কৃষিতে ডিজিটাল বিপ্লব ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে বিএনপি সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে প্রথম ধাপে ১০টি উপজেলায় প্রাক-পাইলট ভিত্তিতে কার্ডটির উদ্বোধন করা হবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি কৃষক কার্ড। একে বলা যায়, কৃষক, জেলে, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুধ উৎপাদকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা।
বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা এই কার্ডকে দেশের কৃষকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, এটি শুধু কার্ড নয়; বরং কৃষকদের জন্য তা অগ্রাধিকার ও সম্মানের প্রতিফলন ঘটাবে। আর এর লক্ষ্য হলো কৃষক ও খামারিদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতি দূর করা এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়ন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের স্বীকৃতি দেওয়া ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। এজন্য সোনালী ব্যাংকে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা হবে। এই অ্যাকাউন্ট ভবিষ্যতে ডিজিটাল আর্থিক সেবা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রথম পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ২১ হাজার জনকে এর আওতায় আনা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের কৃষি খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়লেও এখনও নানা কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। শ্রমসংকট, কৃষি উপকরণ ও অর্থায়নে সীমিত প্রবেশাধিকার, জলবায়ু ঝুঁকি এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষকরা ন্যায্য মূল্য ও সরকারি সেবা থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হন।
এই প্রেক্ষাপটে কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল আর্থিক ও সেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সরাসরি আর্থিক সহায়তা, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং ঋণ, বিমা ও বাজার তথ্যের মতো সেবা একত্রিত করার লক্ষ্য নিয়ে আসছে। একই সঙ্গে এটি সমন্বিত জাতীয় কৃষক ডাটাবেজ তৈরিতে সহায়তা করবে, যা নীতিনির্ধারণকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষক কার্ড ব্যবস্থার সফলতা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উন্নত কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
কৃষক কার্ড কী, এতে কী থাকবে
কৃষক কার্ড এক ধরনের ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এটি একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজের অংশ, যেখানে একজন কৃষকের প্রায় ৪৫ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। কৃষকের জমির পরিমাণ, চাষাবাদের ধরন, উৎপাদিত ফসল, আর্থিক লেনদেনসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি ডিজিটাল প্রোফাইলে সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া কৃষকদের চাষাবাদ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হবে।
জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ৫ শতাংশের কম জমির মালিকদের ভূমিহীন কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫ থেকে ৪৯ শতাংশ জমির মালিকদের প্রান্তিক কৃষক হিসেবে ধরা হয়েছে। ৫০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমির মালিকদের ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। আর ২৫০ থেকে ৫০০ শতাংশের মালিকদের মাঝারি এবং তার চেয়ে বেশির মালিকদের বড় কৃষক হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু সরকারি হিসাবে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মিলিয়ে এই সংখ্যা ২ কোটি ৭৫ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রতি বছর গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হবে। এর জন্য চার বছরে প্রায় ৬৮১ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এক প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সহায়তা একত্রিত করা হবে। এই কার্ডের আওতায় ১০টি প্রধান সেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে জমির পরিমাণ অনুযায়ী ভর্তুকিমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং পশুখাদ্য সরবরাহ। এছাড়া সরকারি ভর্তুকি, নগদ প্রণোদনা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
এর পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষিঋণ দেওয়া হবে। জলবায়ু ঝুঁকি, রোগ এবং বাজারের অস্থিরতার বিরুদ্ধে ফসল, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে বিমা সুবিধা দেওয়া হবে। ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রির জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। কৃষকদের জন্য আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এলএসটিডি প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, “কৃষক স্মার্টকার্ড বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই কৃষি অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতির ওপরও এই উদ্যোগের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। যখন কৃষক সহজে ঋণ পাবেন, ন্যায্যমূল্যে উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন এবং উৎপাদিত পণ্য ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন, তখন তার আয় বাড়বে। এর ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্য কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত মূলত ক্ষুদ্র কৃষকদের ওপর নির্ভরশীল, যারা উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জলবায়ু ঝুঁকি, মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণের কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এই প্রেক্ষাপটে কৃষক কার্ড কর্মসূচি একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা, কৃষি উপকরণ এবং বীমা সুবিধা দেওয়া হলে কৃষকদের উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
