স্ট্রিম প্রতিবেদক

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে পানিতে ডুবে থাকা ধানের জমিতে এক ব্যক্তিকে খাবার খেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ওপর লেখা রয়েছে, ‘ধান কাটার ফাঁকে ক্ষুধার যন্ত্রণা ঝড়ের মধ্যেও সংগ্রামে কৃষক।’ এতে দৃশ্যটিকে একজন কৃষকের সংগ্রামের মুহূর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি লিটন মিয়া নামের একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ভিডিওটি হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষকের বাস্তব মাঠপর্যায়ের দৃশ্য নয়। এটি কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে ধারণ করা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।
এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত The Farmers Voice নামের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত ভিডিওটিতে ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন, ৪ হাজার ৩০০ এর বেশি মন্তব্য এবং ৬ হাজার ২০০ এর বেশি শেয়ার দেখা গেছে। পাশাপাশি ভিডিওটি ২ হাজার ১০০ এর বেশি ব্যবহারকারী সংরক্ষণ করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনেও ভিডিওটির ওপর থাকা একই বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যাশট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘কৃষক’, ‘farmer’, ‘villagelife’, ‘agriculture’ ও ‘thefarmersvoice’।
অনুসন্ধানে MD Liton Mia নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ভিডিওর মূল পোস্ট পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে ডিজিটাল ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২ মে ২০২৬ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘তুফান এর মাজে ধান কাটরাম।’
অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, লিটন মিয়া বিভিন্ন ধরনের অভিনয়ধর্মী ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি করেন। এর মধ্যে হাস্যরসাত্মক ভিডিওও রয়েছে (১,২)। তবে গত ২৮ এপ্রিল থেকে তাকে ধান কাটা ও কৃষিজীবন ঘিরে একাধিক ভিডিও তৈরি করতে দেখা যায়। এসব ভিডিওর মধ্যে ২ মে প্রকাশিত ঝড়ের মধ্যে ধানের জমিতে খাবার খাওয়ার ভিডিওটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে।
একই অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে লিটন মিয়াকে ভিডিও বানানো ও ভাইরাল হওয়া নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন ‘ভাইরাল হওয়া যতটা সহজ মনে করছো, অতটা সহজ নাই রে ভাই। ভাইরাল হওয়া যে ভাইরাল হয়, একমাত্র সেই কইতে পারে। ঐ দেখো মেঘ-তুফানের মাঝে, দেখছোনি কি ঠান্ডার মাঝে ভিডিও বানাই আইছি। অত সোজা নাই রে ভাই, যেমন সহজ মনে করো। অত সহজ নাই, ঐ দেখো হাওরের মাঝখানে মেঘ-তুফান। বুঝছো ভাই? অত সোজা না গো ভাই, বড় কঠিন ভাইরাল হওয়া। কষ্ট করতে হইবো, মেহনত করতে হইবো আর নাইলে পারা যাইত না। ঠান্ডা, আর মাত্তারাম না।’
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিজেই কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শুরুতে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও কৃষি বিভাগের বক্তব্যে পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অর্থাৎ, হাওর অঞ্চলে কৃষকদের ফসলহানির ঘটনা বাস্তব। তবে আলোচিত ভিডিওটি সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষকের সরাসরি মাঠপর্যায়ের দৃশ্য নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর লিটন মিয়ার অভিনয়ধর্মী ভিডিওকে বাস্তব কৃষকের কষ্টের দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে পানিতে ডুবে থাকা ধানের জমিতে এক ব্যক্তিকে খাবার খেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ওপর লেখা রয়েছে, ‘ধান কাটার ফাঁকে ক্ষুধার যন্ত্রণা ঝড়ের মধ্যেও সংগ্রামে কৃষক।’ এতে দৃশ্যটিকে একজন কৃষকের সংগ্রামের মুহূর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি লিটন মিয়া নামের একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ভিডিওটি হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষকের বাস্তব মাঠপর্যায়ের দৃশ্য নয়। এটি কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে ধারণ করা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।
এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত The Farmers Voice নামের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত ভিডিওটিতে ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন, ৪ হাজার ৩০০ এর বেশি মন্তব্য এবং ৬ হাজার ২০০ এর বেশি শেয়ার দেখা গেছে। পাশাপাশি ভিডিওটি ২ হাজার ১০০ এর বেশি ব্যবহারকারী সংরক্ষণ করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনেও ভিডিওটির ওপর থাকা একই বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যাশট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘কৃষক’, ‘farmer’, ‘villagelife’, ‘agriculture’ ও ‘thefarmersvoice’।
অনুসন্ধানে MD Liton Mia নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ভিডিওর মূল পোস্ট পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে ডিজিটাল ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২ মে ২০২৬ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘তুফান এর মাজে ধান কাটরাম।’
অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, লিটন মিয়া বিভিন্ন ধরনের অভিনয়ধর্মী ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি করেন। এর মধ্যে হাস্যরসাত্মক ভিডিওও রয়েছে (১,২)। তবে গত ২৮ এপ্রিল থেকে তাকে ধান কাটা ও কৃষিজীবন ঘিরে একাধিক ভিডিও তৈরি করতে দেখা যায়। এসব ভিডিওর মধ্যে ২ মে প্রকাশিত ঝড়ের মধ্যে ধানের জমিতে খাবার খাওয়ার ভিডিওটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে।
একই অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে লিটন মিয়াকে ভিডিও বানানো ও ভাইরাল হওয়া নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন ‘ভাইরাল হওয়া যতটা সহজ মনে করছো, অতটা সহজ নাই রে ভাই। ভাইরাল হওয়া যে ভাইরাল হয়, একমাত্র সেই কইতে পারে। ঐ দেখো মেঘ-তুফানের মাঝে, দেখছোনি কি ঠান্ডার মাঝে ভিডিও বানাই আইছি। অত সোজা নাই রে ভাই, যেমন সহজ মনে করো। অত সহজ নাই, ঐ দেখো হাওরের মাঝখানে মেঘ-তুফান। বুঝছো ভাই? অত সোজা না গো ভাই, বড় কঠিন ভাইরাল হওয়া। কষ্ট করতে হইবো, মেহনত করতে হইবো আর নাইলে পারা যাইত না। ঠান্ডা, আর মাত্তারাম না।’
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিজেই কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শুরুতে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও কৃষি বিভাগের বক্তব্যে পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অর্থাৎ, হাওর অঞ্চলে কৃষকদের ফসলহানির ঘটনা বাস্তব। তবে আলোচিত ভিডিওটি সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষকের সরাসরি মাঠপর্যায়ের দৃশ্য নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর লিটন মিয়ার অভিনয়ধর্মী ভিডিওকে বাস্তব কৃষকের কষ্টের দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
.png)

তবে স্ট্রিমকে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ওই দুই যুবক রেললাইনে ঘুমিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাঁরা কোনো গণমাধ্যমকে দেননি।
১৩ আগস্ট ২০২৬
পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বলা হয়, চাঁদার দাবিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের কর্মকর্তাদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। তবে স্ট্রিমের অনুসন্ধানে এই দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে শেখ হাসিনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি গত ৫ আগস্ট তার লাইভে কথা বলার আগের মুহূর্তের দৃশ্য। ভিডিওটিতে শেখ হাসিনাকে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা যায়।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ডামি বা নকল AK-47 দিয়ে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটিতে একটি কক্ষে এক ব্যক্তিকে রাইফেলের মতো দেখতে একটি বস্তু হাতে সেটির বিভিন্ন অংশ দেখাতে দেখা যায়।
১২ আগস্ট ২০২৬