সিসি গুনে মোটরসাইকেলে বসছে কর, কেন গুরুত্বপূর্ণ সি‌সি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক

মোটরসাইকেলে অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপ করা হতে পারে।

নতুন প্রস্তাবে, ১১০ সিসি ক্ষমতার মোটরসাইকেলে অগ্রিম কর দিতে হবে না। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলে বার্ষিক কর দুই হাজার টাকা হতে পারে। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম কর বসতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি।

এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর আরোপ রাজস্বের দিক থেকে যৌক্তিক এবং এতে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে চলে গেছে। সরকারের কর সংগ্রহ বাড়ানো সময়ের দাবি।

সিসি কী?

সিসির পূর্ণরূপ হলো কিউবিক সেন্টিমিটার বা কিউবিক ক্যাপাসিটি (ঘন সেন্টিমিটার)। সহজে বললে, সিসি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে ফাঁকা জায়গার আয়তন। ইঞ্জিনের ভেতরে একটি পিস্টন ওঠানামা করে। পিস্টন সিলিন্ডারের ভেতরে যতটুকু জায়গায় ওঠানামা করে, সেই আয়তনই সিসি।

সিলিন্ডারের এই ফাঁকা জায়গায় জ্বালানি (পেট্রোল বা অকটেন) এবং বাতাসের মিশ্রণ প্রবেশ করে। এরপর স্পার্ক প্লাগের মাধ্যমে স্ফূলিঙ্গে (স্পার্ক) বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ধাক্কায় পিস্টন নিচে নামে এবং সেই শক্তি চাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর কারণে গাড়ি চলতে শুরু করে।

সিসির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সম্পর্ক

ইঞ্জিনের সিসি যত বেশি, সিলিন্ডারে তত বেশি জ্বালানি ও বাতাস প্রবেশের জায়গা থাকবে। যত বেশি জ্বালানি পুড়বে, বিস্ফোরণও তত শক্তিশালী হবে। এর ফলে ইঞ্জিন বেশি হর্সপাওয়ার (বাইকের গতি) এবং বেশি টর্ক (বাইকের পিকআপ) উৎপন্ন করবে।

সিসির সঙ্গে মাইলেজের সম্পর্ক বিপরীতমুখী। অধিক সিসির ইঞ্জিনের সিলিন্ডার বড় বলে বিস্ফোরণে বেশি জ্বালানি লাগে। অর্থাৎ সিসি যত বাড়বে, বাইকের জ্বালানি তত লাগবে। অন্যদিকে, কম সিসির ইঞ্জিনে সিলিন্ডার ছোট হওয়ায় জ্বালানি খরচ কম হয় এবং বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়।

সিসিভেদে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল

বাংলাদেশে চলাচলের ধরন এবং ক্রেতাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাইকগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

১. কমিউটার সেগমেন্ট (৮০–১২৫ সিসি): এই মোটরসাইকেলগুলো কম খরচে যাতায়াতের উদ্দেশে বানানো। ডিজাইন বেশ সাদামাটা হয় এবং ওজন কম থাকে। উদাহরণস্বরূপ— বাজাজ সিটি ১০০, হোন্ডা লিভো, টিভিএস মেট্রো, হিরো স্প্লেন্ডার।

২. স্ট্যান্ডার্ড বা এক্সিকিউটিভ সেগমেন্ট (১৩৫–১৬০ সিসি): বাংলাদেশে এই ক্যাটাগরির মোটরসাইকেল বেশি জনপ্রিয়। এসব বাইকে পাওয়ার, স্টাইল এবং মাইলেজ— তিনের সমন্বয় থাকে। উদাহরণ— বাজাজ পালসার ১৫০, ইয়ামাহা এফজেড-এস, সুজুকি গিক্সার, টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর ইত্যাদি।

৩. স্পোর্টস, ক্রুজার এবং প্রিমিয়াম সেগমেন্ট (১৬৫-৩৫০ সিসি): এই ক্যাটাগরির বাইক মূলত স্পিড, লং ট্যুর, হাইওয়ে ক্রুজিং এবং রেসিংয়ের জন্য। এই বাইকগুলোতে লিকুইড কুলিং, ফুয়েল ইনজেকশন, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি থাকে। উদাহরণ— ইয়ামাহা আর১৫, এমটি-১৫, হোন্ডা সিবিআর, রয়্যাল এনফিল্ড ইত্যাদি।

সম্পর্কিত