এক্সপ্লেইনার
মাহজাবিন নাফিসা

স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি ভবন, পার্ক, সড়ক কিংবা সেতুর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক নতুন নয়। সরকার বদলেছে, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে, আর তার সঙ্গে বদলেছে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামও। ইদানীং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিজেদের বা পরিবারের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অর্থে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান, স্থান বা স্থাপনার নাম কি ইচ্ছামতো দেওয়া বা পরিবর্তন করা যায়? নাকি এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে?
বাসা-বাড়ি, রাস্তা, বিদ্যালয় ইত্যাদি নামকরণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সড়ক, ভবন ও স্থাপনা নামকরণ নীতিমালা ২০১৪ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ ও বিদ্যমান নাম পরিবর্তন নীতিমালা ২০২৩ আছে। এই নীতিমালা অনুসরণ করেই এগুলোর নামকরণ করা হয়। এছাড়াও, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি অর্থে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে উপদেষ্টা পরিষদের একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির কাজ ছিল নামকরণের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো প্রণয়ন করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই কমিটির কার্যক্রম কী অবস্থায় আছে, তা আর গণমাধ্যমের সামনে আসেনি।
একটি রাষ্ট্রের নামকরণ ব্যবস্থা শুধু ঠিকানা নির্ধারণের জন্য নয়। স্কুল, হাসপাতাল, সেতু বা পার্কের নাম অনেক সময় সেই রাষ্ট্রের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং স্মৃতির প্রতিফলন হয়ে ওঠে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবন কিংবা সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ অবকাঠামো—সবই কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রের পরিচয়ের অংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেমন আলাদা নীতিমালা, তথ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে, তেমনি তাদের নামকরণের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ ধারণা হলো, শুধু জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তারাই নামকরণের প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান নীতিমালা বলছে ভিন্ন কথা।
সিটি কর্পোরেশনের সড়ক, ভবন ও স্থাপনা নামকরণ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো নাগরিক কোনো সড়ক, ভবন বা স্থাপনার নামকরণের প্রস্তাব দিতে পারেন। এমনকি নামকরণ-সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্যরাও প্রস্তাব দিতে পারেন।
আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, কেন তার নামে নামকরণ করা উচিত, তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং সমাজে তার অবদানের বিবরণ দিতে হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অবস্থান, পূর্ববর্তী নাম (যদি থাকে) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও জমা দিতে হয়।
অর্থাৎ শুধু কোনো ব্যক্তিকে শুধু সম্মান জানাতে চাওয়া যথেষ্ট নয়, প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি ও তথ্যও উপস্থাপন করতে হয়।
নামকরণের প্রস্তাব জমা পড়ার পর সেটি সরাসরি অনুমোদন পায় না। প্রথমে একটি ‘নামকরণ উপ-কমিটি’ প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে। এই কমিটিতে সাধারণত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্রকৌশল বিভাগ, নগর পরিকল্পনা বিভাগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকেন। প্রয়োজনে ইতিহাসবিদ, গবেষক বা স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও যুক্ত করা যায়।
কমিটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর সেই সিদ্ধান্ত মেয়র বা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
যদি নির্বাচিত পরিষদ থাকে, তাহলে বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায়ও উপস্থাপন করতে হয়। পরে প্রস্তাবটি সরকারের পূর্বানুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পরই নামকরণ চূড়ান্ত করা যায়।
অর্থাৎ কোনো সরকারি স্থাপনার নামকরণ একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নয়। একাধিক স্তরের প্রশাসনিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জীবিত বা মৃত—উভয় ধরনের ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামই বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী ব্যক্তি এবং জাতীয় খেতাবপ্রাপ্ত নাগরিকরা।
এ ছাড়া মানবকল্যাণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, কবি, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক ও সমাজসেবকদের নামও অগ্রাধিকার পেতে পারে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো স্থাপনা নির্মাণে প্রত্যক্ষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামও বিবেচনা করা যেতে পারে। এমনকি জীবিত বা মৃত মেয়র, প্রশাসক, কাউন্সিলর, দাতা বা শিক্ষানুরাগীদের নামও প্রস্তাব করা সম্ভব, যদি তাদের নামে আগে কোনো সড়ক বা স্থাপনার নামকরণ না হয়ে থাকে।
