leadT1ad

রংপুরের নির্বাচনী জনসভা

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা তারেক রহমানের

তারেক রহমান এ সময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় চান।

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

রংপুরের সমাবেশে তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচার সফরে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট মাঠের জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা মওকুফ করার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা হিসাব-নিকাশ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ধানের শীষ সরকার গঠন করলে, এই মুহূর্তে যাদের কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, আমরা সেই কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করব।’

এ সময় তিনি এনজিও থেকে পাওয়া ঋণও পরিশোধ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘যারা বিভিন্ন সময় রেজিস্ট্রার্ড এনজিও থেকে “ছোট ছোট ক্ষুদ্রঋণ” গ্রহণ করেছেন, ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, সরকারের পক্ষ থেকে এই ঋণ এনজিওগুলোকে পরিশোধ করে দেব। এই অঞ্চলের মানুষকে সেই ঋণ পরিশোধ করা লাগবে না।’
বিএনপির চেয়ারম্যান রংপুর এলাকাকে বৈষম্যের শিকার কৃষিপ্রধান অঞ্চল উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা সবাই জানি এই অঞ্চল হচ্ছে কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এই এলাকার ম্যাক্সিমাম মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত এবং সে জন্যই আমরা দেখেছি যে বিগত ১৬ বছর সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে সাথে আমাদের কৃষক ভাইয়েরাও কীভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কীভাবে কৃষকদেরকে বিভিন্ন সময় কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে।'

বিএনপি সরকারের আমলে রংপুর অঞ্চল দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল উল্লেখ্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন সেই সময় আমরা দেখেছি যে এই অঞ্চলের সবচাইতে বেশি সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু বিগত ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি, তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সঠিক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই এলাকায় একটু আগে আমি আবু সাঈদের বাড়ি থেকে এলাম। আমি নিজেও জানতাম না যে সেখানেও কয়লা আছে। আমি জানতাম দিনাজপুরে কয়লা আছে, কিন্তু আজ আমি শুনলাম যে সেখানেও কয়লা আছে। এই কয়লা যদি আমরা উত্তোলন করতে পারি, এই কয়লা দিয়ে আমরা অনেক কিছুর পরিবর্তন করতে পারব।’

রংপুরকে ঢেলে সাজাতে হবে, কর্মসংস্থান করতে হবে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ যেরকম আছে, একই সঙ্গে সবচাইতে বড় সম্পদ কৃষি আছে। বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চল, চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ অন্যান্য ঢাকা অঞ্চল যদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট হতে পারে, তাহলে কেন এই রংপুর বিভাগসহ রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এলাকায় কৃষিজাত পণ্যের ইন্ডাস্ট্রি হবে না? আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি ১৩ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা কৃষিজাত পণ্যের যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, যাদের ইন্ডাস্ট্রি আছে, তাদেরকে বিশেষ সুবিধা দেব। যাতে তারা এই এলাকায় এসে তাদের নতুন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ শুরু করেন। তার ফলে এই এলাকার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।’

তরুণ-যুবকদের আকৃষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে বর্তমানে বহু তরুণ যুবক মানুষ আছে, যুবসমাজের মানুষ আছে। যারা কম্পিউটার আইটিতে কাজ করে। আইটি কোম্পানি যেগুলো আছে, তারা যদি এইখানে এসে তাদের কোম্পানিগুলো স্থাপন করে এবং এই এলাকার ছেলে-মেয়েদেরকে যারা আইটিতে কাজ করতে পারে তাদেরকে সেখানে চাকরি-বাকরির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে তাদেরকে সেই কোম্পানিগুলোকে আমরা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত করের ছাড় দেব। যাতে করে এই এলাকার মানুষ, এই এলাকার সন্তানেরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁরা রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত