মেহেদী হাসান

কাস্ত্রো নামটি শুনলেই মনে পড়ে এক কিউবান রাজনৈতিক ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীর কথা। যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে নাকের ডগায় একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তা টিকিয়ে রাখার সাহসী কাজের জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। আজকের দিনেই এই বিপ্লবীর জন্মশতবার্ষিকী পূর্ণ হলো।
ফিদেল আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো রুৎজ, বা ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম হয় ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট, কিউবার পূর্বাঞ্চলের বিরান জেলায়। তাঁর পরিবার ছিল স্পেন থেকে আসা অভিবাসী। বাবা আনহেল মারিয়া বাউতিস্তা কাস্ত্রো ছিলেন স্পেন থেকে কিউবায় এসে বসবাস শুরু করা একজন ধনী কৃষক। মায়ের নাম ছিল লিনা রুৎজ গনজালেজ।
ছোটবেলায় ফিদেলের পড়াশোনা শুরু হয় কিউবার সান্টিয়াগোর একটি ক্যাথলিক স্কুলে। পরে তিনি ভর্তি হন হাভানার এল কলেজিও ডে বেলেন নামের একটি কলেজে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তিনি ছিলেন খুব দক্ষ। আর এই দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪৪ সালে তিনি কিউবার সেরা অলরাউন্ডার স্কুল অ্যাথলেটের পুরস্কার পান।
খেলাধুলায় বেশি মনোযোগ থাকায় পড়াশোনায় তেমন ভালো ফল করতে পারেননি ফিদেল। তবুও তিনি হাভানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়।
এরপর তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। দরিদ্র মানুষের প্রতি তার সবসময়ই একটা সহানুভূতি ছিল। আইনজীবী হিসেবে গরিব মক্কেলদের হয়ে লড়াই করে অল্প সময়েই তিনি সুনাম অর্জন করেন। এসময় তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি বামপন্থি রাজনীতির পথে পা বাড়ান।
ফিদেলের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কিউবার নিয়ন্ত্রণহীন পুঁজিবাদই দেশের সব অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কারণ। আর এর সমাধান একমাত্র সম্ভব জনগণের বিপ্লবের মধ্য দিয়েই। এসময় নানা কারণে তিনি ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। তবু এই দুঃসময়েও রাজনীতি থেকে সরে আসেননি; বরং বিপ্লব ও আন্দোলনে আরও বেশি জড়িয়ে পড়েন। তখন কিউবা শাসন করতেন ফুলগেনসিও বাতিস্তা, যার সরকারের নীতি ছিল অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই। সেই নীতি ছিল কাস্ত্রোর বিশ্বাসের একেবারে বিপরীত। এই সময়ে কিউবা পরিণত হয়েছিল উচ্ছৃঙ্খল ধনীদের এক স্বর্গরাজ্যে। যৌনব্যবসা, জুয়া আর মাদক পাচার চরম আকার নিয়েছিল। সমাজে অস্থিরতা বাড়েছিল ভয়াবহ।
এসব দেখেই ফিদেল বাতিস্তা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন, নাম দেন ‘দ্য মুভমেন্ট’। ১৯৫৩ সালের জুলাইয়ে সান্টিয়াগোর কাছে মোনকাডা সেনাছাউনিতে আক্রমণের পরিকল্পনা করেন কাস্ত্রো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে যায়। কাস্ত্রোসহ অনেক বিপ্লবী তখন গ্রেপ্তার হন, আর অনেকে নিহতও হন। বাতিস্তা সরকার কাস্ত্রোর বিচার শুরু করে।
তবে এই বিচার প্রক্রিয়া উল্টো কাস্ত্রোর জন্য সহায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আদালতের শুনানিগুলোকে ব্যবহার করেন বাতিস্তা সরকারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কথা প্রকাশ করার একটি মঞ্চ হিসেবে। সেই শুনানিতে বিদেশি সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়। শেষে বিচারে তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়।
কিন্তু অদম্য মনোবল আর বিপ্লবের প্রতি প্রবল ঝোঁক যার মধ্যে থাকে, তাকে বন্দি রাখা কি সহজ? মাত্র আড়াই বছরের মাথায়, ১৯৫৫ সালের মে মাসে সাধারণ ক্ষমার আওতায় জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। মুক্তির পরপরই বিপ্লবী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং আবার গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি মেক্সিকোতে চলে যান। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় বিশ্বখ্যাত তরুণ বিপ্লবী আরনেস্তো চে গুয়েভারার সঙ্গে। এই মহান বিপ্লবীর সঙ্গ পেয়ে এবং কিউবার মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে তিনি ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৮১ জন সশস্ত্র সঙ্গী নিয়ে নিজ দেশ কিউবায় ফিরে আসেন এবং সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই টানা দুই বছর ধরে চালানো হয় হাভানার বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ।
এর ফলস্বরূপ ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি কিউবান বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাতিস্তার পতন ঘটে এবং ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় প্রতিষ্ঠিত হয় একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন। কিউবার এই নতুন কমিউনিস্ট সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এসময় বাতিস্তার বহু সমর্থককে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষকের মতে এসব বিচার ছিল একপেশে বা পক্ষপাতদুষ্ট। নতুন সরকার জনগণকে জমি ফিরিয়ে দেওয়া ও গরিবদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে দেশে কায়েম করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা। রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে বহু মানুষকে পাঠানো হয় কারাগারে ও শ্রম শিবিরে, আর হাজার হাজার মধ্যবিত্ত কিউবান দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান।
তবে কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবায় অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু উন্নয়নও ঘটে। তাঁর সময়ে কিউবার প্রতিটি নাগরিক বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতেন। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কিউবায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে আসে। এছাড়া শাসনামলের শেষ দশ বছরে অর্থনীতি বাঁচাতে তিনি মুক্ত বাণিজ্যের কিছু নীতি গ্রহণ করেন।
১৯৬০ সালে কিউবায় থাকা সব মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত করে নেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা একবিংশ শতক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এরপর ১৯৬১ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাসিত কিউবানদের একটি দলকে দিয়ে কাস্ত্রো সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়। এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় হাজারখানেক মানুষ ধরা পড়ে।
১৯৮০-র দশকে বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভের নেতৃত্বাধীন মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে কিউবা থেকে চিনি কেনা বন্ধ করে দিলে ১৯৯০-এর দশকে কিউবায় দেখা দেয় ভয়াবহ খাদ্যসংকট। ভালো জীবনের আশায় হাজার হাজার কিউবান নৌকায় করে সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। আর এর ফলে অনেকে সমুদ্রেই ডুবে মারা যান।
কিউবান বিপ্লবের এই প্রধান নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ৩০ বছর। জীবনের শেষদিকে ২০০৬ সালে অন্ত্রে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে। পরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েন। এর দুই বছর পর ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন তাঁর ছোট ভাই ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাউল কাস্ত্রোর হাতে। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে এই প্রবীণ বিপ্লবী মৃত্যুবরণ করেন তাঁর নিজ মাতৃভূমি কিউবার রাজধানী হাভানায়।

কাস্ত্রো নামটি শুনলেই মনে পড়ে এক কিউবান রাজনৈতিক ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীর কথা। যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে নাকের ডগায় একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তা টিকিয়ে রাখার সাহসী কাজের জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। আজকের দিনেই এই বিপ্লবীর জন্মশতবার্ষিকী পূর্ণ হলো।
ফিদেল আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো রুৎজ, বা ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম হয় ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট, কিউবার পূর্বাঞ্চলের বিরান জেলায়। তাঁর পরিবার ছিল স্পেন থেকে আসা অভিবাসী। বাবা আনহেল মারিয়া বাউতিস্তা কাস্ত্রো ছিলেন স্পেন থেকে কিউবায় এসে বসবাস শুরু করা একজন ধনী কৃষক। মায়ের নাম ছিল লিনা রুৎজ গনজালেজ।
