স্ট্রিম প্রতিবেদক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির পর তুরাগ নদ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়েছে। ফেসবুক ও এক্সে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ কর্মীদের মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।
এসব দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয় মরদেহের ভিডিও। দাবির সঙ্গে যুক্ত ভিডিওগুলো যাচাইয়ে কয়েকটি ভিন্ন ঘটনার তথ্য মেলে।
যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওগুলোর একটিও তুরাগ নদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। একটি পুরোনো সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও। অন্য দুটি সিলেটের সুরমা নদী ও বান্দরবানের সাঙ্গু নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।
তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়। ২৭ জুন পোস্ট করা ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘অবশেষে তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাশ পাওয়া গেলো।’

ভিডিওতে মাটিতে কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, এগুলো তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের মরদেহ।
স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধারের নয়। এটি মে মাসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও। ওই ঘটনায় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
তুরাগ নদে সুমনের মরদেহ ভেসে যাওয়ার দাবিতে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়। ভিডিওতে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পাশে থাকা ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে কয়েকজন ভিডিও ধারণ করছিলেন।
পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ নদীতে ভেসে যাচ্ছে সুমনের মরদেহ।’ তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি তুরাগ নদের নয়। এটি সিলেটের গোলাপগঞ্জে সুরমা নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।

ভিডিওটির কী-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চে সিলেটের স্থানীয় ফেসবুক পোস্টে একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। (১,২)
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের কাঁচাবাজার খেয়াঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
স্ট্রিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে আশুলিয়া থানা-পুলিশ তুরাগ নদ থেকে রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. রানা মিয়ার ছেলে মো. সুমনের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করে। আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মাহবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে আশুলিয়া গরুর হাট-সংলগ্ন নৌকা ঘাট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভাটিতে ভাসমান অবস্থায় সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নিখোঁজ আরেফিনের লাশ তুরাগ নদে পাওয়া গেছে দাবিতে আরেকটি ভিডিও এক্স ও ফেসবুকে ছড়ায়। ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে নৌকার ওপর একটি মরদেহ দেখা যায়। ভিডিওর ভেতরে লেখা ছিল, ‘আফরিনকে পাওয়া গেছে ৬ দিনের মাথায়।’
২৯ জুন এক্সের একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি পোস্ট করে। ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ ট্র্যাজেডির আরেক জনের লাশ পাওয়া গেছে। আরেফিনের লাশ।’

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি তুরাগের নয়। এটি বান্দরবানের সাঙ্গু নদ থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য। ভিডিওর কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চে দৈনিক আজাদীর ফেসবুক পেজে ২৪ জুন প্রকাশিত একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুন সন্ধ্যায় বান্দরবানের শৈলশোভা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সাঙ্গু নদে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী আরেফিন ডুবে যায়। প্রায় ১১৪ ঘণ্টা পর ২৪ জুন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। (১,২)

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির পর তুরাগ নদ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়েছে। ফেসবুক ও এক্সে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ কর্মীদের মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।
এসব দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয় মরদেহের ভিডিও। দাবির সঙ্গে যুক্ত ভিডিওগুলো যাচাইয়ে কয়েকটি ভিন্ন ঘটনার তথ্য মেলে।
যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওগুলোর একটিও তুরাগ নদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। একটি পুরোনো সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও। অন্য দুটি সিলেটের সুরমা নদী ও বান্দরবানের সাঙ্গু নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।
তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশ উদ্ধারের দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়। ২৭ জুন পোস্ট করা ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘অবশেষে তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাশ পাওয়া গেলো।’

ভিডিওতে মাটিতে কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, এগুলো তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের মরদেহ।
স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধারের নয়। এটি মে মাসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও। ওই ঘটনায় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
তুরাগ নদে সুমনের মরদেহ ভেসে যাওয়ার দাবিতে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ায়। ভিডিওতে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পাশে থাকা ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে কয়েকজন ভিডিও ধারণ করছিলেন।
পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ নদীতে ভেসে যাচ্ছে সুমনের মরদেহ।’ তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি তুরাগ নদের নয়। এটি সিলেটের গোলাপগঞ্জে সুরমা নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।

ভিডিওটির কী-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চে সিলেটের স্থানীয় ফেসবুক পোস্টে একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। (১,২)
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের কাঁচাবাজার খেয়াঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
স্ট্রিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে আশুলিয়া থানা-পুলিশ তুরাগ নদ থেকে রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. রানা মিয়ার ছেলে মো. সুমনের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করে। আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মাহবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে আশুলিয়া গরুর হাট-সংলগ্ন নৌকা ঘাট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভাটিতে ভাসমান অবস্থায় সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নিখোঁজ আরেফিনের লাশ তুরাগ নদে পাওয়া গেছে দাবিতে আরেকটি ভিডিও এক্স ও ফেসবুকে ছড়ায়। ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে নৌকার ওপর একটি মরদেহ দেখা যায়। ভিডিওর ভেতরে লেখা ছিল, ‘আফরিনকে পাওয়া গেছে ৬ দিনের মাথায়।’
২৯ জুন এক্সের একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি পোস্ট করে। ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ ট্র্যাজেডির আরেক জনের লাশ পাওয়া গেছে। আরেফিনের লাশ।’

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি তুরাগের নয়। এটি বান্দরবানের সাঙ্গু নদ থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য। ভিডিওর কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চে দৈনিক আজাদীর ফেসবুক পেজে ২৪ জুন প্রকাশিত একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুন সন্ধ্যায় বান্দরবানের শৈলশোভা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সাঙ্গু নদে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী আরেফিন ডুবে যায়। প্রায় ১১৪ ঘণ্টা পর ২৪ জুন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। (১,২)
.png)

তবে স্ট্রিমকে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ওই দুই যুবক রেললাইনে ঘুমিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাঁরা কোনো গণমাধ্যমকে দেননি।
১৩ আগস্ট ২০২৬
পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বলা হয়, চাঁদার দাবিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের কর্মকর্তাদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। তবে স্ট্রিমের অনুসন্ধানে এই দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে শেখ হাসিনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি গত ৫ আগস্ট তার লাইভে কথা বলার আগের মুহূর্তের দৃশ্য। ভিডিওটিতে শেখ হাসিনাকে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা যায়।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ডামি বা নকল AK-47 দিয়ে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটিতে একটি কক্ষে এক ব্যক্তিকে রাইফেলের মতো দেখতে একটি বস্তু হাতে সেটির বিভিন্ন অংশ দেখাতে দেখা যায়।
১২ আগস্ট ২০২৬