মারুফ ইসলাম

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ২০২৩ সালে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘২০৩৫ সালের পর দেশটিতে আর কোনো নতুন পেট্রোল বা ডিজেলচালিত গাড়ি বিক্রি হবে না। ভবিষ্যতের পরিবহন হবে বিদ্যুৎনির্ভর।’ এরপর থেকে যুক্তরাজ্যজুড়ে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা শুরু হয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে? ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির বিস্তারের কারণেই ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। কারণ বিদ্যুৎ এখন শুধু ঘর আলোকিত করার শক্তি নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক যান, স্মার্ট শিল্প ও ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে বছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। কয়েক বছর আগেও এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
এই অতিরিক্ত চাহিদার পেছনে তিনটি বড় কারণ কাজ করছে—চীনের বিশাল শিল্প ও উৎপাদন ব্যবস্থা, ভারতের দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়ন এবং বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্ফোরণ।
চীনে বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ৯ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। চায়না ইলেকট্রিসিটি কাউন্সিলের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকেই দেশটিতে বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং সেই প্রবণতা এখনো অব্যাহত।
চীনের পরেই রয়েছে ভারত। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এ দেশটির বার্ষিক বিদ্যুতের ব্যবহার ১ দশমিক ৮ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছে যাবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছবিটাও কম নাটকীয় নয়। আইইএর ২০২০ সালের ইলেকট্রিসিটি মার্কেট রিপোর্ট জানাচ্ছে, গত দুই দশকে এসি, রেফ্রিজারেটরসহ গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় এই অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। আর এই পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৮০ শতাংশের বেশি মাত্র চারটি দেশে কেন্দ্রীভূত। ইন্দোনেশিয়া ব্যবহার করে প্রায় ২৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ২২ শতাংশ, থাইল্যান্ড ১৯ শতাংশ এবং মালয়েশিয়া ১৫ শতাংশ।
দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগেও ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন বড় পরিসরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঝুঁকেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সেই পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর আইইএ ফিলিপাইনে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থগিতাদেশ দেয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল। ফলে দেশটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং বৃহৎ সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে বিকল্প শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ—ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম মিলে গড়ে তুলেছে ‘আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড’।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক দেশের বিদ্যুৎ অন্য দেশে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। লাওসের জলবিদ্যুৎ সিঙ্গাপুর পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুর ২০৩০ সালের মধ্যে আসিয়ান দেশগুলো থেকে অন্তত ৪ গিগাওয়াট সৌর ও নিম্ন-কার্বন বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে নিজস্বভাবে ২ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি ২৩০ কেভি এসি লাইনের মাধ্যমে তারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিনিময়ও করছে।
ইন্দোনেশিয়া ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন পার্টনারশিপ (জেইটিপি)’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৩৪ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। ২০৫০ সাল পর্যন্তও এই উচ্চমাত্রার নবায়নযোগ্য অংশ ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

থাইল্যান্ডও ধীরে ধীরে তার প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, বায়ুশক্তি ও সৌরবিদ্যুতের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘লাওস-থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া পাওয়ার ইন্টিগ্রেশন’ প্রকল্প। এই গ্রিড দিয়ে লাওস থেকে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এতে যুক্ত হবে সিঙ্গাপুরও।
এই বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য চলছে ‘আসিয়ান ইন্টারকানেকশন মাস্টারপ্ল্যান স্টাডি’।
শুধু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই হবে না; সেটি কম ক্ষতিতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে ‘সুপার কন্ডাক্টর’ প্রযুক্তি।
সেটি কেমন? সাধারণ বৈদ্যুতিক তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় ইলেকট্রনের ঘর্ষণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি তাপে নষ্ট হয়। কিন্তু সুপার কন্ডাক্টরের ভেতর দিয়ে প্রায় কোনো বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ ছাড়াই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। ফলে শক্তির অপচয় প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
এই প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। জার্মানি ২০২০ সালে মিউনিখে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার কন্ডাক্টিং ট্রান্সমিশন কেবল স্থাপন করে নতুন যুগের সূচনা করেছে।
চীন আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। দেশটি জিনজিয়াং থেকে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার কন্ডাক্টিং লাইনের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি ২০২১ সালে সাংহাইয়ে ৩৫ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি সুপার কন্ডাক্টিং লাইন চালু করেছে।
জাপান বিদ্যুচ্চালিত ট্রেনের পরিচালন ব্যয় কমাতে এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। দেশটির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিয়াজাকি প্রিফেকচারে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার কন্ডাক্টিং লাইন স্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এখন নগর বিদ্যুৎ গ্রিড এবং ম্যাগলেভ ট্রেনেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪-২৫ সালে বৈশ্বিক সুপার কন্ডাক্টর বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি বেড়ে ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশ হাঁটছে কোন পথে
বিশ্ব নতুন প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতা এখনো অনেকটাই ভিন্ন। দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ক্রমে কমে আসছে। এরই মধ্যে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। বেড়েছে লোডশেডিং। আর গ্যাসসংকটে ভুগছে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ি।
এই বাস্তবতায় দেশের বিদ্যুৎ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার কয়েকটি সমান্তরাল কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। প্রথমত, নিজস্ব গ্যাস কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
যদিও পরিবেশগত উদ্বেগ ও অর্থায়ন সংকটে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে; তবু পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ির মতো বড় কেন্দ্রগুলো এখনো জাতীয় গ্রিডের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা।
নতুন রিনিউঅ্যাবল এনার্জি পলিসি ২০২৫-এ বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, রুফটপ সোলার এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। নেপাল ও ভুটান থেকে আরও বড় পরিসরে জলবিদ্যুৎ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সেটিকে দক্ষতার সঙ্গে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ৪০০ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, নতুন গ্রিড সাবস্টেশন এবং আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্মার্ট গ্রিড ও ডিজিটাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জার্মানি, চীন বা জাপানের মতো সুপার কন্ডাক্টিং ট্রান্সমিশন লাইনের যুগে বাংলাদেশ এখনো প্রবেশ করেনি। আপাতত দেশের অগ্রাধিকার হলো বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক করে তোলা। তবে বিশ্ব যেভাবে দ্রুত বিদ্যুতের নতুন যুগে প্রবেশ করছে, তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকেই এগোতে হবে।
একসময় প্রশ্ন ছিল—কত মেগাওয়াট উৎপাদন করা গেল। ইতোমধ্যে প্রশ্নটি বদলে গেছে। এখন জানতে হচ্ছে—কোন উৎস থেকে, কত কম খরচে, কত কম কার্বন নিঃসরণে এবং কত কম অপচয়ে সেই বিদ্যুৎ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নয়; বরং জ্বালানি বৈচিত্র্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্মার্ট গ্রিড, সুপার কন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি, যুক্তরাজ্য সরকারের ট্রানজিশন টু জিরো ইমিশন ভিহিকেল স্টেটমেন্ট, আসিয়ান সেন্টার ফর এনার্জি, ফরচুন বিজনেস ইনসাইটস ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলেপমেন্ট বোর্ড, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ২০২৩ সালে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘২০৩৫ সালের পর দেশটিতে আর কোনো নতুন পেট্রোল বা ডিজেলচালিত গাড়ি বিক্রি হবে না। ভবিষ্যতের পরিবহন হবে বিদ্যুৎনির্ভর।’ এরপর থেকে যুক্তরাজ্যজুড়ে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা শুরু হয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে? ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির বিস্তারের কারণেই ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। কারণ বিদ্যুৎ এখন শুধু ঘর আলোকিত করার শক্তি নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক যান, স্মার্ট শিল্প ও ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে বছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। কয়েক বছর আগেও এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
এই অতিরিক্ত চাহিদার পেছনে তিনটি বড় কারণ কাজ করছে—চীনের বিশাল শিল্প ও উৎপাদন ব্যবস্থা, ভারতের দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়ন এবং বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্ফোরণ।
চীনে বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ৯ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। চায়না ইলেকট্রিসিটি কাউন্সিলের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকেই দেশটিতে বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং সেই প্রবণতা এখনো অব্যাহত।
চীনের পরেই রয়েছে ভারত। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এ দেশটির বার্ষিক বিদ্যুতের ব্যবহার ১ দশমিক ৮ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছে যাবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছবিটাও কম নাটকীয় নয়। আইইএর ২০২০ সালের ইলেকট্রিসিটি মার্কেট রিপোর্ট জানাচ্ছে, গত দুই দশকে এসি, রেফ্রিজারেটরসহ গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় এই অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। আর এই পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৮০ শতাংশের বেশি মাত্র চারটি দেশে কেন্দ্রীভূত। ইন্দোনেশিয়া ব্যবহার করে প্রায় ২৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ২২ শতাংশ, থাইল্যান্ড ১৯ শতাংশ এবং মালয়েশিয়া ১৫ শতাংশ।
দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগেও ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন বড় পরিসরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঝুঁকেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সেই পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর আইইএ ফিলিপাইনে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থগিতাদেশ দেয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল। ফলে দেশটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং বৃহৎ সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে বিকল্প শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ—ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম মিলে গড়ে তুলেছে ‘আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড’।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক দেশের বিদ্যুৎ অন্য দেশে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। লাওসের জলবিদ্যুৎ সিঙ্গাপুর পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুর ২০৩০ সালের মধ্যে আসিয়ান দেশগুলো থেকে অন্তত ৪ গিগাওয়াট সৌর ও নিম্ন-কার্বন বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে নিজস্বভাবে ২ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি ২৩০ কেভি এসি লাইনের মাধ্যমে তারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিনিময়ও করছে।
ইন্দোনেশিয়া ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন পার্টনারশিপ (জেইটিপি)’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৩৪ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। ২০৫০ সাল পর্যন্তও এই উচ্চমাত্রার নবায়নযোগ্য অংশ ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

থাইল্যান্ডও ধীরে ধীরে তার প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, বায়ুশক্তি ও সৌরবিদ্যুতের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘লাওস-থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া পাওয়ার ইন্টিগ্রেশন’ প্রকল্প। এই গ্রিড দিয়ে লাওস থেকে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এতে যুক্ত হবে সিঙ্গাপুরও।
এই বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য চলছে ‘আসিয়ান ইন্টারকানেকশন মাস্টারপ্ল্যান স্টাডি’।
শুধু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই হবে না; সেটি কম ক্ষতিতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে ‘সুপার কন্ডাক্টর’ প্রযুক্তি।
সেটি কেমন? সাধারণ বৈদ্যুতিক তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় ইলেকট্রনের ঘর্ষণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি তাপে নষ্ট হয়। কিন্তু সুপার কন্ডাক্টরের ভেতর দিয়ে প্রায় কোনো বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ ছাড়াই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। ফলে শক্তির অপচয় প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
এই প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। জার্মানি ২০২০ সালে মিউনিখে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার কন্ডাক্টিং ট্রান্সমিশন কেবল স্থাপন করে নতুন যুগের সূচনা করেছে।
চীন আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। দেশটি জিনজিয়াং থেকে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার কন্ডাক্টিং লাইনের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি ২০২১ সালে সাংহাইয়ে ৩৫ কিলোভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি সুপার কন্ডাক্টিং লাইন চালু করেছে।
জাপান বিদ্যুচ্চালিত ট্রেনের পরিচালন ব্যয় কমাতে এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। দেশটির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিয়াজাকি প্রিফেকচারে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সুপার কন্ডাক্টিং লাইন স্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এখন নগর বিদ্যুৎ গ্রিড এবং ম্যাগলেভ ট্রেনেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪-২৫ সালে বৈশ্বিক সুপার কন্ডাক্টর বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি বেড়ে ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশ হাঁটছে কোন পথে
বিশ্ব নতুন প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতা এখনো অনেকটাই ভিন্ন। দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ক্রমে কমে আসছে। এরই মধ্যে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। বেড়েছে লোডশেডিং। আর গ্যাসসংকটে ভুগছে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ি।
এই বাস্তবতায় দেশের বিদ্যুৎ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার কয়েকটি সমান্তরাল কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। প্রথমত, নিজস্ব গ্যাস কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
যদিও পরিবেশগত উদ্বেগ ও অর্থায়ন সংকটে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে; তবু পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ির মতো বড় কেন্দ্রগুলো এখনো জাতীয় গ্রিডের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা।
নতুন রিনিউঅ্যাবল এনার্জি পলিসি ২০২৫-এ বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, রুফটপ সোলার এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আসিয়ানের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। নেপাল ও ভুটান থেকে আরও বড় পরিসরে জলবিদ্যুৎ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সেটিকে দক্ষতার সঙ্গে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ৪০০ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, নতুন গ্রিড সাবস্টেশন এবং আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্মার্ট গ্রিড ও ডিজিটাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জার্মানি, চীন বা জাপানের মতো সুপার কন্ডাক্টিং ট্রান্সমিশন লাইনের যুগে বাংলাদেশ এখনো প্রবেশ করেনি। আপাতত দেশের অগ্রাধিকার হলো বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক করে তোলা। তবে বিশ্ব যেভাবে দ্রুত বিদ্যুতের নতুন যুগে প্রবেশ করছে, তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকেই এগোতে হবে।
একসময় প্রশ্ন ছিল—কত মেগাওয়াট উৎপাদন করা গেল। ইতোমধ্যে প্রশ্নটি বদলে গেছে। এখন জানতে হচ্ছে—কোন উৎস থেকে, কত কম খরচে, কত কম কার্বন নিঃসরণে এবং কত কম অপচয়ে সেই বিদ্যুৎ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নয়; বরং জ্বালানি বৈচিত্র্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্মার্ট গ্রিড, সুপার কন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি, যুক্তরাজ্য সরকারের ট্রানজিশন টু জিরো ইমিশন ভিহিকেল স্টেটমেন্ট, আসিয়ান সেন্টার ফর এনার্জি, ফরচুন বিজনেস ইনসাইটস ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলেপমেন্ট বোর্ড, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
.png)

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক পাশে পর্দা দিয়ে ‘ফিমেল জোন’ তৈরির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি লিঙ্গ বৈষম্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া আদৌ ডাকসুর কাজ কি না।
১৩ ঘণ্টা আগে
‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে, দূর অজানায় চায় হারাতে...!’ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গানের সুরে তৈরি একটি ছোট্ট ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের টাইমলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছিল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের।
১৪ ঘণ্টা আগে
টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেল! সম্প্রতি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (ইএসডিও) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে পরিচিত ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের চারটির মধ্যে তিনটিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। মোট ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে ২৬টিতেই অর্থাৎ ৭৭ শতাংশ
১৮ ঘণ্টা আগে
ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে ভয়াবহ দাবানল। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে দুই দেশে ছড়িয়ে পড়া আগুনে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে বোর্দো এলাকার আশপাশে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে
২৬ জুলাই ২০২৬