এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবা (২৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে টেলিফোন করেন। তার আগে তিনি জ্বালানি সহযোগিতা চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠান। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের চলমান গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং বিশেষ করে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের শেষে মালয়েশিয়ার ভান্ডারে অপরিশোধিত তেলের মজুত ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ব্যারেল। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলের মজুত বলেও উল্লেখ করেছে ইআইএ।
২০২৩ সালে নতুন ১৯টি তেল ও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি। সেই হিসাব বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, মালয়েশিয়ার তেলভাণ্ডার আগামী ১২–১৪ বছর স্থায়ী হতে পারে। এরমধ্যে যদি নতুন কূপ আবিষ্কৃত হয় এবং উন্নত উত্তোলন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, সেক্ষেত্রে হিসাবের কিছু হেরফের হতে পারে।
ইআইএ আরও জানাচ্ছে, মালয়েশিয়ার প্রকৃত শক্তি তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস। ২০২৩ সালের শেষে দেশটির প্রমাণিত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ছিল প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। যদিও ২০১৪ সালে এটি ছিল প্রায় ১০১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে গত ১২ বছরে প্রায় ৬৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমেছে। তবে সম্প্রতি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ফলে কয়েক বছর ধরে মজুত আবার কিছুটা বেড়েছে। একই সময়ে দেশের গ্যাস উৎপাদনও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মালয়েশিয়ার গ্যাসক্ষেত্রগুলোর বড় অংশ সারাওয়াক ও সাবাহ উপকূলের গভীর সমুদ্রে অবস্থিত। এসব ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের একটি বড় অংশ এলএনজিতে রূপান্তর করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং অন্যান্য এশীয় দেশে রপ্তানি করে মালয়েশিয়া সরকার।
মালয়েশিয়ার জ্বালানি খাতের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস। ১৯৭৪ সালের পেট্রোলিয়াম ডেভলপমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, দেশটির স্থল ও সমুদ্রভাগের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের একচ্ছত্র অধিকার এই প্রতিষ্ঠানের হাতে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোও সাধারণত পেট্রোনাসের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করে।
প্রেট্রোনাসের ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, তাদের কাছে সম্ভাব্য ও প্রমাণিত জ্বালানির মজুত রয়েছে ৮৬৪ কোটি বিলিয়ন ব্যারেল তেলসমতূল্য। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসই বেশি। এ ছাড়া আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্ভাব্য সম্পদ রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হতে পারে।
মালয়েশিয়ার অনেক পুরোনো তেলক্ষেত্র এখন ‘ম্যাচিউর ফিল্ডে’ পরিণত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ধরে রাখতে গভীর সমুদ্র, ছোট আকারের ক্ষেত্র এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত উত্তোলনে বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। এগুলোর খরচও তুলনামূলক বেশি। এ কারণেই সরকার ও পেট্রোনাস নতুন অনুসন্ধান, বিদেশি অংশীদরিত্ব এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশটি কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যও গ্রহণ করেছে। ১২তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় (২০২১–২০২৫) বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য নির্গমনের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
মালয়েশিয়া এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক। তারপরও দেশটিকে জ্বালানি আমদানি করতে হয়। কারণ অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেট্রোনাস বিদেশ থেকেও দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি করছে।
অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কাতার, ওমান বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ থাকতে মালয়েশিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাসসংকট, মালয়েশিয়ার জ্বালানি সক্ষমতা এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে।
বাংলাদেশের গ্যাসচাহিদা প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট হলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ অনেক সময়ই এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। এর ওপর সম্প্রতি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে গেছে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র গ্যাসসংকট তৈরি হয়েছে। সরকারও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্যেই সরকার মালয়েশিয়ার দিকে সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়েছে। কারণ মালয়েশিয়া এখনো বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত পরিমাণ অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার সক্ষমতা মালয়েশিয়ার রয়েছে।
তাছাড়া গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় জ্বালানি সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া এলএনজি সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোনাস-পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।
এমনকি বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানিয়েছে। অর্থাৎ গতকালের ফোনকল আসলে আগে থেকেই তৈরি হওয়া একটি কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতা।
এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক শুধু শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশ বর্তমানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বিনিয়োগ, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি, কৃষি, অবকাঠামোসহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের আসিয়ান ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের আকাঙ্ক্ষাকেও সমর্থন করেছে। এসব কারণে জ্বালানি সহযোগিতা এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এটি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ।
অতীতে বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য প্রধানত কাতার, ওমান বা আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের দিকে তাকিয়ে থাকত। এখন সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গেও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে। যদি পেট্রোনাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ, যৌথ বিনিয়োগ কিংবা বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান সহযোগিতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অবশ্য এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার ফল, বাণিজ্যিক শর্ত এবং মালয়েশিয়ার বাস্তব সরবরাহ সক্ষমতার ওপর। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, তবে কী ধরনের সহায়তা দেবে বা কবে দেবে—সেই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।
তথ্যসূত্র: ইআইএ, পেট্রোনাস, ডিপার্টমেন্ট অব স্ট্যাটিকটিকস অব মালয়েশিয়া, মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স মালয়েশিয়া ও বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবা (২৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে টেলিফোন করেন। তার আগে তিনি জ্বালানি সহযোগিতা চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠান। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের চলমান গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং বিশেষ করে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের শেষে মালয়েশিয়ার ভান্ডারে অপরিশোধিত তেলের মজুত ছিল প্রায় ২৭০ কোটি ব্যারেল। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলের মজুত বলেও উল্লেখ করেছে ইআইএ।
২০২৩ সালে নতুন ১৯টি তেল ও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি। সেই হিসাব বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, মালয়েশিয়ার তেলভাণ্ডার আগামী ১২–১৪ বছর স্থায়ী হতে পারে। এরমধ্যে যদি নতুন কূপ আবিষ্কৃত হয় এবং উন্নত উত্তোলন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, সেক্ষেত্রে হিসাবের কিছু হেরফের হতে পারে।
ইআইএ আরও জানাচ্ছে, মালয়েশিয়ার প্রকৃত শক্তি তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস। ২০২৩ সালের শেষে দেশটির প্রমাণিত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ছিল প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। যদিও ২০১৪ সালে এটি ছিল প্রায় ১০১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে গত ১২ বছরে প্রায় ৬৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমেছে। তবে সম্প্রতি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ফলে কয়েক বছর ধরে মজুত আবার কিছুটা বেড়েছে। একই সময়ে দেশের গ্যাস উৎপাদনও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মালয়েশিয়ার গ্যাসক্ষেত্রগুলোর বড় অংশ সারাওয়াক ও সাবাহ উপকূলের গভীর সমুদ্রে অবস্থিত। এসব ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের একটি বড় অংশ এলএনজিতে রূপান্তর করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং অন্যান্য এশীয় দেশে রপ্তানি করে মালয়েশিয়া সরকার।
মালয়েশিয়ার জ্বালানি খাতের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস। ১৯৭৪ সালের পেট্রোলিয়াম ডেভলপমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, দেশটির স্থল ও সমুদ্রভাগের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের একচ্ছত্র অধিকার এই প্রতিষ্ঠানের হাতে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোও সাধারণত পেট্রোনাসের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করে।
প্রেট্রোনাসের ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, তাদের কাছে সম্ভাব্য ও প্রমাণিত জ্বালানির মজুত রয়েছে ৮৬৪ কোটি বিলিয়ন ব্যারেল তেলসমতূল্য। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসই বেশি। এ ছাড়া আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্ভাব্য সম্পদ রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হতে পারে।
মালয়েশিয়ার অনেক পুরোনো তেলক্ষেত্র এখন ‘ম্যাচিউর ফিল্ডে’ পরিণত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ধরে রাখতে গভীর সমুদ্র, ছোট আকারের ক্ষেত্র এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত উত্তোলনে বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। এগুলোর খরচও তুলনামূলক বেশি। এ কারণেই সরকার ও পেট্রোনাস নতুন অনুসন্ধান, বিদেশি অংশীদরিত্ব এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশটি কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যও গ্রহণ করেছে। ১২তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় (২০২১–২০২৫) বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য নির্গমনের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
মালয়েশিয়া এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক। তারপরও দেশটিকে জ্বালানি আমদানি করতে হয়। কারণ অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেট্রোনাস বিদেশ থেকেও দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি করছে।
অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কাতার, ওমান বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ থাকতে মালয়েশিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাসসংকট, মালয়েশিয়ার জ্বালানি সক্ষমতা এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে।
বাংলাদেশের গ্যাসচাহিদা প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট হলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ অনেক সময়ই এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। এর ওপর সম্প্রতি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে গেছে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র গ্যাসসংকট তৈরি হয়েছে। সরকারও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্যেই সরকার মালয়েশিয়ার দিকে সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়েছে। কারণ মালয়েশিয়া এখনো বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত পরিমাণ অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার সক্ষমতা মালয়েশিয়ার রয়েছে।
তাছাড়া গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় জ্বালানি সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া এলএনজি সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোনাস-পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।
এমনকি বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানিয়েছে। অর্থাৎ গতকালের ফোনকল আসলে আগে থেকেই তৈরি হওয়া একটি কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতা।
এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক শুধু শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশ বর্তমানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বিনিয়োগ, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি, কৃষি, অবকাঠামোসহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের আসিয়ান ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের আকাঙ্ক্ষাকেও সমর্থন করেছে। এসব কারণে জ্বালানি সহযোগিতা এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এটি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ।
অতীতে বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য প্রধানত কাতার, ওমান বা আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের দিকে তাকিয়ে থাকত। এখন সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গেও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে। যদি পেট্রোনাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ, যৌথ বিনিয়োগ কিংবা বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান সহযোগিতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অবশ্য এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার ফল, বাণিজ্যিক শর্ত এবং মালয়েশিয়ার বাস্তব সরবরাহ সক্ষমতার ওপর। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, তবে কী ধরনের সহায়তা দেবে বা কবে দেবে—সেই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।
তথ্যসূত্র: ইআইএ, পেট্রোনাস, ডিপার্টমেন্ট অব স্ট্যাটিকটিকস অব মালয়েশিয়া, মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স মালয়েশিয়া ও বাসস
.png)

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা দীর্ঘ নিট প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলন শেষ হলেও, আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে? ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির বিস্তারের কারণেই ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। কারণ বিদ্যুৎ এখন শুধু ঘর আলোকিত করার শক্তি নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধি
২৮ জুলাই ২০২৬
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক পাশে পর্দা দিয়ে ‘ফিমেল জোন’ তৈরির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি লিঙ্গ বৈষম্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া আদৌ ডাকসুর কাজ কি না।
২৮ জুলাই ২০২৬
‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে, দূর অজানায় চায় হারাতে...!’ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গানের সুরে তৈরি একটি ছোট্ট ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছিল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের।
২৭ জুলাই ২০২৬