নীতিমালায় দীর্ঘ ও জটিল নাম এড়ানোর কথা বলা হয়েছে। নাম এমন হতে হবে, যা সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। কারণ একটি নামের উদ্দেশ্য শুধু সম্মান প্রদর্শন নয়। নাগরিকদের জন্য সেটি ব্যবহারযোগ্য ও স্মরণযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ বা সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত কোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিও নিতে হয়। যেমন জাতীয় সংসদ এলাকা বা বিমানবন্দর এলাকার কোনো স্থাপনার নামকরণের ক্ষেত্রে আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
নামকরণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্থানে আনুষ্ঠানিক নামফলক স্থাপন করতে হয়। নামফলক হতে হবে দৃশ্যমান, টেকসই এবং দৃষ্টিনন্দন।
নতুন নাম সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করার জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও বিধান রয়েছে। পাশাপাশি হোল্ডিং নম্বর, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নথিতে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নতুন নাম, পুরোনো নাম, অনুমোদনের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া নামফলক স্থাপন করলে সেটিকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন চাইলে এমন নামফলক শনাক্ত করে অপসারণ করতে পারে। প্রয়োজনে এ জন্য আলাদা মনিটরিং কমিটিও গঠন করা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ নামফলক সরানো না হলে আইনগত ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে।

স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি ভবন, পার্ক, সড়ক কিংবা সেতুর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক নতুন নয়। সরকার বদলেছে, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে, আর তার সঙ্গে বদলেছে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামও। ইদানীং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিজেদের বা পরিবারের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অর্থে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান, স্থান বা স্থাপনার নাম কি ইচ্ছামতো দেওয়া বা পরিবর্তন করা যায়? নাকি এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে?
বাসা-বাড়ি, রাস্তা, বিদ্যালয় ইত্যাদি নামকরণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সড়ক, ভবন ও স্থাপনা নামকরণ নীতিমালা ২০১৪ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ ও বিদ্যমান নাম পরিবর্তন নীতিমালা ২০২৩ আছে। এই নীতিমালা অনুসরণ করেই এগুলোর নামকরণ করা হয়। এছাড়াও, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি অর্থে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে উপদেষ্টা পরিষদের একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির কাজ ছিল নামকরণের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো প্রণয়ন করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই কমিটির কার্যক্রম কী অবস্থায় আছে, তা আর গণমাধ্যমের সামনে আসেনি।
একটি রাষ্ট্রের নামকরণ ব্যবস্থা শুধু ঠিকানা নির্ধারণের জন্য নয়। স্কুল, হাসপাতাল, সেতু বা পার্কের নাম অনেক সময় সেই রাষ্ট্রের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং স্মৃতির প্রতিফলন হয়ে ওঠে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবন কিংবা সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ অবকাঠামো—সবই কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রের পরিচয়ের অংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেমন আলাদা নীতিমালা, তথ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে, তেমনি তাদের নামকরণের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ ধারণা হলো, শুধু জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তারাই নামকরণের প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু বিদ্যমান নীতিমালা বলছে ভিন্ন কথা।
সিটি কর্পোরেশনের সড়ক, ভবন ও স্থাপনা নামকরণ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো নাগরিক কোনো সড়ক, ভবন বা স্থাপনার নামকরণের প্রস্তাব দিতে পারেন। এমনকি নামকরণ-সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্যরাও প্রস্তাব দিতে পারেন।
আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, কেন তার নামে নামকরণ করা উচিত, তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং সমাজে তার অবদানের বিবরণ দিতে হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অবস্থান, পূর্ববর্তী নাম (যদি থাকে) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও জমা দিতে হয়।
