আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে। দীর্ঘদিনের এই সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এই রায়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেছেন, ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চতুর্দশ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনকারী সকল ব্যক্তি’ মার্কিন নাগরিক। এর একমাত্র উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হলো বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব অতীতেও ছিল, এখনও আছে—এটি অধিকার ভোগের অধিকার, আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই প্রতিশ্রুতি এই দেশের প্রতিটি স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া মানুষের জন্য সম্প্রসারিত করেছিলেন। আজও আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কী
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এমন একটি নীতি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। এর ব্যতিক্রম খুবই সীমিত।
এই নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পর চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সদ্য দাসত্বমুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীসহ সব মানুষের জন্য নাগরিকত্বের সমান সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় এই অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির ১৮৯৮ সালের ‘যুক্তরাষ্ট্র বনাম ওয়ং কিম আর্ক’ মামলায় রায়।
ওই মামলায় সান ফ্রান্সিসকোতে চীনা অভিভাবকের ঘরে জন্ম নেওয়া ওয়ং কিম আর্ক চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে গেলে তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তিনি জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিক এবং বিদেশ ভ্রমণের কারণে সেই নাগরিকত্ব বাতিল হয় না।
জন্মসূত্রে নাগরিক ও স্বাভাবিকীকৃত নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য কী
যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়, তারা জন্মের পর পরই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করে। অন্যদিকে, স্বাভাবিকীকৃত বা ন্যাচারালাইজড নাগরিক হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি জন্মগতভাবে মার্কিন নাগরিক ছিলেন না, কিন্তু আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্বাভাবিকীকৃত নাগরিকরাও জন্মসূত্রে নাগরিকদের মতোই পূর্ণ ও সমান অধিকার ভোগ করেন।
চতুর্দশ সংশোধনী উভয় ধরনের নাগরিককেই সুরক্ষা দেয়। এতে বলা হয়েছে, সরকার কোনো নাগরিকের ‘অধিকার বা বিশেষ সুবিধা’ খর্ব করতে পারবে না।
চতুর্দশ সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে মোট পাঁচটি অংশ রয়েছে। এর প্রথম অংশেই নাগরিকত্বের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তারা যে অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন, সেই অঙ্গরাজ্যের নাগরিক। কোনো অঙ্গরাজ্য এমন কোনো আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগ করতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার বা বিশেষ সুবিধা খর্ব করে। এছাড়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং আইনের সমান সুরক্ষা থেকেও কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
কেন এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৩ সালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছিলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ‘আক্রমণ’ উৎসাহিত করছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এ ধরনের নীতিই লাখ লাখ মানুষকে আমাদের দেশে নিয়ে আসে। আমার পরিকল্পনা অবৈধ অভিবাসনের একটি বড় প্রণোদনা বন্ধ করবে, নতুন অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করবে এবং যাদের জো বাইডেন অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে দিয়েছেন, তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করবে।’
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় ফিরে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
ওই আদেশ অনুযায়ী, কিছু শিশুকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ছিল অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের সন্তান এবং যেসব শিশুর জন্মের সময় তাদের বাবা-মা স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না, এমনকি তারা যদি বৈধভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন।
সমালোচকদের দাবি ছিল, এই আদেশ কার্যকর হলে অনেক শিশু কার্যত রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতগুলো ওই নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত করে। ফলে এটি কখনো কার্যকর হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে
ছয়-তিন ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলায় ২০২৫ সালের ওই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি বলেন, চতুর্দশ সংশোধনী কোথাও এমন ইঙ্গিত দেয় না যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কেবল মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ।
রবার্টস লিখেছেন, ‘যদি কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সন্তানদের মধ্যেই নাগরিকত্ব সীমিত রাখতে চাইত, তাহলে নাগরিকত্ব ধারার সংক্ষিপ্ত ভাষায় তার কোনো ইঙ্গিত থাকত।’
তিনি ১৮৯৮ সালের ওয়ং কিম আর্ক মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘গত ১২৮ বছর ধরে আমরা এই রায়কে এমনভাবেই বুঝে এসেছি যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতায় থাকা সব শিশুই নাগরিকত্ব লাভ করবে। আজ সেই অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার কোনো কারণ আমরা দেখি না।’
এই মতামতের সঙ্গে একমত হন রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং উদারপন্থী তিন বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ও এলেনা কাগান।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ফলাফলে একমত হলেও বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ রবার্টসের যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত ছিলেন না। তার মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি মূলত চতুর্দশ সংশোধনী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন।
