সানীউজ্জামান পাভেল

২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন, পরিষেবাসহ বিভিন্ন খাতে ৮ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশি এখনো কাজ করছেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট পাঁচবার বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজার। এর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও শ্রম অধিকারের অবনতিসহ পরস্পর সম্পর্কিত কারণ।
সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি : দশকের পর দশক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
১৯৭৮ সালে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে ২৩ জনকে পাঠিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানি শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ১৯৮৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ জন শ্রমিক পাঠানো হয় দেশটিতে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে শ্রমিক অভিবাসনবিষয়ক প্রথম চুক্তি সাক্ষরিত হয় ১৯৯২ সালে। কিন্তু তারপরও ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত শ্রমবাজারটি প্রায় বন্ধ ছিল।
২০০৬-এর শেষদিকে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ কলিং ভিসা (নিয়োগকর্তার আমন্ত্রণভিত্তিক কর্মী ভিসা) ব্যবস্থা চালু করলে ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। যদিও অভিবাসন ব্যয় সেই সময় ৮৪০০০ টাকা নির্ধারিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে অভিবাসীদের গুনতে হয় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। তদুপরি অভিবাসনের পর মালয়েশিয়ায় কাজ না পেয়ে বৈধ কাগজপত্রহীন হয়ে পড়েন প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। ফলে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বন্ধ থাকে অভিবাসন।
২০১২ সালে এই অচলায়তন কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বল্প খরচে অভিবাসন পুনরায় চালুর জন্য একটি চুক্তি হয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বরে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি অনুযায়ী অভিবাসনের ব্যয় ৩৩০০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ব্যবসায়ী ও বেসরকারি শ্রমশক্তি রপ্তানি সংস্থার চাপে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৬ সালে মালয়েশিয়া সরকার শুধু বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আবার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেই সময় তারা ১০টি সংস্থার একটি সিন্ডিকেটকে এ কাজের জন্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু দুর্নীতি ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা দ্রুতই আচ্ছন্ন করে দুই দেশের ব্যবস্থাপনাকে। এছাড়াও অভিবাসন প্রত্যাশীদের গুনতে হয় সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের অন্তত দশ গুণ বেশি। ফলে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায় মালায়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসন।
তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালে দুই সরকারের মধ্যে অভিবাসন প্রক্রিয়া আবারও শুরুর জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২২ থেকে অভিবাসন আবার শুরু হলেও সেই পুরোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থাই ফিরে আসে। সে সময় বাংলাদেশ নিবন্ধিত ১৫২০টি সংস্থার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দেশটি ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি এক চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৫টি সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানায় ঢাকাকে।
তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ ১৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার জনবল মন্ত্রী সারাভানানকে লেখা এক চিঠিতে আইএলও চার্টার ও বাংলাদেশ কম্পিটিশন অ্যাক্ট ২০১২-এর বরাত দিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার অধিকার দাবি করেন। কিন্তু সারাভানান সেই ২৫ সংস্থার সিণ্ডিকেটের প্রতি সমর্থন বজায় রাখেন, যা এমনকি ২০২২ সালের জুনে তার বাংলাদেশ সফরেও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান জনৈক আমিনুল ইসলাম বিন আব্দুল নুর এই অভিবাসন ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। নুর ছিলেন মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সফটওয়্যার মাইগ্রামস-এরও মালিক। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন ওরফে স্বপন বাংলাদেশে নুরের প্রতিনিধিত্ব করতেন। যৌথভাবে তারাই ওই সিণ্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।
সেই ২৫ সংস্থার মালিকদের বেশির ভাগই ছিলেন সংসদ সদস্য, রাজনীতিক ও তাদের আত্মীয়। পরে নির্ধারিত সংস্থার সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা হলেও পেছনের চিত্র পরিবর্তিত হয়নি। ২০২২ থেকে ২০২৪-এর মে পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা জনপ্রতি খরচ করে। এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার বরাত দিয়ে ২০২৪-এর জুন থেকে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, যা অদ্যাবধি বিদ্যমান।
পুরনো শঙ্কার ঘূর্ণিজাল ও নতুন আশার আলো
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দুই দফায় উদ্যোগ নিয়েও সংকটের সমাধান করতে পারেনি। ২০২৬-এর নির্বাচনের পর এপ্রিলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঘোষণা করেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বন্ধ শ্রমবাজার সচল করতে উদ্যোগী হয়েছে নবনির্বাচিত সরকার।
এপ্রিলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। সফর শেষে তিনি ঘোষণা করেন, দ্রুতই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। মাহদী আমিনের সেই সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিলেন তারেক রহমান। ২১ জুন দু'দিনের সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা ও যোগাযোগের পাশাপাশি শ্রমবাজার সংকটের সমাধান ও বাংলাদেশের আসিয়ানে যোগদানে মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টি দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা জেগেছে বাংলাদেশিদের মনে। আর এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অভিমত—শুধু শ্রমবাজার উন্মুক্ত করলেই হবে না, বরং পুরনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থার দুর্নীতির জাঁতাকল ভেঙে পাল্টাতে হবে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থা। এতে একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের পরিবেশই শুধু তৈরি হবে না, রক্ষিত হবে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারও।

২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন, পরিষেবাসহ বিভিন্ন খাতে ৮ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশি এখনো কাজ করছেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট পাঁচবার বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজার। এর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও শ্রম অধিকারের অবনতিসহ পরস্পর সম্পর্কিত কারণ।
সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি : দশকের পর দশক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
১৯৭৮ সালে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে ২৩ জনকে পাঠিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানি শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ১৯৮৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ জন শ্রমিক পাঠানো হয় দেশটিতে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে শ্রমিক অভিবাসনবিষয়ক প্রথম চুক্তি সাক্ষরিত হয় ১৯৯২ সালে। কিন্তু তারপরও ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত শ্রমবাজারটি প্রায় বন্ধ ছিল।
২০০৬-এর শেষদিকে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ কলিং ভিসা (নিয়োগকর্তার আমন্ত্রণভিত্তিক কর্মী ভিসা) ব্যবস্থা চালু করলে ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। যদিও অভিবাসন ব্যয় সেই সময় ৮৪০০০ টাকা নির্ধারিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে অভিবাসীদের গুনতে হয় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। তদুপরি অভিবাসনের পর মালয়েশিয়ায় কাজ না পেয়ে বৈধ কাগজপত্রহীন হয়ে পড়েন প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। ফলে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বন্ধ থাকে অভিবাসন।
২০১২ সালে এই অচলায়তন কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বল্প খরচে অভিবাসন পুনরায় চালুর জন্য একটি চুক্তি হয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বরে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি অনুযায়ী অভিবাসনের ব্যয় ৩৩০০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ব্যবসায়ী ও বেসরকারি শ্রমশক্তি রপ্তানি সংস্থার চাপে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৬ সালে মালয়েশিয়া সরকার শুধু বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আবার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেই সময় তারা ১০টি সংস্থার একটি সিন্ডিকেটকে এ কাজের জন্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু দুর্নীতি ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা দ্রুতই আচ্ছন্ন করে দুই দেশের ব্যবস্থাপনাকে। এছাড়াও অভিবাসন প্রত্যাশীদের গুনতে হয় সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের অন্তত দশ গুণ বেশি। ফলে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায় মালায়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসন।
তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালে দুই সরকারের মধ্যে অভিবাসন প্রক্রিয়া আবারও শুরুর জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২২ থেকে অভিবাসন আবার শুরু হলেও সেই পুরোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থাই ফিরে আসে। সে সময় বাংলাদেশ নিবন্ধিত ১৫২০টি সংস্থার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দেশটি ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি এক চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৫টি সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানায় ঢাকাকে।
তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ ১৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার জনবল মন্ত্রী সারাভানানকে লেখা এক চিঠিতে আইএলও চার্টার ও বাংলাদেশ কম্পিটিশন অ্যাক্ট ২০১২-এর বরাত দিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার অধিকার দাবি করেন। কিন্তু সারাভানান সেই ২৫ সংস্থার সিণ্ডিকেটের প্রতি সমর্থন বজায় রাখেন, যা এমনকি ২০২২ সালের জুনে তার বাংলাদেশ সফরেও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান জনৈক আমিনুল ইসলাম বিন আব্দুল নুর এই অভিবাসন ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। নুর ছিলেন মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সফটওয়্যার মাইগ্রামস-এরও মালিক। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন ওরফে স্বপন বাংলাদেশে নুরের প্রতিনিধিত্ব করতেন। যৌথভাবে তারাই ওই সিণ্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।
সেই ২৫ সংস্থার মালিকদের বেশির ভাগই ছিলেন সংসদ সদস্য, রাজনীতিক ও তাদের আত্মীয়। পরে নির্ধারিত সংস্থার সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা হলেও পেছনের চিত্র পরিবর্তিত হয়নি। ২০২২ থেকে ২০২৪-এর মে পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা জনপ্রতি খরচ করে। এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার বরাত দিয়ে ২০২৪-এর জুন থেকে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, যা অদ্যাবধি বিদ্যমান।
পুরনো শঙ্কার ঘূর্ণিজাল ও নতুন আশার আলো
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দুই দফায় উদ্যোগ নিয়েও সংকটের সমাধান করতে পারেনি। ২০২৬-এর নির্বাচনের পর এপ্রিলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঘোষণা করেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বন্ধ শ্রমবাজার সচল করতে উদ্যোগী হয়েছে নবনির্বাচিত সরকার।
এপ্রিলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। সফর শেষে তিনি ঘোষণা করেন, দ্রুতই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। মাহদী আমিনের সেই সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিলেন তারেক রহমান। ২১ জুন দু'দিনের সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা ও যোগাযোগের পাশাপাশি শ্রমবাজার সংকটের সমাধান ও বাংলাদেশের আসিয়ানে যোগদানে মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টি দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা জেগেছে বাংলাদেশিদের মনে। আর এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অভিমত—শুধু শ্রমবাজার উন্মুক্ত করলেই হবে না, বরং পুরনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থার দুর্নীতির জাঁতাকল ভেঙে পাল্টাতে হবে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থা। এতে একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের পরিবেশই শুধু তৈরি হবে না, রক্ষিত হবে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারও।
.png)

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ঘটনায় ভারতের অবস্থান দেশের কূটনৈতিক নৈতিকতাকে গভীর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ব্যাপক বোমাবর্ষণের শিকার হয়। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। তখনও দিল্লি কোনো নিন্দাসূচক বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
১ ঘণ্টা আগে
ছোটবেলায় কমিকস, কার্টুন আর সিনেমায় দেখেছি সুপারম্যান উড়তে পারে। ব্যাটম্যান অন্ধকারকে ভয় পায় না। আয়রনম্যান নিজের বুদ্ধি দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে। বড় হতে হতে আমাদের মনে এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়, সুপারহিরো মানেই কি এমন কেউ, যে সব সমস্যার সমাধান করবে, কখনো হারবে না, কখনো কাঁদবে না? যার থাকবে সুপারপাওয়ার?
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর শর্তসহ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির পর তেলের দাম দ্রুত কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
২ দিন আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশীয় উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
৩ দিন আগে