অর্থাৎ শুধু কোনো ব্যক্তিকে শুধু সম্মান জানাতে চাওয়া যথেষ্ট নয়, প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি ও তথ্যও উপস্থাপন করতে হয়।
নামকরণের প্রস্তাব জমা পড়ার পর সেটি সরাসরি অনুমোদন পায় না। প্রথমে একটি ‘নামকরণ উপ-কমিটি’ প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে। এই কমিটিতে সাধারণত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্রকৌশল বিভাগ, নগর পরিকল্পনা বিভাগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকেন। প্রয়োজনে ইতিহাসবিদ, গবেষক বা স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও যুক্ত করা যায়।
কমিটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর সেই সিদ্ধান্ত মেয়র বা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।
যদি নির্বাচিত পরিষদ থাকে, তাহলে বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সভায়ও উপস্থাপন করতে হয়। পরে প্রস্তাবটি সরকারের পূর্বানুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পরই নামকরণ চূড়ান্ত করা যায়।
অর্থাৎ কোনো সরকারি স্থাপনার নামকরণ একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নয়। একাধিক স্তরের প্রশাসনিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জীবিত বা মৃত—উভয় ধরনের ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামই বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী ব্যক্তি এবং জাতীয় খেতাবপ্রাপ্ত নাগরিকরা।
এ ছাড়া মানবকল্যাণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, কবি, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক ও সমাজসেবকদের নামও অগ্রাধিকার পেতে পারে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো স্থাপনা নির্মাণে প্রত্যক্ষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামও বিবেচনা করা যেতে পারে। এমনকি জীবিত বা মৃত মেয়র, প্রশাসক, কাউন্সিলর, দাতা বা শিক্ষানুরাগীদের নামও প্রস্তাব করা সম্ভব, যদি তাদের নামে আগে কোনো সড়ক বা স্থাপনার নামকরণ না হয়ে থাকে।
নীতিমালায় দীর্ঘ ও জটিল নাম এড়ানোর কথা বলা হয়েছে। নাম এমন হতে হবে, যা সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। কারণ একটি নামের উদ্দেশ্য শুধু সম্মান প্রদর্শন নয়। নাগরিকদের জন্য সেটি ব্যবহারযোগ্য ও স্মরণযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ বা সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত কোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিও নিতে হয়। যেমন জাতীয় সংসদ এলাকা বা বিমানবন্দর এলাকার কোনো স্থাপনার নামকরণের ক্ষেত্রে আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
নামকরণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্থানে আনুষ্ঠানিক নামফলক স্থাপন করতে হয়। নামফলক হতে হবে দৃশ্যমান, টেকসই এবং দৃষ্টিনন্দন।
নতুন নাম সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করার জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও বিধান রয়েছে। পাশাপাশি হোল্ডিং নম্বর, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নথিতে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নতুন নাম, পুরোনো নাম, অনুমোদনের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া নামফলক স্থাপন করলে সেটিকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন চাইলে এমন নামফলক শনাক্ত করে অপসারণ করতে পারে। প্রয়োজনে এ জন্য আলাদা মনিটরিং কমিটিও গঠন করা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ নামফলক সরানো না হলে আইনগত ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে।
.png)

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ঘটনায় ভারতের অবস্থান দেশের কূটনৈতিক নৈতিকতাকে গভীর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ব্যাপক বোমাবর্ষণের শিকার হয়। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। তখনো দিল্লি কোনো নিন্দাসূচক বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
৩ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন, পরিষেবাসহ বিভিন্ন খাতে ৮ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশি এখনো কাজ করছেন মালয়েশিয়ায়।
৪ ঘণ্টা আগে
ছোটবেলায় কমিকস, কার্টুন আর সিনেমায় দেখেছি সুপারম্যান উড়তে পারে। ব্যাটম্যান অন্ধকারকে ভয় পায় না। আয়রনম্যান নিজের বুদ্ধি দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে। বড় হতে হতে আমাদের মনে এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়, সুপারহিরো মানেই কি এমন কেউ, যে সব সমস্যার সমাধান করবে, কখনো হারবে না, কখনো কাঁদবে না? যার থাকবে সুপারপাওয়ার?
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর শর্তসহ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির পর তেলের দাম দ্রুত কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
২ দিন আগে