ‘গ্যাংস্টার’ মানসিকতার মানুষের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছি। তারা আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে কেবল শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। তাদের কাছে কোনো নৈতিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী অভিযানটি মূলত ভেনেজুয়েলার মতো একটি একদিনের পরিকল্পনার আদলে সাজানো হয়েছিল। তারা ভেবেছিল নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এটি তাদের আনাড়ি ও অহংকারী মানসিকতারই পরিচয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক পতনের ইঙ্গিত। জাতিসঙ্ঘের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বা কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর কার্যকরভাবে কাজ করছে না। ছোট একটি গোষ্ঠী স্বেচ্ছাচারীভাবে দেশ দুনিয়া চালাচ্ছে।

এই যুদ্ধ তাদের ‘গ্যাংস্টার’সুলভ পররাষ্ট্রনীতির অকার্যকারিতা ফুটিয়ে তুলেছে। বিগ টেক কোম্পানিগুলো (যেমন প্যালান্টিয়ার) এবং ইসরায়েলি শেয়ার বাজার এই যুদ্ধ থেকে মুনাফা পেয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বা কৌশলগত আধিপত্যের দাবি চিরতরে হারিয়েছে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক যুদ্ধ ছিল অমানবিক। যুক্তরাষ্ট্র কৌশলে ইরানের বৈধ সম্পদগুলোকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। তবে মার্কিন সামরিক শক্তির কৌশলগত সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট। ইউক্রেন, ইরান কিংবা পূর্ব এশিয়াই রকথা সত্য। যুক্তরাষ্ট্র তার আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে এখনো বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু ব্রিকসসহ অন্যান্য দেশ কেন এই অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধের বিপরীতে এখনো কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছে না, সেটি একটি বড় ধাঁধা।

ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কোনো কৌশলের পরিবর্তন নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি নতুন বাস্তবতা। যখন কোনো শক্তি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং বারবার ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন একপর্যায়ে তাদের পথ বদলাতেই হয়। ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে অনেকেই ‘নাটক’ মনে করছেন। কিন্তু ইসরায়েলি মিডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভিন্নমতের ধারা দেখলে মনে হয় না এটি নিছক অভিনয়।

সাধারণত ওয়াশিংটনের নীতি হলো—যুদ্ধ সফল না হলেও দাবি করা যে, অন্তত প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা গেছে। কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা ইরানের সাথে এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে কোনো সুবিধা পায়নি। উলটো ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র আজ আরও বেশি দুর্বল অবস্থানে। এই যুদ্ধগুলো যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার ফলাফল মোটেও তেমন হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষয়ক্ষতি এবং মিত্রদের সাথে সম্পর্কের অবনতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করবে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে। নিরাপত্তার নামে তারা আর অসীম পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। এখন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার সময় এসেছে।

বিশ্ব পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন

মূলত বিশ্ব পরিস্থিতি এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে একমেরু শক্তির মুকুটধারী মনে করত। তখন মনে করা হত যে বিশ্ব আধিপত্য ধরে রাখতে ইউরেশিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ জরুরি এবং এর জন্য রাশিয়াকে দুর্বল করে চীন-রাশিয়া-ইরান জোট ঠেকানো প্রয়োজন। কিন্তু আজ সেই বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে গেছে। চীনের উত্থান এবং ইরান-চীন-রাশিয়ার জোট সেই তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অচলাবস্থায় আছে যেখানে তারা রাশিয়া, ইরান কিংবা চীনের ওপর কোনোভাবেই নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারছে না। ইউক্রেন থেকে হাত গুটিয়ে নেওয়া বা তাইওয়ানের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, ইউরেশিয়া বা এশিয়ার ওপর তাদের আধিপত্য এখন আর অজেয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখনো শক্তিশালী। কিন্তু তাদের ‘গ্যাংস্টারিজম’ বা কুৎসিত ও অবৈধ অর্থনৈতিক কৌশলগুলো আগের মতো কার্যকর নয়। তারা শক্তি প্রয়োগ করে যে আধিপত্য ধরে রাখতে চেয়েছিল, তা আজ ম্লান হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন এখনো একটি অসংলগ্ন সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা নিয়ে টিকে আছে। কিন্তু তাদের সীমানা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট। মার্কিন আধিপত্যের সেই একমেরু মুহূর্তটি এখন অতীত। এখন মেনে নিতে হবে যে পৃথিবী আর একক কোনো শক্তির হাতের মুঠোয় নেই।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ রুশদের চীনের আরও কাছে টেনে এনেছে, আবার ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় তারা রাশিয়া ও চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, যখন কোনো নীতি বাস্তবতাকে অস্বীকার করে তখন তার পরিণতি হয় ভয়াবহ।

পশ্চিমা প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব শেষ

পশ্চিমা আধিপত্যের ভিত্তি যে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব—এই ধারণাটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। যদি আমরা এই অহংবোধ ত্যাগ করতে পারি, তবেই বিশ্বজুড়ে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আজ বিশ্ব অর্থনীতি সামরিক কৌশলবিদদের কব্জায়। বাণিজ্য ও অর্থকে এখন তারা পারস্পরিক লাভের হাতিয়ার হিসেবে না দেখে যুদ্ধের কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আমি চাই অর্থনীতি এমন হাতে ফিরে আসুক, যারা মুক্ত বাণিজ্য ও পারস্পরিক সুবিধার শক্তিতে বিশ্বাসী।

Ad 300x250

সম্পর্কিত