একই সঙ্গে বন্যা, খরা বা বাজারদরের পতনের মতো ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বাজার তথ্য পাওয়ার সুযোগ কৃষকদের আয় স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। এর ফলে বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়বে।
ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, “এই উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আরও স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং তথ্যনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করবে, যেখানে কৃষকই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এবং উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবে। তবে এতে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, যেমন প্রকৃত কৃষকদের সনাক্তকরন। এ ছাড়া কৃষির সঙ্গে যুক্ত অন্যদেরও ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “উদ্যোগটি শুধু ভুমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিৎ নয়। শিক্ষিত, তরুণ এবং আধা-বাণিজ্যিক কৃষকদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। যেসব কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী এবং বাজারভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করতে সক্ষম, তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এই শ্রেণির কৃষকেরাই উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নতুন উদ্ভাবন এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বৃহৎ পরিসরে দক্ষতা বাড়ানো এবং কৃষি খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি কঠিন হয়ে পড়বে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান সতর্ক করেছেন, সঠিকভাবে কৃষক শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অ-কৃষক বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে।
কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন খরচ কমানো, উপকরণের দক্ষ ব্যবহার এবং জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে। সেচ ও যান্ত্রিক সুবিধা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডি স্ট্রিমকে বলেন, ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও চাষাবাদ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য দেওয়ার ফলে উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে। তবে কৃষকদের আর্থিক সহায়তায় ঝুঁকিও আছে, কারণ তারা টাকা নিয়ে অন্য কোথাও খরচ করে ফেলতে পারে। তাই কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।”
তাঁর মতে, কৃষকদের উন্নতির জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না বরং কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এজন্য মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের মার্কেট অ্যাকসেস বাড়াতে হবে, সরাসরি বাজারে তাদের ফসল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকদের সমবায় সমিতি এবং সরকারের বিভন্ন দপ্তর মিলে এটা করতে পারে।’
তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, “কৃষক কার্ড কৃষিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে সেই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। চালু হোক তারপর বোঝা যাবে এটি কৃষিতে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে।”=
উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা
উন্নত দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানে কৃষকদের জন্য অনেক বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সেসব দেশে সরকারি সহায়তা অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের মোট আয়ের ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাশাপাশি কৃষকরা ফসল বীমা, মূল্য সহায়তা, গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি এবং উন্নত অবকাঠামোর সুবিধাও পান।
তুলনায় বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি আর্থিক দিক থেকে অনেক সীমিত। এখানে প্রাথমিক প্রণোদনা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।
ভারতেও কৃষকদের জন্য দুটি প্রধান কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর একটি হলো পিএম-কিসান, যার মাধ্যমে বছরে ৬ হাজার রুপি সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়, যা সময়মতো পরিশোধ করলে কার্যত ৪ শতাংশে নেমে আসে।
বাংলাদেশের ফার্মার কার্ডের তুলনায় ভারতের পিএম-কিসান নগদ সহায়তা বেশি হলেও তা শুধুমাত্র এতেই সীমাবদ্ধ। বিপরীতে বাংলাদেশের কার্ডে ভর্তুকি, ঋণ, বীমা, বাজার সুবিধা এবং পরামর্শসহ একাধিক সেবা একত্রিত করা হয়েছে।
অধ্যাপক এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডির মতে, বাজেট সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কৃষক কার্ড ডিজিটাল পরিসর ও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। তিনি বলেন, “এটি উন্নত দেশের মতো সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ প্রদান, বিমা সুবিধা, তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ এবং জাতীয় কৃষক ডাটাবেজ তৈরির মডেল অনুসরণ করছে। এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে, আর্থিক সহায়তার পরিমাণ কম হলেও কার্যকর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উন্নত দেশের সঙ্গে ব্যবধান অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”