ওকালতনামার টাকা নিয়ে আদালতে বিরোধ, ভিডিও ছড়াচ্ছে চাঁদাবাজি বলে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১: ২১
স্ট্রিম গ্রাফিক

ফেসবুকে ‘বাঁশেরকেল্লা বাংলাদেশ’, ‘KTV24’, ‘জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর দক্ষিণ’ ও ‘লাল সবুজের বাংলাদেশ’সহ একাধিক পেজ থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বলা হয়, চাঁদার দাবিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের কর্মকর্তাদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন।

তবে স্ট্রিমের অনুসন্ধানে এই দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, আদালতের কর্মচারী, নেজারত শাখার কর্মকর্তা এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম। তাঁরা জানান, এই বিরোধের সূত্রপাত চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হয়নি। সিএমএম আদালতে ওকালতনামা দাখিলের টাকা নিয়ে এক আইনজীবী ও আদালতের এক কর্মচারীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছিল। পরে একই দিন দুই দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে।

ওকালতনামার টাকা নিয়ে বিরোধ

ঘটনার প্রথম পর্যায়ে ওকালতনামার টাকা নিয়ে অ্যাডভোকেট কাউসার আহমেদ আকাশের সঙ্গে আদালতের এক কর্মচারীর কথা-কাটাকাটি হয়। কাউসার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও জবি ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

কাউসার আহমেদ আকাশ জানান, ওকালতনামা জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে তাঁর কাছে ২০০ টাকা চাওয়া হয়। অতিরিক্ত ১৫০ টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে আদালতের এক কর্মচারীর সঙ্গে তাঁর তর্ক শুরু হয়। পরে আরেক কর্মচারী এসে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় আদালতের কর্মচারীরা জুলাই অভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে কাউসার আহমেদের সঙ্গে প্রথম তর্কে জড়ানো নেজারত শাখার কর্মচারী ইমরান হোসাইন এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত কোনো টাকা দাবি করেননি এবং অভ্যুত্থান নিয়েও কোনো কটাক্ষ করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদালতের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত ৫০ টাকার বদলে কাউসার আহমেদ ৪০ টাকা দিতে চাওয়ায় বাকি ১০ টাকা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তাঁর দাবি, বিরোধের একপর্যায়ে কাউসার আহমেদকে মারধর করেন আদালতের কর্মচারী মাইনুল ইসলাম।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পরে একই দিন কাউসার আহমেদসহ কয়েকজন তরুণ আদালতে এসে মাইনুল ইসলামকে মারধর করেন।

ছড়ানো ভিডিওটি দ্বিতীয় দফার মারধরের

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ঘটনার পর কাউসার আহমেদ ও জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের নেতৃত্বে কয়েকজন সিএমএম আদালতে যান। সেখানে নেজারত শাখায় কর্মরত মাইনুল ইসলামকে মারধর করা হয়।

এই দ্বিতীয় দফার মারধরের ভিডিওই ফেসবুকে ‘চাঁদার দাবিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তাদের ওপর জবি ছাত্রদলের হামলা’ দাবিতে ছড়ানো হয়েছে।

মাইনুল ইসলাম সিএমএম আদালতের নেজারত শাখায় উমেদার হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কাউসার আহমেদ হট্টগোল শুরু করেন। চলে যেতে বললেও কাউসার না যাওয়ায় একপর্যায়ে তাঁদের হাতাহাতি হয়। পরে কাউসারসহ কয়েকজন সিএমএম আদালতের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তাঁকে মারধর করেন বলে দাবি করেন মাইনুল।

আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তা নন মাইনুল

ফেসবুকে পোস্টগুলোতে এই ঘটনাকে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হিসেবে দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এর সত্যতা মেলেনি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও বলেন, সিএমএম আদালতে ওকালতনামা দাখিলকে কেন্দ্র করে এক আইনজীবীর সঙ্গে আদালতের কর্মচারীদের ঝামেলা থেকেই ঘটনাটি ঘটে। ওকালতনামা দাখিলের সময় বেশি টাকা চাওয়ায় ওই আইনজীবী প্রতিবাদ করেন। এ সময় আদালতের এক কর্মচারী তাঁকে মারধর করেন বলে শুনেছি। মারামারির কোনো ঘটনাই আইনজীবী সমিতির ভবনে হয়নি।

একইভাবে সিএমএম আদালতের নেজারত শাখার নাজির আবুল হোসাইনও ঘটনাটি চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে নয় বলে নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মাইনুল ইসলাম ঢাকা আইনজীবী সমিতির কর্মচারী নন। তিনি সিএমএম আদালতের নেজারত শাখায় কর্মরত উমেদার। ঘটনার দুই দফা মারামারিই সিএমএম আদালতের তৃতীয় তলায় ঘটেছে, আইনজীবী সমিতির ভবনে নয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত