কাজী নিশাত তাবাসসুম

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন প্রধানমন্ত্রী আসা এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে ব্রিটেন এমন এক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বদল হয়েছে ছয়বার। অথচ রাস্তায় কোনো বড় ধরনের গণআন্দোলন হয়নি, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ হয়নি, এমনকি প্রতিবার সাধারণ নির্বাচনেরও প্রয়োজন পড়েনি। তাহলে কেন এমন হচ্ছে? কেন বারবার ব্রিটেনে একজন প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারছেন না? কেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে?
প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বহু প্রধানমন্ত্রীর আগমন-প্রস্থান ঘটেছে। এই ভবনে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন স্যার রবার্ট ওয়ালপোল। ১৭২১ থেকে ১৭৪২ সাল—প্রায় ২১ বছরেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটিশ ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দুটি ভিন্ন মেয়াদে মোট ৯ বছর ছিলেন উইনস্টন চার্চিল। এরপর ১৯৮০ দশকে প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন ‘আয়রন লেডি’ মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত টানা এক দশক সেখানে ছিলেন টনি ব্লেয়ার।
ডাউনিং স্ট্রিটে পদত্যাগের হাওয়া লাগে মূলত ২০১৬ সালে। ওই বছর ব্রেক্সিট গণভোটের পর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই পদত্যাগ করেন ডেভিড ক্যামেরন। এরপর ক্ষমতায় আসেন থেরেসা মে। তিনিও তিন বছরের কিছু সময় পর পদত্যাগ করেন। ২০১৯ সালের পর থেকে ব্রিটেনে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হন বরিস জনসন। এরপর ২০২২ সালে দায়িত্ব নেন লিজ ট্রাস। তিনি মাত্র ৪৯ দিন পরই পদত্যাগ করেন। ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্প মেয়াদি দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর দায়িত্ব পান ঋষি সুনাক। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন কিয়ার স্টারমার। তিনিও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে হিসাব করলে ১০ বছরে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং কিয়ার স্টারমার—এই ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। জনগণ ভোট দেন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য। যে দল হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, সেই দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে প্রধানমন্ত্রী টিকে থাকার সবচেয়ে বড় শর্ত জনগণের সমর্থন নয়, বরং নিজের দলের সংসদ সদস্যদের আস্থা বজায় রাখা।
যদি দলের সদস্যরা মনে করেন যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জিততে পারবেন না বা সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন, তাহলে তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশসহ অনেক দেশে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক আন্দোলন দেখা যায়। কিন্তু ব্রিটেনে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেই যদি আস্থার সংকট তৈরি হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েন। কারণ সংসদে আইন পাস করা, বাজেট অনুমোদন কিংবা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য নিজের দলের সমর্থন অপরিহার্য। যখন সেই সমর্থন হারিয়ে যায়, তখন ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে কম সময় ক্ষমতায় ছিলেন তিনজন প্রধানমন্ত্রী—‘বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাক।
বরিস জনসনের পতনের প্রধান কারণ ছিল একের পর এক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি। করোনা লকডাউনের সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ, মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবং সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা সব মিলিয়ে শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। নিজ দলের সমর্থন হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
লিজ ট্রাসের পতনের কারণ ছিল অর্থনীতি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বড় অঙ্কের কর কমানোর ঘোষণা দেন, কিন্তু তার বিপরীতে অর্থের উৎস দেখাতে পারেননি। ফলে আর্থিক বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের মূল্য পড়ে যায়, সরকারি বন্ড বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জরুরি হস্তক্ষেপ করতে হয়। নিজ দলের সংসদ সদস্যরাও তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। এটি ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রিত্ব।
ঋষি সুনাক ব্যক্তিগতভাবে বড় কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়াননি। তবে তাঁর দল দীর্ঘ ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে জনসমর্থন হারাতে শুরু করে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং অভিবাসন ইস্যুতে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে এবং বিরোধী দল সরকার গঠন করে। ফলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সুনাক প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন।
ব্রিটেনে পাঁচ বছর পর্যন্ত একটি সংসদের মেয়াদ থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রধানমন্ত্রীও পাঁচ বছর থাকবেন। যদি দলের ভেতরে নেতৃত্ব বদলের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে একই সংসদ বহাল রেখেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন। অর্থাৎ সংসদের মেয়াদ এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ এক বিষয় নয়। এ কারণেই সাধারণ নির্বাচন ছাড়াও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন সম্ভব হয়।
ব্রিটিশ সাংবিধানিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি হিসেবে নয়, সংসদের আস্থার ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকেন। যখন সেই আস্থা নষ্ট হয়, তখন তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। এতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সংকট অনেক সময় এড়ানো সম্ভব হয়। অর্থাৎ সরকার পরিবর্তনের জন্য সব সময় রাজপথের আন্দোলনের প্রয়োজন পড়ে না, সংসদীয় প্রক্রিয়াই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেন একের পর এক বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনৈতিক বিভাজন, কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতি সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীরা কঠিন চাপের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে মতবিরোধ বাড়লে নেতৃত্ব ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীদের ঘন ঘন পরিবর্তন অনেকের কাছে রাজনৈতিক অস্থিরতা মনে হলেও, এটি দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যও বটে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান নন, তিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। ফলে নিজের দলের আস্থা হারালে কিংবা নীতিগতভাবে ব্যর্থ হলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয় রাজপথে আন্দোলন হোক বা না হোক। সাম্প্রতিক বছরগুলোর দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন দেখিয়েছে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যক্তির চেয়ে দল, সংসদীয় আস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির গুরুত্বই বেশি। তাই অনেক সময় নির্বাচন ছাড়াই কিংবা গণআন্দোলন ছাড়াই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটে।

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন প্রধানমন্ত্রী আসা এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে ব্রিটেন এমন এক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বদল হয়েছে ছয়বার। অথচ রাস্তায় কোনো বড় ধরনের গণআন্দোলন হয়নি, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ হয়নি, এমনকি প্রতিবার সাধারণ নির্বাচনেরও প্রয়োজন পড়েনি। তাহলে কেন এমন হচ্ছে? কেন বারবার ব্রিটেনে একজন প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারছেন না? কেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে?
প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বহু প্রধানমন্ত্রীর আগমন-প্রস্থান ঘটেছে। এই ভবনে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন স্যার রবার্ট ওয়ালপোল। ১৭২১ থেকে ১৭৪২ সাল—প্রায় ২১ বছরেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটিশ ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দুটি ভিন্ন মেয়াদে মোট ৯ বছর ছিলেন উইনস্টন চার্চিল। এরপর ১৯৮০ দশকে প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন ‘আয়রন লেডি’ মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত টানা এক দশক সেখানে ছিলেন টনি ব্লেয়ার।
ডাউনিং স্ট্রিটে পদত্যাগের হাওয়া লাগে মূলত ২০১৬ সালে। ওই বছর ব্রেক্সিট গণভোটের পর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই পদত্যাগ করেন ডেভিড ক্যামেরন। এরপর ক্ষমতায় আসেন থেরেসা মে। তিনিও তিন বছরের কিছু সময় পর পদত্যাগ করেন। ২০১৯ সালের পর থেকে ব্রিটেনে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হন বরিস জনসন। এরপর ২০২২ সালে দায়িত্ব নেন লিজ ট্রাস। তিনি মাত্র ৪৯ দিন পরই পদত্যাগ করেন। ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্প মেয়াদি দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর দায়িত্ব পান ঋষি সুনাক। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন কিয়ার স্টারমার। তিনিও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে হিসাব করলে ১০ বছরে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং কিয়ার স্টারমার—এই ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। জনগণ ভোট দেন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য। যে দল হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, সেই দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে প্রধানমন্ত্রী টিকে থাকার সবচেয়ে বড় শর্ত জনগণের সমর্থন নয়, বরং নিজের দলের সংসদ সদস্যদের আস্থা বজায় রাখা।
যদি দলের সদস্যরা মনে করেন যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জিততে পারবেন না বা সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন, তাহলে তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশসহ অনেক দেশে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক আন্দোলন দেখা যায়। কিন্তু ব্রিটেনে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেই যদি আস্থার সংকট তৈরি হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েন। কারণ সংসদে আইন পাস করা, বাজেট অনুমোদন কিংবা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য নিজের দলের সমর্থন অপরিহার্য। যখন সেই সমর্থন হারিয়ে যায়, তখন ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে কম সময় ক্ষমতায় ছিলেন তিনজন প্রধানমন্ত্রী—‘বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাক।
বরিস জনসনের পতনের প্রধান কারণ ছিল একের পর এক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি। করোনা লকডাউনের সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ, মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবং সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা সব মিলিয়ে শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। নিজ দলের সমর্থন হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
লিজ ট্রাসের পতনের কারণ ছিল অর্থনীতি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বড় অঙ্কের কর কমানোর ঘোষণা দেন, কিন্তু তার বিপরীতে অর্থের উৎস দেখাতে পারেননি। ফলে আর্থিক বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের মূল্য পড়ে যায়, সরকারি বন্ড বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জরুরি হস্তক্ষেপ করতে হয়। নিজ দলের সংসদ সদস্যরাও তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৯ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। এটি ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রিত্ব।
ঋষি সুনাক ব্যক্তিগতভাবে বড় কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়াননি। তবে তাঁর দল দীর্ঘ ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে জনসমর্থন হারাতে শুরু করে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং অভিবাসন ইস্যুতে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে এবং বিরোধী দল সরকার গঠন করে। ফলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সুনাক প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন।
ব্রিটেনে পাঁচ বছর পর্যন্ত একটি সংসদের মেয়াদ থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রধানমন্ত্রীও পাঁচ বছর থাকবেন। যদি দলের ভেতরে নেতৃত্ব বদলের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে একই সংসদ বহাল রেখেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন। অর্থাৎ সংসদের মেয়াদ এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ এক বিষয় নয়। এ কারণেই সাধারণ নির্বাচন ছাড়াও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন সম্ভব হয়।
ব্রিটিশ সাংবিধানিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি হিসেবে নয়, সংসদের আস্থার ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকেন। যখন সেই আস্থা নষ্ট হয়, তখন তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। এতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সংকট অনেক সময় এড়ানো সম্ভব হয়। অর্থাৎ সরকার পরিবর্তনের জন্য সব সময় রাজপথের আন্দোলনের প্রয়োজন পড়ে না, সংসদীয় প্রক্রিয়াই পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেন একের পর এক বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনৈতিক বিভাজন, কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতি সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীরা কঠিন চাপের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে মতবিরোধ বাড়লে নেতৃত্ব ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রীদের ঘন ঘন পরিবর্তন অনেকের কাছে রাজনৈতিক অস্থিরতা মনে হলেও, এটি দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যও বটে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান নন, তিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। ফলে নিজের দলের আস্থা হারালে কিংবা নীতিগতভাবে ব্যর্থ হলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয় রাজপথে আন্দোলন হোক বা না হোক। সাম্প্রতিক বছরগুলোর দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন দেখিয়েছে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যক্তির চেয়ে দল, সংসদীয় আস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির গুরুত্বই বেশি। তাই অনেক সময় নির্বাচন ছাড়াই কিংবা গণআন্দোলন ছাড়াই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটে।
.png)

লন্ডনভিত্তিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স মূলত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং চীনের সরকারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের ওপর জোর দিয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। তবে দেশের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মালয়েশিয়া। বিশেষ করে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর নিয়ে তৈরি মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
২ দিন আগে
কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করা এবং সেই দলের ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করা দুটি শব্দ শুনতে একই মনে হলেও আইনি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অর্থ এক নয়। বিভিন্ন দেশে সরকার বা আদালত কখনো একটি রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, আবার কখনো দলটির কার্যক্রম সাময়িক বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখে।
২ দিন আগে
সম্প্রতি কলকাতার একটি সড়কের নাম হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পরিবর্তে গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যাইয়ের নামে করার সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একপক্ষের কাছে এটি ‘ইতিহাসের সংশোধন’, অন্যপক্ষের কাছে ‘হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির’ অংশ।
৩ দিন আগে