আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার

ইরান যুদ্ধের ৭৯তম দিন: হরমুজ প্রণালিতে টোল বসাবে তেহরান?

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। এর মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের বিষয়ও থাকবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিচুক্তি না হলে তেহরানকে ‘খুব খারাপ সময়’ পার করতে হবে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান বলেছে, তারা আর ‘শত্রুপক্ষের’ সামরিক সরঞ্জামকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না।

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা চলছেই। সর্বশেষ জাওতার আল-শারকিয়াহ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ বলেছেন, বিশ্ব এখন ‘একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে’। তাঁর ভাষায়, ‘ভবিষ্যৎ গ্লোবাল সাউথের।’ একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনার কথাও সামনে আনছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, তেহরানের পরিকল্পনায় ‘নির্ধারিত রুটের মাধ্যমে পেশাদার পদ্ধতিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের’ ব্যবস্থা থাকবে। তিনি বলেন, শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী পক্ষগুলো এই সুবিধা পাবে। পাশাপাশি ‘বিশেষায়িত সেবার’ জন্য ফি আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোও এখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। চীন, জাপান ও পাকিস্তানের মতো পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পর এবার ইউরোপীয়রাও ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দল সোমবার (১৮ মে) তুরস্কে যাচ্ছে। সেখানে তারা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করবে, প্রীতি ম্যাচ খেলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনই।

যুদ্ধের কূটনীতি

এরইমধ্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও স্থবির হয়ে থাকা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় ‘সহযোগিতা’ করতেই তার এই সফর। এর কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন।

যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শনিবার ভার্জিনিয়ায় নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। ১১ মাসব্যাপী জাহাজটি মোতায়েন ছিল যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে দীর্ঘসময়। এই সময়ে জাহাজটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে সহায়তা দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক অভিযানের সঙ্গেও এই জাহাজ যুক্ত ছিল।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর চলমান অবরোধের অংশ হিসেবে তারা ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পুনর্নির্দেশ করেছে এবং চারটি জাহাজ অকার্যকর ঘোষণা করেছে।

কী হচ্ছে লেবাননে

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধে তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছে। এর ফলে গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের মোট ২১ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে কথিত যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর গত দুই দিনে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ১০০টি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (১৫ মে) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে নতুন দফা আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

(আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত