জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

তেলের মূল্যবৃদ্ধি যেভাবে খাদ্যের দামও বাড়াতে পারে

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ১১: ৪৯
এআই জেনারেটেড ছবি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামালার শুরু হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯০ থেকে ১২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে উঠানামা করছে। ২০২২ সালের পর এটিই তেলের সর্বোচ্চ মূল্যস্তর। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু সমুদ্রপথটি সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ৩৯ কিলোমিটার প্রশস্ত। প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে ২ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, বিশ্বে উৎপাদিত তেলের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ৭৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয় এবং এর বড় অংশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বা চোকপয়েন্টের মাধ্যমে চলাচল করে, যেগুলোর কার্যকর বিকল্প খুবই সীমিত।

কেন তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। সরবরাহ কমে গেলে এবং চাহিদা একই থাকলে তেলের দাম বাড়তে থাকে। এর ফলে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উভয়ের ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে এটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, তেল আবিব এবং তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো সমঝোতা না হলে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে। কার্বনচেইন প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্লেষক ইসমাইল জাবিয়েভ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এখানে মূল বিষয় হলো ঝুঁকি।’

তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে সস্তা ড্রোনের উপস্থিতিও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরান সমুদ্রের ওপর কোনো স্থায়ী অবরোধ তৈরি না করলেও ড্রোন হামলার আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। সব উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেলেও গোপন স্থান থেকে হামলা চলতে পারে। তাই সংঘাত যতদিন চলবে, ততদিন এই বিঘ্নও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিহাসে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়। ওই বছরের ১১ জুলাই ইউরোপীয় মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১৪৭ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১৪৭ দশমিক ২৭ ডলার। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবার তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে।

ইতিহাসে আরও কয়েকবার তেলের সরবরাহ সংকট দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৩ সালের তেল অবরোধ, ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধ, ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইরাক আক্রমণ এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ।

ইসমাইল জাবিয়েভ বলেন, ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি তুলনীয়। তখন ইরাক ও কুয়েত উভয়ই বড় তেল উৎপাদক ছিল এবং সরবরাহে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে বিশ্বে দীর্ঘ সময় উচ্চ তেলের দাম বজায় ছিল এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যায়।

কোন দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৮৯ শতাংশই এশিয়ার বাজারে যায়। এই তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলো হলো চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে।

যদি এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় সীমিত থাকে, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজতে হবে। তবে বিকল্প পথের সুযোগ খুবই সীমিত। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (হাবশান–ফুজাইরাহ পাইপলাইন) মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব।

সৌদি আরবের পাইপলাইনটি পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছেছে। এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির একটি বিকল্প পথ। তবে ক্লেপলার নামের বৈশ্বিক বাণিজ্য তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরব যে ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে, তার মধ্যে ৬ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ব্যারেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে।

গাভেকাল রিসার্চ জানিয়েছে, উপসাগরীয় রপ্তানিকারক দেশগুলো সর্বোচ্চ আরও প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিকল্প টার্মিনালে সরিয়ে নিতে পারে। তবে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

ইসমাইল জাবিয়েভ বলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং ফুজাইরাহ পাইপলাইন থাকলেও তাদের সক্ষমতা মূল সমুদ্রপথের তুলনায় অনেক কম। ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে তুরস্কের জেইহান বন্দরে যাওয়ার কিরকুক-জেইহান পাইপলাইনও রয়েছে, তবে সেটি সীমিত উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরাকের প্রধান উৎপাদন দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষেত্রগুলো থেকে আসে, তাই এটিও পূর্ণ বিকল্প নয়।

জ্বালানি ছাড়াও তেল-গ্যাস থেকে তৈরি হয় যেসব পণ্য

তেল ও গ্যাস শুধু জ্বালানি নয়, হাজারো পণ্যের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্লাস্টিকজাত পণ্য যেমন পানির বোতল, খাদ্য প্যাকেজিং, মোবাইল ফোনের কভার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সিরিঞ্জ অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি।

সিনথেটিক কাপড় যেমন পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিক তৈরিতেও তেল ব্যবহৃত হয়। খেলাধুলার পোশাক থেকে কার্পেট পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যে এসব উপাদান ব্যবহৃত হয়।

প্রসাধনী শিল্পেও তেলের বড় ভূমিকা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম জেলি, লিপস্টিক ও কনসিলারের মতো পণ্যে তেলভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করা হয়।

গৃহস্থালি অনেক পণ্য যেমন ডিটারজেন্ট, বাসন ধোয়ার তরল এবং রং তৈরিতেও পেট্রোলিয়ামজাত উপাদান ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও অনেকাংশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।

প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি সার ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং খাদ্য উৎপাদনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

তেলের দাম বাড়লে খাদ্যের দাম কেন বাড়ে

তেল ও গ্যাস শুধু জ্বালানি নয়, এগুলো পুরো খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার মৌলিক কাঁচামালও। কৃষি উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, জাহাজ পরিবহন এবং সংরক্ষণ-সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

তেলের দাম এবং খাদ্যের দাম সাধারণত একসঙ্গে ওঠানামা করে। কারণ খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রায় প্রতিটি ধাপে জ্বালানির ব্যবহার রয়েছে। ক্ষেতে ব্যবহৃত সার উৎপাদন থেকে শুরু করে ফসল পরিবহন এবং বাজারে সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি প্রয়োজন। ফলে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়।

তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে জাহাজ পরিবহন এবং পণ্য পরিবহনের খরচে। অর্থনীতিবিদ ডেভিড ম্যাকউইলিয়ামস বলেন, পরিবহনই বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া পুরোপুরি লজিস্টিকস ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিষয়।

তেলের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত স্ট্যাগফ্লেশন বা একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ১৯৭৩, ১৯৭৮ এবং ২০০৮ সালের তেল সংকটের পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা দেখা গিয়েছিল।

বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই প্রভাব আরও দ্রুত দেখা যায়। কারণ এসব দেশের মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় করে এবং অনেক দেশকে বিপুল পরিমাণ শস্য ও সার আমদানি করতে হয়। ফলে তেলের দাম বাড়লে এসব দেশে দ্রুত খাদ্য সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশ প্রায় শতভাগ তেল আমদানি করে এবং মোট গ্যাসের প্রায় ২৮ থেকে ৩৫ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে আমদানি করা হয়। জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

এতে টাকার ওপর চাপ তৈরি হয় এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো—ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেচ পাম্প চালানোর খরচ বৃদ্ধি পায়। এতে ধান, সবজি ও পোলট্রি উৎপাদনের ব্যয় বাড়ে। খামার থেকে বাজার এবং বন্দর পর্যন্ত খাদ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। আমদানি করা গম, ভোজ্যতেল ও সারের দাম বাড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, “রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চক্র শুরু হয়েছিল তা এখনও শেষ হয়নি। যদি ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, এবং তেলের দাম ব্যারেল ১৫০ ডলারে পৌঁছায় তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, সেখানে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ, ব্যয় সংযম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং জরুরি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ততই এর প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গভীরভাবে পড়বে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত