স্বাধীন বাংলাদেশের চূড়ান্ত দুর্ভাগ্য যে জীবিত জহির রায়হানকে পায়নি স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্র। আজ থেকে ৬০ বছরের ও আগের সময়ে যেভাবে তিনি ভেবেছেন এবং ভাবনার চিত্রায়ণ করেছেন, তা এতবছর পরে এসেও খুব কম নির্মাতা ভাবতে পারেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আধুনিকায়ন ও উৎকর্ষ শব্দটির সঙ্গে এই মানুষটির নাম তাই ইতিহাস সবসময় স্মরণ করবে।
মাহফুজা মাহবুব

পাকিস্তানি শাসনামলে অর্থনীতি, রাজনীতি, আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোতে পূর্ব-বাংলাকে অগ্রবর্তী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি একথা সবারই জানা। বাংলা অঞ্চলের আবহমানকালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নিজস্ব সাহিত্যের প্রতিও তাদের বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ কখনো লক্ষ করা যায়নি, বরং সুযোগ পেলেই হয়েছে খড়্গহস্ত। যে কোনো বই, চলচ্চিত্র, সংগীতের প্রচার ও প্রচারণাকে ঘিরে প্রশাসনিকভাবে তৈরি করা হতো নানামাত্রিক জটিলতা; পাছে তাদের রোজকার জুলুমের খেরোখাতা উন্মুক্ত হয়ে না পড়ে কোনো গানের অন্তরায়, কোনো কবিতার পঙক্তিমালায়! তাই যেকোনো সৃষ্টিকর্মকে কঠোর পূর্বপাকিস্তানি সেন্সরশিপের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।
রেজিমেন্টাল এই কাঁটাছেড়ার দায়িত্বে থাকা জেনারেল রাও ফরমান আলী, একদিন একটা চলচ্চিত্র বিচার করতে বসলেন। সিনেমা তার মনঃপূত হল না , অবধারিতভাবে পরিচালককে ডেকে জেনারেল বললেন, ‘সিনেমায় তুমি কায়েদে আজমকে রেখেছো জেলখানার বাইরে, আর রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে রেখেছো হিরোর বেডরুমে'।
পরিচালকের প্রবল ব্যক্তিত্ব আর আত্মমর্যাদার সামনে এই অভিযোগবাণী টিকতে পারেনি। চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ বা প্রদর্শনী বন্ধের ফরমান জারি না করতে পেরে ক্ষুব্ধ ফরমান আলী বলেছিলেন, 'আমি তোমাকে ছবি রিলিজ করতে এলাউ করছি, কিন্তু একদিন তোমাকে দেখে নেবো'।
হুমকিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে পরিচালক লেগে পড়লেন চলচ্চিত্র মুক্তির তোড়জোড়ে। পর্দায় এলো বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও তাৎপর্যবাহী চলচ্চিত্র, 'জীবন থেকে নেয়া'; মুক্তির প্রায় অর্ধশতক পরেও যেটি একইরকম আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছে দর্শকের মনে। পাঠক নিঃসন্দেহে বুঝে গেছেন, এই চলচ্চিত্র পরিচালকের নাম জহির রায়হান।
আমাদের এই জনপদ যে ক'জন বিরল প্রতিভাবান মানুষের জন্য সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের একজন জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২)। জহির রায়হান বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং এই উপমহাদেশের গতিশীল চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা একজন ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্রে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকলেও তিনি শুধু পরিচালনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না কখনো; কাহিনীকার, প্রযোজক, চিত্রনাট্য রচয়িতা সবই ছিলেন। চলচ্চিত্রের গঠনশৈলী, আঙ্গিক, সবকিছু নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আবহ এনেছেন দেশীয় কাজে, নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে।

আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গণকে জহির রায়হান দিয়েছিলেন নতুনত্ব, উৎকর্ষ। স্বল্পায়ু এই শিল্পী খুব বেশি কাজ করে যেতে পারেননি। কিন্তু যে চলচ্চিত্রেই তিনি ছিলেন, সেটিই হয়ে উঠেছে নতুন মাইলফলক। জহির রায়হান নির্মিত চলচ্চিত্র , ‘কখনো আসেনি’ (১৯৬১), ‘ সোনার কাজল’ (১৯৬২), ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ’সঙ্গম’ (১৯৬৪), ‘বাহানা’ (১৯৬৫), বেহুলা (১৯৬৬), 'আনোয়ারা' (১৯৬৭), 'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০)। আর দশজন পরিচালকের তুলনায় জহির রায়হান আলাদা তাঁর কাজের ধরনে ও মননে। হাতেগোনা সিনেমাগুলোর প্রত্যেকটিই আলাদা ধাঁচে উপস্থাপন করেছেন তিনি, এবং তাঁর সব কাজই বাংলা সিনেমায় নিয়ে এসেছে নতুন চিন্তার খোরাক।
জহির রায়হানের সিনেমা যে শুধু বিনোদনের উৎস ছিল এমনটি একেবারেই নয়। বিষয়বস্তু ও চিত্রায়ণশৈলীতে সে সময়ে যে প্রাগ্রসরতা তিনি দেখিয়েছিলেন তা অনন্য। তাঁর এই প্রাগ্রসরতা শুধু দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে এমন একটা ধারণা হয়তো অনেকেই করে থাকে। কিন্তু জহির রায়হানের সিনেমা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিনি আসলে প্রতিটি কাজেই এক ধরনের বিপ্লব আনতে চেয়েছেন। সমাজকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে চেয়েছেন। উদারনৈতিক মানসিকতা, নারীর সামাজিক অবস্থান, সমাজের জরাগ্রস্ত নিয়ম ভেঙ্গে ফেলা, নিজের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সচেতন হওয়া, সবই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর সিনেমায়।
জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তির যে বার্তা আনতে চেয়েছিলেন তার একটা বড় অংশ ছিল পরাধীনতার শেকল ভাঙার, স্বাধিকার আন্দোলনের পথের। কিন্তু প্রগতিশীলতা, উদারচিন্তা ও আধুনিকতার যে চর্চা তিনি করেছেন তা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর প্রথম সিনেমা থেকেই।
‘কখনো আসেনি’ সিনেমায় তিনি 'অ্যাগালম্যাটোফিলিয়া’র (মূর্তির প্রতি আকর্ষণ) মতোন অধুনা আর ইউনিক এক বিষয় চিত্রায়ণ করেন। মারিয়ম নামের নারী চরিত্রকে জাদুঘরে মূর্তি হয়ে থাকতে দেখা যায় এই সিনেমায়। এই মারিয়ামের সঙ্গে নায়ক (শওকত), চিত্রকর, মূর্তিসংগ্রাহক সুলতানের সম্পর্ককে তিনি অনন্যভাবে উপস্থাপন করেন। নারীর আকাঙ্ক্ষা, মানসিক টানাপড়েনকে তিনি ৬৫ বছর আগে যেভাবে তুলে ধরেছেন তা ইতিহাসে বিরল ও অনন্য।
তাঁর তৃতীয় সিনেমা, ’কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩) কে বলা যায় আমাদের দেশের প্রথম নারীবাদী চলচ্চিত্র। নারীপ্রধান চরিত্রের এই সিনেমায় হাসিনা চরিত্রের মাধ্যমে নারীস্বাধীনতার বিষয়টি পর্দায় আনেন তিনি। যখন আমাদের দেশের অনেক নারীই নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন না, তখন তিনি হাসিনার বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে পরিচিত করান তাঁর সিনেমায়। দূরসম্পর্কের মামার সঙ্গে প্রণয়ের দ্বারা সমাজের তথাকথিত বা গতানুগতিক হৃদয়ঘটিত বন্ধনের রীতিনীতি থেকে মুক্তির ইঙ্গিত দেন পরিচালক এখানে। উপমহাদেশের আরেক কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের ’মহানগর’ (১৯৬৩) চলচ্চিত্র ও এই সিনেমার ৮ মাস পর মুক্তি পায়, সেটিও নারীবাদ -প্রধান গল্প নিয়েই।
১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা 'বেহুলা'য় তিনি দেখান যে লোকসাহিত্য- নিজেদের প্রাচীন পুরাণকেও তিনি সমাদর করতে জানেন। ‘বেহুলা’ সেসময়ে ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে।
'আনোয়ারা' (১৯৬৭) সিনেমাতেও তিনি সাহিত্যনির্ভর গল্প আনলেন। তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্র গঠন, গল্প, আবেদনের দিক থেকে একটি অন্যটি অপেক্ষা অনেক বেশি স্বতন্ত্র, নতুন নতুন টেকনিক উন্মোচনের নেশায় উদগ্রীব ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ’সঙ্গম’ (১৯৬৪) ও তাঁর তৈরি, প্রথম সিনেমােস্কোপ ছবি ‘বাহানা’ (১৯৬৫) ও তিনিই তৈরি করেছেন।
ছেলেবেলা থেকেই বিপ্লবী রাজনীতি তাঁকে আকৃষ্ট করতো। বড় হয়ে যোগ ও দিয়েছেন রাজনীতিতে। দেশের পরাধীনতা তাঁকে প্রতিনিয়ত পীড়িত করত। তিনি অনুভব করতেন এই শোষণের শেষ হওয়া দরকার। ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তিনি, লেখেন ‘আরেক ফাল্গুন’ এর মতো মাস্টারপিস। ভাষা আন্দোলনের চেতনা সম্পূর্ণ ধারণ করেছিল যে চলচ্চিত্র, সেটি ‘জীবন থকে নেয়া’।
১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে তিনি ‘তিনজন নারী ও এক পেয়ালা বিষ’ নামের এক সিনেমার জন্য এফডিসিতে আবেদন করেন। অনুমোদনের পর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘জীবন থকে নেয়া’। যে সিনেমার ট্রেইলার, পোস্টার সবকিছুই ছিল সংগ্রামের আলেখ্য। ‘একটি দেশ, একটি সংসার, একটি চাবীর গোছা, একটি আন্দোলন’। এই রূপকাশ্রয়ী চরণগুলোর মাধ্যমে তিনি সাংসারিক জীবনের আড়ালে একটি সমগ্র জাতির বন্দিজীবন তুলে ধরেন। সিনেমায় ব্যবহৃত হওয়া 'এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’, গানটি সংসারে স্ত্রীর একনায়কতন্ত্রের শিকার স্বামীর আর্তনাদ মনে হলেও পেছনে আছে গূঢ়ার্থ। কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এই কঠিন বিষয়গুলো যে সিনেমায় তিনি এনেছেন তা হাস্যরসে পরিপূর্ণ, হিউমর সৃষ্টিতেও তিনি ছিলেন অনবদ্য। এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, ‘আমার সোনার বাংলা’, চিত্রায়িত হয়েছে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'। সরকারের অজস্র বাধার মুখেও এই সিনেমার কাজ তিনি চালিয়ে যান। দেশের সব স্তরের মানুষকে প্রচণ্ডভাবে উজ্জীবিত করে এই সিনেমা ।
'জীবন থেকে নেয়া'র সাফল্যের পর তিনি ‘আর কতদিন’ উপন্যাসের ইংরেজি ভাষান্তরিত সিনেমা ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এরইমধ্যে আরম্ভ হয় মুক্তিযুদ্ধ। তিনি ভারতে চলে যান এবং এই সময়টুকুতেও তৈরি করেন আরেক অনন্যসাধারণ প্রামাণ্যচিত্র , ‘স্টপ জেনোসাইড’ আর ’বার্থ অব আ নেশন’। এই ডকুমেন্টারিগুলোর মাধ্যমে তিনি মূলত বিশ্ববাসীর সামনে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, নৃশংসতা, পাশবিকতা ও বর্বরতা তুলে ধরতে চেয়েছেন এবং সফল ও হয়েছেন। একেবারেই পূর্বপরিকল্পিত ফুটেজ ছাড়া নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রতি বাক্যের শেষে ’স্টপ’ বলার মাধ্যমে যেন তিনি সকল গণহত্যাকারীদের সাবধান করে দিয়েছিলেন।
চলচ্চিত্রের প্রতি জহির রায়হানের একাত্মবোধের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে অন্যদের ও চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র বানাতে আগ্রহী করে তুলতেন। কলকাতায় ‘স্টপ জনোসাইড’ বানানোর সময় তাঁর তত্ত্বাবধানে বাবুল চৌধুরী ‘ইনোসেন্ট মিলিয়ন’, আলমগীর কবির ‘লিবারেশন ফাইটারস’ নামে দুটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মকে কাজ শিখিয়েছেন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করে গেছেন তিনি।
‘জুলেখা’ (১৯৬৭), ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮), ‘সুয়োরাণী-দুয়োরাণী’ (১৯৬৮), ‘ কুচবরণ কন্যা’ (১৯৬৮), ‘মনের মতো বউ’ (১৯৬৯), ‘প্রতিশোধ’ (১৯৭২) ছবিগুলোর প্রযোজনাও তিনিই করেছেন। জহির রায়হান সবসময় বলতেন, ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ হবে তাঁর শেষ সিনেমা। এই সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা, ইংলিশ, উর্দু, ফ্রেঞ্চ ভাষায় মুক্তি পেত সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি পরিচালক সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করতেন সবসময়। এমনকি ‘স্টপ জেনোসাইড’ এর কাজ সম্পন্নও হয়েছে মৃণাল সেনের নিজস্ব স্টুডিওতে।
'স্টপ জেনোসাইড’ এর নির্মাণকাজে কিউবার কমিউনিস্ট নির্মাতা সান্তিয়াগো আলভারেজের বেশ প্রভাব চোখে পড়ে অনেকেরই। আবার ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’ এর খুঁজে পাওয়া কিছু ক্লিপ দেখে বোঝা যায় সেখানেও আলভারেজ এর ‘নার্ভাস মন্টাজ’ টেকনিকের ব্যবহার আছে। বাংলা সিনেমার জগৎকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে ধাবিত করছিলেন ক্রমশ। যা আমাদের এই ভূখণ্ডের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের জন্য ছিল মুক্তির সুবৃহৎ পদক্ষেপ।
অসমান্য গুণী এই পরিচালক মাত্র ৩৭ বছর আয়ু নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি, আপন অগ্রজ যশস্বী সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ্ কায়সারের খোঁজে তিনি বেরিয়ে পড়েন, যাকে রাজাকার বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী গণহত্যার রাতে। এরপর আর ঘরে ফেরেননি জহির রায়হান। চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি কাজ করেছেন বছর ১৩/১৪ এর মতোন। এই সময়ে তিনি আমাদের দেশীয় সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক কাজগুলো করেছেন। আদতেই তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তির আলো দেখাতে চেয়েছেন এদেশের সব স্তরের মানুষকে, দর্শকের অন্তর্সত্তাকে।
স্বাধীন বাংলাদেশের চূড়ান্ত দুর্ভাগ্য যে জীবিত জহির রায়হানকে পায়নি স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্র। আজ থেকে ৬০ বছরের ও আগের সময়ে যেভাবে তিনি ভেবেছেন এবং ভাবনার চিত্রায়ণ
করেছেন, তা এতোবছর পরে এসেও খুব কম নির্মাতা ভাবতে পারেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আধুনিকায়ন ও উৎকর্ষ শব্দটির সঙ্গে এই মানুষটির নাম তাই ইতিহাস সবসময় স্মরণ করবে।
লেখক: প্রভাষক, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়।

পাকিস্তানি শাসনামলে অর্থনীতি, রাজনীতি, আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোতে পূর্ব-বাংলাকে অগ্রবর্তী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি একথা সবারই জানা। বাংলা অঞ্চলের আবহমানকালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নিজস্ব সাহিত্যের প্রতিও তাদের বিশেষ শ্রদ্ধাবোধ কখনো লক্ষ করা যায়নি, বরং সুযোগ পেলেই হয়েছে খড়্গহস্ত। যে কোনো বই, চলচ্চিত্র, সংগীতের প্রচার ও প্রচারণাকে ঘিরে প্রশাসনিকভাবে তৈরি করা হতো নানামাত্রিক জটিলতা; পাছে তাদের রোজকার জুলুমের খেরোখাতা উন্মুক্ত হয়ে না পড়ে কোনো গানের অন্তরায়, কোনো কবিতার পঙক্তিমালায়! তাই যেকোনো সৃষ্টিকর্মকে কঠোর পূর্বপাকিস্তানি সেন্সরশিপের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।
রেজিমেন্টাল এই কাঁটাছেড়ার দায়িত্বে থাকা জেনারেল রাও ফরমান আলী, একদিন একটা চলচ্চিত্র বিচার করতে বসলেন। সিনেমা তার মনঃপূত হল না , অবধারিতভাবে পরিচালককে ডেকে জেনারেল বললেন, ‘সিনেমায় তুমি কায়েদে আজমকে রেখেছো জেলখানার বাইরে, আর রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে রেখেছো হিরোর বেডরুমে'।
পরিচালকের প্রবল ব্যক্তিত্ব আর আত্মমর্যাদার সামনে এই অভিযোগবাণী টিকতে পারেনি। চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ বা প্রদর্শনী বন্ধের ফরমান জারি না করতে পেরে ক্ষুব্ধ ফরমান আলী বলেছিলেন, 'আমি তোমাকে ছবি রিলিজ করতে এলাউ করছি, কিন্তু একদিন তোমাকে দেখে নেবো'।
হুমকিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে পরিচালক লেগে পড়লেন চলচ্চিত্র মুক্তির তোড়জোড়ে। পর্দায় এলো বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও তাৎপর্যবাহী চলচ্চিত্র, 'জীবন থেকে নেয়া'; মুক্তির প্রায় অর্ধশতক পরেও যেটি একইরকম আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছে দর্শকের মনে। পাঠক নিঃসন্দেহে বুঝে গেছেন, এই চলচ্চিত্র পরিচালকের নাম জহির রায়হান।
আমাদের এই জনপদ যে ক'জন বিরল প্রতিভাবান মানুষের জন্য সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের একজন জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২)। জহির রায়হান বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং এই উপমহাদেশের গতিশীল চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা একজন ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্রে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকলেও তিনি শুধু পরিচালনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না কখনো; কাহিনীকার, প্রযোজক, চিত্রনাট্য রচয়িতা সবই ছিলেন। চলচ্চিত্রের গঠনশৈলী, আঙ্গিক, সবকিছু নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আবহ এনেছেন দেশীয় কাজে, নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে।

আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গণকে জহির রায়হান দিয়েছিলেন নতুনত্ব, উৎকর্ষ। স্বল্পায়ু এই শিল্পী খুব বেশি কাজ করে যেতে পারেননি। কিন্তু যে চলচ্চিত্রেই তিনি ছিলেন, সেটিই হয়ে উঠেছে নতুন মাইলফলক। জহির রায়হান নির্মিত চলচ্চিত্র , ‘কখনো আসেনি’ (১৯৬১), ‘ সোনার কাজল’ (১৯৬২), ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ’সঙ্গম’ (১৯৬৪), ‘বাহানা’ (১৯৬৫), বেহুলা (১৯৬৬), 'আনোয়ারা' (১৯৬৭), 'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০)। আর দশজন পরিচালকের তুলনায় জহির রায়হান আলাদা তাঁর কাজের ধরনে ও মননে। হাতেগোনা সিনেমাগুলোর প্রত্যেকটিই আলাদা ধাঁচে উপস্থাপন করেছেন তিনি, এবং তাঁর সব কাজই বাংলা সিনেমায় নিয়ে এসেছে নতুন চিন্তার খোরাক।
জহির রায়হানের সিনেমা যে শুধু বিনোদনের উৎস ছিল এমনটি একেবারেই নয়। বিষয়বস্তু ও চিত্রায়ণশৈলীতে সে সময়ে যে প্রাগ্রসরতা তিনি দেখিয়েছিলেন তা অনন্য। তাঁর এই প্রাগ্রসরতা শুধু দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে এমন একটা ধারণা হয়তো অনেকেই করে থাকে। কিন্তু জহির রায়হানের সিনেমা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিনি আসলে প্রতিটি কাজেই এক ধরনের বিপ্লব আনতে চেয়েছেন। সমাজকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে চেয়েছেন। উদারনৈতিক মানসিকতা, নারীর সামাজিক অবস্থান, সমাজের জরাগ্রস্ত নিয়ম ভেঙ্গে ফেলা, নিজের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সচেতন হওয়া, সবই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর সিনেমায়।
জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তির যে বার্তা আনতে চেয়েছিলেন তার একটা বড় অংশ ছিল পরাধীনতার শেকল ভাঙার, স্বাধিকার আন্দোলনের পথের। কিন্তু প্রগতিশীলতা, উদারচিন্তা ও আধুনিকতার যে চর্চা তিনি করেছেন তা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর প্রথম সিনেমা থেকেই।
‘কখনো আসেনি’ সিনেমায় তিনি 'অ্যাগালম্যাটোফিলিয়া’র (মূর্তির প্রতি আকর্ষণ) মতোন অধুনা আর ইউনিক এক বিষয় চিত্রায়ণ করেন। মারিয়ম নামের নারী চরিত্রকে জাদুঘরে মূর্তি হয়ে থাকতে দেখা যায় এই সিনেমায়। এই মারিয়ামের সঙ্গে নায়ক (শওকত), চিত্রকর, মূর্তিসংগ্রাহক সুলতানের সম্পর্ককে তিনি অনন্যভাবে উপস্থাপন করেন। নারীর আকাঙ্ক্ষা, মানসিক টানাপড়েনকে তিনি ৬৫ বছর আগে যেভাবে তুলে ধরেছেন তা ইতিহাসে বিরল ও অনন্য।
তাঁর তৃতীয় সিনেমা, ’কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩) কে বলা যায় আমাদের দেশের প্রথম নারীবাদী চলচ্চিত্র। নারীপ্রধান চরিত্রের এই সিনেমায় হাসিনা চরিত্রের মাধ্যমে নারীস্বাধীনতার বিষয়টি পর্দায় আনেন তিনি। যখন আমাদের দেশের অনেক নারীই নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন না, তখন তিনি হাসিনার বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে পরিচিত করান তাঁর সিনেমায়। দূরসম্পর্কের মামার সঙ্গে প্রণয়ের দ্বারা সমাজের তথাকথিত বা গতানুগতিক হৃদয়ঘটিত বন্ধনের রীতিনীতি থেকে মুক্তির ইঙ্গিত দেন পরিচালক এখানে। উপমহাদেশের আরেক কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের ’মহানগর’ (১৯৬৩) চলচ্চিত্র ও এই সিনেমার ৮ মাস পর মুক্তি পায়, সেটিও নারীবাদ -প্রধান গল্প নিয়েই।
১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা 'বেহুলা'য় তিনি দেখান যে লোকসাহিত্য- নিজেদের প্রাচীন পুরাণকেও তিনি সমাদর করতে জানেন। ‘বেহুলা’ সেসময়ে ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে।
'আনোয়ারা' (১৯৬৭) সিনেমাতেও তিনি সাহিত্যনির্ভর গল্প আনলেন। তাঁর প্রতিটি চলচ্চিত্র গঠন, গল্প, আবেদনের দিক থেকে একটি অন্যটি অপেক্ষা অনেক বেশি স্বতন্ত্র, নতুন নতুন টেকনিক উন্মোচনের নেশায় উদগ্রীব ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ’সঙ্গম’ (১৯৬৪) ও তাঁর তৈরি, প্রথম সিনেমােস্কোপ ছবি ‘বাহানা’ (১৯৬৫) ও তিনিই তৈরি করেছেন।
ছেলেবেলা থেকেই বিপ্লবী রাজনীতি তাঁকে আকৃষ্ট করতো। বড় হয়ে যোগ ও দিয়েছেন রাজনীতিতে। দেশের পরাধীনতা তাঁকে প্রতিনিয়ত পীড়িত করত। তিনি অনুভব করতেন এই শোষণের শেষ হওয়া দরকার। ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তিনি, লেখেন ‘আরেক ফাল্গুন’ এর মতো মাস্টারপিস। ভাষা আন্দোলনের চেতনা সম্পূর্ণ ধারণ করেছিল যে চলচ্চিত্র, সেটি ‘জীবন থকে নেয়া’।
১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে তিনি ‘তিনজন নারী ও এক পেয়ালা বিষ’ নামের এক সিনেমার জন্য এফডিসিতে আবেদন করেন। অনুমোদনের পর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘জীবন থকে নেয়া’। যে সিনেমার ট্রেইলার, পোস্টার সবকিছুই ছিল সংগ্রামের আলেখ্য। ‘একটি দেশ, একটি সংসার, একটি চাবীর গোছা, একটি আন্দোলন’। এই রূপকাশ্রয়ী চরণগুলোর মাধ্যমে তিনি সাংসারিক জীবনের আড়ালে একটি সমগ্র জাতির বন্দিজীবন তুলে ধরেন। সিনেমায় ব্যবহৃত হওয়া 'এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’, গানটি সংসারে স্ত্রীর একনায়কতন্ত্রের শিকার স্বামীর আর্তনাদ মনে হলেও পেছনে আছে গূঢ়ার্থ। কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এই কঠিন বিষয়গুলো যে সিনেমায় তিনি এনেছেন তা হাস্যরসে পরিপূর্ণ, হিউমর সৃষ্টিতেও তিনি ছিলেন অনবদ্য। এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, ‘আমার সোনার বাংলা’, চিত্রায়িত হয়েছে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'। সরকারের অজস্র বাধার মুখেও এই সিনেমার কাজ তিনি চালিয়ে যান। দেশের সব স্তরের মানুষকে প্রচণ্ডভাবে উজ্জীবিত করে এই সিনেমা ।
'জীবন থেকে নেয়া'র সাফল্যের পর তিনি ‘আর কতদিন’ উপন্যাসের ইংরেজি ভাষান্তরিত সিনেমা ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এরইমধ্যে আরম্ভ হয় মুক্তিযুদ্ধ। তিনি ভারতে চলে যান এবং এই সময়টুকুতেও তৈরি করেন আরেক অনন্যসাধারণ প্রামাণ্যচিত্র , ‘স্টপ জেনোসাইড’ আর ’বার্থ অব আ নেশন’। এই ডকুমেন্টারিগুলোর মাধ্যমে তিনি মূলত বিশ্ববাসীর সামনে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, নৃশংসতা, পাশবিকতা ও বর্বরতা তুলে ধরতে চেয়েছেন এবং সফল ও হয়েছেন। একেবারেই পূর্বপরিকল্পিত ফুটেজ ছাড়া নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রতি বাক্যের শেষে ’স্টপ’ বলার মাধ্যমে যেন তিনি সকল গণহত্যাকারীদের সাবধান করে দিয়েছিলেন।
চলচ্চিত্রের প্রতি জহির রায়হানের একাত্মবোধের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে অন্যদের ও চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র বানাতে আগ্রহী করে তুলতেন। কলকাতায় ‘স্টপ জনোসাইড’ বানানোর সময় তাঁর তত্ত্বাবধানে বাবুল চৌধুরী ‘ইনোসেন্ট মিলিয়ন’, আলমগীর কবির ‘লিবারেশন ফাইটারস’ নামে দুটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। অর্থাৎ নতুন প্রজন্মকে কাজ শিখিয়েছেন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করে গেছেন তিনি।