তিনি এটিও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কংগ্রেস চাইলে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারী বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
কারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন
এই রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেন তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স থমাস, নিল গরসাচ এবং স্যামুয়েল আলিটো।
৯১ পৃষ্ঠার ভিন্নমত পোষণকারী রায়ে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস লিখেছেন, ট্রাম্পের আরোপিত বিধিনিষেধ সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
তার ভাষায়, ‘আজ আদালত এক অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা প্রেসিডেন্টের সেই নির্বাহী আদেশকে সরাসরি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে, যা বিদেশি অস্থায়ী দর্শনার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিল।’
থমাসের মতে, আদালত চতুর্দশ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে এসেছে। তার দাবি, সংশোধনীটির মূল লক্ষ্য ছিল দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার নিশ্চিত করা।
এখন ট্রাম্প কী করতে পারেন
এই রায়ের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন পথ খুঁজবেন। তার মতে, সংবিধান সংশোধনের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ায় না গিয়ে কংগ্রেস আইন প্রণয়ন করেই বিষয়টি সমাধান করতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে, যা আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তবে প্রেসিডেন্টের সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস আইন পাস করেই এটি পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ও জটিল সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই। কংগ্রেসের উচিত আজ থেকেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া। আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
তবে অনেক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, চতুর্দশ সংশোধনীর অর্থ পরিবর্তন করতে হলে সংবিধান সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
(আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে। দীর্ঘদিনের এই সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এই রায়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেছেন, ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চতুর্দশ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনকারী সকল ব্যক্তি’ মার্কিন নাগরিক। এর একমাত্র উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হলো বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে লিখেছেন, ‘নাগরিকত্ব অতীতেও ছিল, এখনও আছে—এটি অধিকার ভোগের অধিকার, আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই প্রতিশ্রুতি এই দেশের প্রতিটি স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া মানুষের জন্য সম্প্রসারিত করেছিলেন। আজও আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কী
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এমন একটি নীতি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। এর ব্যতিক্রম খুবই সীমিত।
এই নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পর চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সদ্য দাসত্বমুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীসহ সব মানুষের জন্য নাগরিকত্বের সমান সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় এই অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির ১৮৯৮ সালের ‘যুক্তরাষ্ট্র বনাম ওয়ং কিম আর্ক’ মামলায় রায়।
ওই মামলায় সান ফ্রান্সিসকোতে চীনা অভিভাবকের ঘরে জন্ম নেওয়া ওয়ং কিম আর্ক চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে গেলে তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তিনি জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিক এবং বিদেশ ভ্রমণের কারণে সেই নাগরিকত্ব বাতিল হয় না।
জন্মসূত্রে নাগরিক ও স্বাভাবিকীকৃত নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য কী
যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়, তারা জন্মের পর পরই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করে। অন্যদিকে, স্বাভাবিকীকৃত বা ন্যাচারালাইজড নাগরিক হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি জন্মগতভাবে মার্কিন নাগরিক ছিলেন না, কিন্তু আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্বাভাবিকীকৃত নাগরিকরাও জন্মসূত্রে নাগরিকদের মতোই পূর্ণ ও সমান অধিকার ভোগ করেন।
চতুর্দশ সংশোধনী উভয় ধরনের নাগরিককেই সুরক্ষা দেয়। এতে বলা হয়েছে, সরকার কোনো নাগরিকের ‘অধিকার বা বিশেষ সুবিধা’ খর্ব করতে পারবে না।
চতুর্দশ সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে মোট পাঁচটি অংশ রয়েছে। এর প্রথম অংশেই নাগরিকত্বের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তারা যে অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন, সেই অঙ্গরাজ্যের নাগরিক। কোনো অঙ্গরাজ্য এমন কোনো আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগ করতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার বা বিশেষ সুবিধা খর্ব করে। এছাড়া যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং আইনের সমান সুরক্ষা থেকেও কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
কেন এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৩ সালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছিলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ‘আক্রমণ’ উৎসাহিত করছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এ ধরনের নীতিই লাখ লাখ মানুষকে আমাদের দেশে নিয়ে আসে। আমার পরিকল্পনা অবৈধ অভিবাসনের একটি বড় প্রণোদনা বন্ধ করবে, নতুন অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করবে এবং যাদের জো বাইডেন অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে দিয়েছেন, তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করবে।’
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় ফিরে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
ওই আদেশ অনুযায়ী, কিছু শিশুকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ছিল অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের সন্তান এবং যেসব শিশুর জন্মের সময় তাদের বাবা-মা স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না, এমনকি তারা যদি বৈধভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন।
সমালোচকদের দাবি ছিল, এই আদেশ কার্যকর হলে অনেক শিশু কার্যত রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতগুলো ওই নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত করে। ফলে এটি কখনো কার্যকর হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে
ছয়-তিন ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলায় ২০২৫ সালের ওই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি বলেন, চতুর্দশ সংশোধনী কোথাও এমন ইঙ্গিত দেয় না যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কেবল মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ।
রবার্টস লিখেছেন, ‘যদি কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সন্তানদের মধ্যেই নাগরিকত্ব সীমিত রাখতে চাইত, তাহলে নাগরিকত্ব ধারার সংক্ষিপ্ত ভাষায় তার কোনো ইঙ্গিত থাকত।’
তিনি ১৮৯৮ সালের ওয়ং কিম আর্ক মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘গত ১২৮ বছর ধরে আমরা এই রায়কে এমনভাবেই বুঝে এসেছি যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতায় থাকা সব শিশুই নাগরিকত্ব লাভ করবে। আজ সেই অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার কোনো কারণ আমরা দেখি না।’
এই মতামতের সঙ্গে একমত হন রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং উদারপন্থী তিন বিচারপতি—সোনিয়া সোটোমেয়র, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ও এলেনা কাগান।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ফলাফলে একমত হলেও বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ রবার্টসের যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত ছিলেন না। তার মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি মূলত চতুর্দশ সংশোধনী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন।
তিনি এটিও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কংগ্রেস চাইলে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারী বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
কারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন
এই রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেন তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স থমাস, নিল গরসাচ এবং স্যামুয়েল আলিটো।
৯১ পৃষ্ঠার ভিন্নমত পোষণকারী রায়ে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস লিখেছেন, ট্রাম্পের আরোপিত বিধিনিষেধ সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
তার ভাষায়, ‘আজ আদালত এক অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা প্রেসিডেন্টের সেই নির্বাহী আদেশকে সরাসরি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে, যা বিদেশি অস্থায়ী দর্শনার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিল।’
থমাসের মতে, আদালত চতুর্দশ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে এসেছে। তার দাবি, সংশোধনীটির মূল লক্ষ্য ছিল দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার নিশ্চিত করা।
এখন ট্রাম্প কী করতে পারেন
এই রায়ের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন পথ খুঁজবেন। তার মতে, সংবিধান সংশোধনের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ায় না গিয়ে কংগ্রেস আইন প্রণয়ন করেই বিষয়টি সমাধান করতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে, যা আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তবে প্রেসিডেন্টের সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস আইন পাস করেই এটি পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ও জটিল সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই। কংগ্রেসের উচিত আজ থেকেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া। আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
তবে অনেক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, চতুর্দশ সংশোধনীর অর্থ পরিবর্তন করতে হলে সংবিধান সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
(আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)
.png)

বিশ্বব্যাংক তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে ‘মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা, আফগানিস্তান অ্যান্ড পাকিস্তান (মেনাপ)’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ, যেখানে মুখোমুখি বিশ্বের দুই পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রথম নজরে এটি উন্নত চ্যাটবট বা আরও স্মার্ট সফটওয়্যার তৈরির প্রতিযোগিতা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক গভীর।
১৯ ঘণ্টা আগে
২০১১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আনা এ সংশোধনীটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলা একটি বিল।
১৯ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশলের বিবাহবিচ্ছেদ। দাম্পত্য, সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁদের জনপ্রিয় ভিডিও সিরিজ ‘কাপলস কর্নার’ একসময় অসংখ্য মানুষের কাছে সুখী সংসার গড়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই ভিডিওগুলোতে ত
২৮ জুন ২০২৬