ছোটবেলায় ফিদেলের পড়াশোনা শুরু হয় কিউবার সান্টিয়াগোর একটি ক্যাথলিক স্কুলে। পরে তিনি ভর্তি হন হাভানার এল কলেজিও ডে বেলেন নামের একটি কলেজে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তিনি ছিলেন খুব দক্ষ। আর এই দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪৪ সালে তিনি কিউবার সেরা অলরাউন্ডার স্কুল অ্যাথলেটের পুরস্কার পান।
খেলাধুলায় বেশি মনোযোগ থাকায় পড়াশোনায় তেমন ভালো ফল করতে পারেননি ফিদেল। তবুও তিনি হাভানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়।
এরপর তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। দরিদ্র মানুষের প্রতি তার সবসময়ই একটা সহানুভূতি ছিল। আইনজীবী হিসেবে গরিব মক্কেলদের হয়ে লড়াই করে অল্প সময়েই তিনি সুনাম অর্জন করেন। এসময় তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি বামপন্থি রাজনীতির পথে পা বাড়ান।
ফিদেলের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কিউবার নিয়ন্ত্রণহীন পুঁজিবাদই দেশের সব অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কারণ। আর এর সমাধান একমাত্র সম্ভব জনগণের বিপ্লবের মধ্য দিয়েই। এসময় নানা কারণে তিনি ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। তবু এই দুঃসময়েও রাজনীতি থেকে সরে আসেননি; বরং বিপ্লব ও আন্দোলনে আরও বেশি জড়িয়ে পড়েন। তখন কিউবা শাসন করতেন ফুলগেনসিও বাতিস্তা, যার সরকারের নীতি ছিল অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই। সেই নীতি ছিল কাস্ত্রোর বিশ্বাসের একেবারে বিপরীত। এই সময়ে কিউবা পরিণত হয়েছিল উচ্ছৃঙ্খল ধনীদের এক স্বর্গরাজ্যে। যৌনব্যবসা, জুয়া আর মাদক পাচার চরম আকার নিয়েছিল। সমাজে অস্থিরতা বাড়েছিল ভয়াবহ।
এসব দেখেই ফিদেল বাতিস্তা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন, নাম দেন ‘দ্য মুভমেন্ট’। ১৯৫৩ সালের জুলাইয়ে সান্টিয়াগোর কাছে মোনকাডা সেনাছাউনিতে আক্রমণের পরিকল্পনা করেন কাস্ত্রো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে যায়। কাস্ত্রোসহ অনেক বিপ্লবী তখন গ্রেপ্তার হন, আর অনেকে নিহতও হন। বাতিস্তা সরকার কাস্ত্রোর বিচার শুরু করে।
তবে এই বিচার প্রক্রিয়া উল্টো কাস্ত্রোর জন্য সহায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আদালতের শুনানিগুলোকে ব্যবহার করেন বাতিস্তা সরকারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কথা প্রকাশ করার একটি মঞ্চ হিসেবে। সেই শুনানিতে বিদেশি সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়। শেষে বিচারে তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়।
কিন্তু অদম্য মনোবল আর বিপ্লবের প্রতি প্রবল ঝোঁক যার মধ্যে থাকে, তাকে বন্দি রাখা কি সহজ? মাত্র আড়াই বছরের মাথায়, ১৯৫৫ সালের মে মাসে সাধারণ ক্ষমার আওতায় জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। মুক্তির পরপরই বিপ্লবী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং আবার গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি মেক্সিকোতে চলে যান। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় বিশ্বখ্যাত তরুণ বিপ্লবী আরনেস্তো চে গুয়েভারার সঙ্গে। এই মহান বিপ্লবীর সঙ্গ পেয়ে এবং কিউবার মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে তিনি ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৮১ জন সশস্ত্র সঙ্গী নিয়ে নিজ দেশ কিউবায় ফিরে আসেন এবং সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই টানা দুই বছর ধরে চালানো হয় হাভানার বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ।
এর ফলস্বরূপ ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি কিউবান বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাতিস্তার পতন ঘটে এবং ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় প্রতিষ্ঠিত হয় একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন। কিউবার এই নতুন কমিউনিস্ট সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এসময় বাতিস্তার বহু সমর্থককে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষকের মতে এসব বিচার ছিল একপেশে বা পক্ষপাতদুষ্ট। নতুন সরকার জনগণকে জমি ফিরিয়ে দেওয়া ও গরিবদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে দেশে কায়েম করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা। রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে বহু মানুষকে পাঠানো হয় কারাগারে ও শ্রম শিবিরে, আর হাজার হাজার মধ্যবিত্ত কিউবান দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান।
তবে কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবায় অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু উন্নয়নও ঘটে। তাঁর সময়ে কিউবার প্রতিটি নাগরিক বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতেন। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কিউবায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে আসে। এছাড়া শাসনামলের শেষ দশ বছরে অর্থনীতি বাঁচাতে তিনি মুক্ত বাণিজ্যের কিছু নীতি গ্রহণ করেন।
১৯৬০ সালে কিউবায় থাকা সব মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত করে নেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা একবিংশ শতক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এরপর ১৯৬১ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাসিত কিউবানদের একটি দলকে দিয়ে কাস্ত্রো সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়। এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় হাজারখানেক মানুষ ধরা পড়ে।
১৯৮০-র দশকে বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভের নেতৃত্বাধীন মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে কিউবা থেকে চিনি কেনা বন্ধ করে দিলে ১৯৯০-এর দশকে কিউবায় দেখা দেয় ভয়াবহ খাদ্যসংকট। ভালো জীবনের আশায় হাজার হাজার কিউবান নৌকায় করে সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। আর এর ফলে অনেকে সমুদ্রেই ডুবে মারা যান।
কিউবান বিপ্লবের এই প্রধান নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ৩০ বছর। জীবনের শেষদিকে ২০০৬ সালে অন্ত্রে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে। পরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েন। এর দুই বছর পর ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন তাঁর ছোট ভাই ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাউল কাস্ত্রোর হাতে। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে এই প্রবীণ বিপ্লবী মৃত্যুবরণ করেন তাঁর নিজ মাতৃভূমি কিউবার রাজধানী হাভানায়।
.png)

ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; তা মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের অন্যতম প্রধান সূত্রও। ভাষাপ্রয়োগের মধ্যে ব্যক্তিমানুষের চিন্তা, সংস্কৃতি, সামাজিক অবস্থান ও পরিচয় নিহিত থাকে। ব্যক্তির কথাবলার ভঙ্গি, শব্দব্যবহারের প্রকৃতি, ধ্বনি-উচ্চারণের প্রবণতা, বাক্যনির্মাণের স্বতন্ত্রতা, ব্যক্তিত
৩০ মিনিট আগে
২০১৯ সালে প্রকাশিত বিবিসির একটি প্রতিবেদনে চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ব্রিটেনে কাজ করার সময় হিচকক শুধু রহস্য বা থ্রিলারের গল্প বলেননি। ক্যামেরার ব্যবহার, দৃশ্য সাজানো ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও নতুন ধরনের ভাষা তৈরি করেছিলেন। এই নতুন ব্যাকরণ ইউরোপীয় চলচ্চিত্রকে আমূল বদলে দেয়।
৪ ঘণ্টা আগে
বিড়ালকে পরিবারের সদস্যের মতো করে যাঁরা বড় করেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের ‘ক্যাট মম’ বলতে পছন্দ করেন। কারও জীবনে এই সম্পর্কের শুরু অসুস্থ বিড়ালকে বাঁচানো থেকে, কারও আবার হঠাৎ পাওয়া বিড়ালছানাকে ঘিরে।
৬ ঘণ্টা আগে
এই সাক্ষাৎকারে তারেক মাসুদ তাঁর মাদ্রাসাজীবনের শৈশবের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশে সুফি মরমিয়া ঐতিহ্যের গুরুত্ব, গণমাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতার উপস্থাপন, মাটির ময়না নির্মাণের অভিজ্ঞতা, চলচ্চিত্রে সংগীত ও স্থাপত্যের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
৬ ঘণ্টা আগে