‘জুলেখা’ (১৯৬৭), ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮), ‘সুয়োরাণী-দুয়োরাণী’ (১৯৬৮), ‘ কুচবরণ কন্যা’ (১৯৬৮), ‘মনের মতো বউ’ (১৯৬৯), ‘প্রতিশোধ’ (১৯৭২) ছবিগুলোর প্রযোজনাও তিনিই করেছেন। জহির রায়হান সবসময় বলতেন, ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ হবে তাঁর শেষ সিনেমা। এই সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা, ইংলিশ, উর্দু, ফ্রেঞ্চ ভাষায় মুক্তি পেত সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি পরিচালক সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করতেন সবসময়। এমনকি ‘স্টপ জেনোসাইড’ এর কাজ সম্পন্নও হয়েছে মৃণাল সেনের নিজস্ব স্টুডিওতে।
'স্টপ জেনোসাইড’ এর নির্মাণকাজে কিউবার কমিউনিস্ট নির্মাতা সান্তিয়াগো আলভারেজের বেশ প্রভাব চোখে পড়ে অনেকেরই। আবার ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’ এর খুঁজে পাওয়া কিছু ক্লিপ দেখে বোঝা যায় সেখানেও আলভারেজ এর ‘নার্ভাস মন্টাজ’ টেকনিকের ব্যবহার আছে। বাংলা সিনেমার জগৎকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে ধাবিত করছিলেন ক্রমশ। যা আমাদের এই ভূখণ্ডের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের জন্য ছিল মুক্তির সুবৃহৎ পদক্ষেপ।
অসমান্য গুণী এই পরিচালক মাত্র ৩৭ বছর আয়ু নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি, আপন অগ্রজ যশস্বী সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ্ কায়সারের খোঁজে তিনি বেরিয়ে পড়েন, যাকে রাজাকার বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী গণহত্যার রাতে। এরপর আর ঘরে ফেরেননি জহির রায়হান। চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি কাজ করেছেন বছর ১৩/১৪ এর মতোন। এই সময়ে তিনি আমাদের দেশীয় সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক কাজগুলো করেছেন। আদতেই তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তির আলো দেখাতে চেয়েছেন এদেশের সব স্তরের মানুষকে, দর্শকের অন্তর্সত্তাকে।
স্বাধীন বাংলাদেশের চূড়ান্ত দুর্ভাগ্য যে জীবিত জহির রায়হানকে পায়নি স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্র। আজ থেকে ৬০ বছরের ও আগের সময়ে যেভাবে তিনি ভেবেছেন এবং ভাবনার চিত্রায়ণ
করেছেন, তা এতোবছর পরে এসেও খুব কম নির্মাতা ভাবতে পারেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আধুনিকায়ন ও উৎকর্ষ শব্দটির সঙ্গে এই মানুষটির নাম তাই ইতিহাস সবসময় স্মরণ করবে।
লেখক: প্রভাষক, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩৬ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ওঠে আসা দলটি এই ইশতেহারকে বলছে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
২ ঘণ্টা আগে
সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই, এই কথাটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাঁচ বছরের শিশুর জন্য যে খাবারটি অমৃতসম, পঞ্চাশ বছরের একজন মানুষের জন্য সেটিই ধীরে ধীরে সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে খাবারের ধরন না বদলালে দীর্
১০ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
১ দিন আগে
বয়স বাড়লে ত্বকে ভাঁজ পড়বে, এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু যদি সেই ভাঁজ বিশ কিংবা ত্রিশের কোঠাতেই চোখে পড়তে শুরু করে, তখন তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জানলে অবাক হবেন যে নিত্যদিন ব্যবহার করা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবের স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো বা ব্লু-লাইটের
১ দিন আগে