স্ট্রিম ডেস্ক

ঢাকা কলেজের পেছনের ছোট্ট এক মিলনায়তন কক্ষ থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক-শিক্ষামূলক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তার নাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর দর্শন। শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, সমগ্র বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটানো, এবং সেই পরিচয়ের মধ্য দিয়ে একজন মানুষকে আরও বিবেচক, আরও মানবিক, আরও ‘আলোকিত’ করে তোলা। তাই এর স্লোগান—‘আলোকিত মানুষ চাই’।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো এমন প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে আরও আছে। তারারও বই, পাঠাভ্যাস আর গণগ্রন্থাগার নিয়ে কাজ করে। তবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি ছাতার নিচে পাঠচক্র, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, স্কুলভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচি, সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি সুসংহত দর্শন—এই সবকিছুর মিলিত রূপ খুঁজে পাওয়া যায় না।
বই পড়া কেন জরুরি? এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর তৈরি হয়েছে। কোথাও উত্তরটি এসেছে শিশুশিক্ষা ও সাক্ষরতার প্রয়োজন থেকে, কোথাও এসেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ থেকে, আবার কোথাও এসেছে নাগরিক সমাজের মধ্যে পড়ার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা থেকে।

শিশুদের সাক্ষরতায় ‘রুম টু রিড’
এশিয়া ও আফ্রিকার নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রুম টু রিড’ মূলত শিশুদের পাঠাভ্যাস তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে। তারা স্কুলে স্কুলে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে, স্থানীয় ভাষায় শিশুতোষ বই প্রকাশ করে এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে এর কর্মপরিধি মূলত শিশু-সাক্ষরতা উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো সর্বসাধারণের জন্য পাঠচক্র পরিচালনার ধারণা এখানে নেই।
যুক্তরাজ্যে পাবলিক লাইব্রেরিগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করে ‘দ্য রিডিং এজেন্সি’। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে আছে রিডিং চ্যালেঞ্জ, বুক ক্লাব, রিডিং গ্রুপ এবং লেখক-পাঠক আড্ডার আয়োজন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাদের গ্রীষ্মকালীন ‘সামার রিডিং চ্যালেঞ্জ’, যা প্রতিবছর লাখ লাখ শিশুকে ছুটির সময়টায় বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করে। এই মডেলে প্রাতিষ্ঠানিক লাইব্রেরি-ব্যবস্থার সঙ্গে সাংগঠনিক উদ্যোগের একটি চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

রাস্তার পাশে ছোট্ট আলমারি—‘লিটল ফ্রি লাইব্রেরি’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু হয়ে আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক নাগরিক উদ্যোগের নাম ‘লিটল ফ্রি লাইব্রেরি’। রাস্তার পাশে বসানো ছোট ছোট কাঠের আলমারিতে যে কেউ বই রেখে যেতে পারেন, আবার পছন্দমতো বই নিয়েও যেতে পারেন—বিনিময়ে হয়তো নিজের সংগ্রহ থেকে অন্য একটি বই রেখে যান। এই সহজ, বিকেন্দ্রীভূত ধারণাটি বর্তমানে শতাধিক দেশে লক্ষাধিক আলমারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোহীন, সম্পূর্ণ নাগরিক-চালিত একটি মডেল।
লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া বিবলিওবুরো এক অসাধারণ অনুপ্রেরণার গল্প। একজন সাধারণ শিক্ষক দুটি গাধার পিঠে বই চাপিয়ে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দিতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই একক উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায় এবং হয়ে ওঠে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এক প্রতীকী দৃষ্টান্ত। কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা অঞ্চলে বিবলিওবুরো এখনো চালু আছে। ১৯৯৭ সালে শিক্ষক লুইস সোরিয়ানো তাঁর আলফা এবং বেতো নামের দুটি গাধার পিঠে বই বহন করে এই অনন্য কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

বাস, ট্রাক ও নৌকায় লাইব্রেরি
আর্জেন্টিনাসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাস, ট্রাক, নৌকা কিংবা ভ্যানকে রূপান্তরিত করা হয় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে, যা গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বই পৌঁছে দেয়। একইভাবে ভারতের দিল্লি, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘বুকস অন হুইলস’ নামে চলমান লাইব্রেরি পরিচালিত হয়।
আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল কমিশন অব পপুলার লাইব্রেরিস ভ্যান ও বাসে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই নিয়ে যায়। তাদের এই কর্মসূচির নাম ‘বিবলিওমোভিল’। এই কর্মসূচির আওতায় বই পড়ার পাশাপাশি লেখালেখির কর্মশালা, পাপেট শো, সংগীতানুষ্ঠানসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার জাতীয় কংগ্রেস লাব্রেরি ২০০২ সাল থেকে একটি ডাবল ডেকার বাসের মাধ্যমে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালনা করছে। বাসটির মধ্যে রয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি বই, কম্পিউটার ও পাঠকক্ষ।
অন্যদিকে ভারতের দিল্লি পাবলিক লাইব্রেরি বহু দশক ধরে মোবাইল লাইব্রেরি পরিচালনা করছে। বর্তমানে তাদের একাধিক লাইব্রেরি বাস প্রতি সপ্তাহে দিল্লির প্রায় ১০০টি নির্দিষ্ট স্থানে যায় এবং বস্তি, পুনর্বাসন কলোনি ও শহরতলির বাসিন্দাদের বই ধার দেয়। ২০১৯ সালে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নতুন মোবাইল লাইব্রেরি বাস উদ্বোধন করে, যার লক্ষ্য ছিল—‘ঘর ঘর দস্তক, ঘর ঘর পুস্তক’ কর্মসূচির মাধ্যমে বই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
এ ছাড়া ভারতের রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন ‘লাইব্রেরি অন হুইলস’ নামে একটি জাতীয় সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে। এর উদ্দেশ্য হলো মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে গ্রন্থাগারসেবা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা।
উপরের উদাহরণগুলো লক্ষ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—প্রতিটি সংগঠনই মূলত একটি নির্দিষ্ট কাজে বিশেষায়িত। রুম টু রিড যেখানে শিশু-সাক্ষরতায় বিশেষজ্ঞ, দ্য রিডিং এজেন্সি যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক লাইব্রেরি-নেটওয়ার্কে দক্ষ, লিটল ফ্রি লাইব্রেরি যেখানে বিকেন্দ্রীভূত নাগরিক অংশগ্রহণে অনন্য, আর বিবলিওবুরো বা ভারতের বুকস অন হুইলস যেখানে দুর্গম এলাকায় বই পৌঁছানোয় দক্ষ—বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই প্রতিটি শক্তিকেই নিজের কাঠামোর মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করেছে, এবং তার সঙ্গে যুক্ত করেছে একটি সুসংহত মূল্যবোধ-ভিত্তিক লক্ষ্য।
বই পড়ার আন্দোলন যেখানেই যেভাবে গড়ে উঠুক না কেন—গাধার পিঠে চড়ে পাহাড়ি গ্রামে, রাস্তার পাশের ছোট্ট কাঠের আলমারিতে, কিংবা স্কুলের ক্লাসরুমে—তার মূল উদ্দেশ্য একটাই: মানুষকে বইয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টার একটি বাংলাদেশি সংস্করণ, তবে তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি একটি দর্শন, যা বিশ্বাস করে বই কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং একজন মানুষকে আরও সচেতন, আরও সহনশীল এবং আরও মানবিক করে তোলার একটি পথ।
তথ্যসূত্র: রুম টু রিড, চ্যারিটি কমিশন ডট ইউকে, লিটল ফ্রি লাইব্রেরি ডট অর্গ, ইন্ডিয়া টুডে, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, আরআরআরএলএফ ও আর্জেন্টিনার সরকারি ওয়েবসাইট কোনাবিপ

ঢাকা কলেজের পেছনের ছোট্ট এক মিলনায়তন কক্ষ থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক-শিক্ষামূলক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তার নাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর দর্শন। শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, সমগ্র বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটানো, এবং সেই পরিচয়ের মধ্য দিয়ে একজন মানুষকে আরও বিবেচক, আরও মানবিক, আরও ‘আলোকিত’ করে তোলা। তাই এর স্লোগান—‘আলোকিত মানুষ চাই’।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো এমন প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে আরও আছে। তারারও বই, পাঠাভ্যাস আর গণগ্রন্থাগার নিয়ে কাজ করে। তবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি ছাতার নিচে পাঠচক্র, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, স্কুলভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচি, সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি সুসংহত দর্শন—এই সবকিছুর মিলিত রূপ খুঁজে পাওয়া যায় না।
বই পড়া কেন জরুরি? এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর তৈরি হয়েছে। কোথাও উত্তরটি এসেছে শিশুশিক্ষা ও সাক্ষরতার প্রয়োজন থেকে, কোথাও এসেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ থেকে, আবার কোথাও এসেছে নাগরিক সমাজের মধ্যে পড়ার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা থেকে।

শিশুদের সাক্ষরতায় ‘রুম টু রিড’
এশিয়া ও আফ্রিকার নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রুম টু রিড’ মূলত শিশুদের পাঠাভ্যাস তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে। তারা স্কুলে স্কুলে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে, স্থানীয় ভাষায় শিশুতোষ বই প্রকাশ করে এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে এর কর্মপরিধি মূলত শিশু-সাক্ষরতা উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো সর্বসাধারণের জন্য পাঠচক্র পরিচালনার ধারণা এখানে নেই।
যুক্তরাজ্যে পাবলিক লাইব্রেরিগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করে ‘দ্য রিডিং এজেন্সি’। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে আছে রিডিং চ্যালেঞ্জ, বুক ক্লাব, রিডিং গ্রুপ এবং লেখক-পাঠক আড্ডার আয়োজন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাদের গ্রীষ্মকালীন ‘সামার রিডিং চ্যালেঞ্জ’, যা প্রতিবছর লাখ লাখ শিশুকে ছুটির সময়টায় বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করে। এই মডেলে প্রাতিষ্ঠানিক লাইব্রেরি-ব্যবস্থার সঙ্গে সাংগঠনিক উদ্যোগের একটি চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

রাস্তার পাশে ছোট্ট আলমারি—‘লিটল ফ্রি লাইব্রেরি’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু হয়ে আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক নাগরিক উদ্যোগের নাম ‘লিটল ফ্রি লাইব্রেরি’। রাস্তার পাশে বসানো ছোট ছোট কাঠের আলমারিতে যে কেউ বই রেখে যেতে পারেন, আবার পছন্দমতো বই নিয়েও যেতে পারেন—বিনিময়ে হয়তো নিজের সংগ্রহ থেকে অন্য একটি বই রেখে যান। এই সহজ, বিকেন্দ্রীভূত ধারণাটি বর্তমানে শতাধিক দেশে লক্ষাধিক আলমারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোহীন, সম্পূর্ণ নাগরিক-চালিত একটি মডেল।
লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া বিবলিওবুরো এক অসাধারণ অনুপ্রেরণার গল্প। একজন সাধারণ শিক্ষক দুটি গাধার পিঠে বই চাপিয়ে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দিতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই একক উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায় এবং হয়ে ওঠে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এক প্রতীকী দৃষ্টান্ত। কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা অঞ্চলে বিবলিওবুরো এখনো চালু আছে। ১৯৯৭ সালে শিক্ষক লুইস সোরিয়ানো তাঁর আলফা এবং বেতো নামের দুটি গাধার পিঠে বই বহন করে এই অনন্য কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

বাস, ট্রাক ও নৌকায় লাইব্রেরি
আর্জেন্টিনাসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাস, ট্রাক, নৌকা কিংবা ভ্যানকে রূপান্তরিত করা হয় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে, যা গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বই পৌঁছে দেয়। একইভাবে ভারতের দিল্লি, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ‘বুকস অন হুইলস’ নামে চলমান লাইব্রেরি পরিচালিত হয়।
আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল কমিশন অব পপুলার লাইব্রেরিস ভ্যান ও বাসে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই নিয়ে যায়। তাদের এই কর্মসূচির নাম ‘বিবলিওমোভিল’। এই কর্মসূচির আওতায় বই পড়ার পাশাপাশি লেখালেখির কর্মশালা, পাপেট শো, সংগীতানুষ্ঠানসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার জাতীয় কংগ্রেস লাব্রেরি ২০০২ সাল থেকে একটি ডাবল ডেকার বাসের মাধ্যমে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালনা করছে। বাসটির মধ্যে রয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি বই, কম্পিউটার ও পাঠকক্ষ।
অন্যদিকে ভারতের দিল্লি পাবলিক লাইব্রেরি বহু দশক ধরে মোবাইল লাইব্রেরি পরিচালনা করছে। বর্তমানে তাদের একাধিক লাইব্রেরি বাস প্রতি সপ্তাহে দিল্লির প্রায় ১০০টি নির্দিষ্ট স্থানে যায় এবং বস্তি, পুনর্বাসন কলোনি ও শহরতলির বাসিন্দাদের বই ধার দেয়। ২০১৯ সালে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নতুন মোবাইল লাইব্রেরি বাস উদ্বোধন করে, যার লক্ষ্য ছিল—‘ঘর ঘর দস্তক, ঘর ঘর পুস্তক’ কর্মসূচির মাধ্যমে বই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
এ ছাড়া ভারতের রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন ‘লাইব্রেরি অন হুইলস’ নামে একটি জাতীয় সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে। এর উদ্দেশ্য হলো মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে গ্রন্থাগারসেবা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা।
উপরের উদাহরণগুলো লক্ষ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—প্রতিটি সংগঠনই মূলত একটি নির্দিষ্ট কাজে বিশেষায়িত। রুম টু রিড যেখানে শিশু-সাক্ষরতায় বিশেষজ্ঞ, দ্য রিডিং এজেন্সি যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক লাইব্রেরি-নেটওয়ার্কে দক্ষ, লিটল ফ্রি লাইব্রেরি যেখানে বিকেন্দ্রীভূত নাগরিক অংশগ্রহণে অনন্য, আর বিবলিওবুরো বা ভারতের বুকস অন হুইলস যেখানে দুর্গম এলাকায় বই পৌঁছানোয় দক্ষ—বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই প্রতিটি শক্তিকেই নিজের কাঠামোর মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করেছে, এবং তার সঙ্গে যুক্ত করেছে একটি সুসংহত মূল্যবোধ-ভিত্তিক লক্ষ্য।
বই পড়ার আন্দোলন যেখানেই যেভাবে গড়ে উঠুক না কেন—গাধার পিঠে চড়ে পাহাড়ি গ্রামে, রাস্তার পাশের ছোট্ট কাঠের আলমারিতে, কিংবা স্কুলের ক্লাসরুমে—তার মূল উদ্দেশ্য একটাই: মানুষকে বইয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টার একটি বাংলাদেশি সংস্করণ, তবে তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি একটি দর্শন, যা বিশ্বাস করে বই কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং একজন মানুষকে আরও সচেতন, আরও সহনশীল এবং আরও মানবিক করে তোলার একটি পথ।
তথ্যসূত্র: রুম টু রিড, চ্যারিটি কমিশন ডট ইউকে, লিটল ফ্রি লাইব্রেরি ডট অর্গ, ইন্ডিয়া টুডে, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, আরআরআরএলএফ ও আর্জেন্টিনার সরকারি ওয়েবসাইট কোনাবিপ
.png)

ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান অনেক সময়ই ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আসে না; আসে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ ও অভিজ্ঞতার গল্প থেকে। চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সেই জনতার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র ‘জুলাই ডায়েরিজ’।
১ মিনিট আগে
সংগঠক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
১৬ মিনিট আগে
১৯৫১ সালে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় ব্যঙ্গপত্র অচলপত্র একটি কার্টুন প্রকাশ করেছিল। নাম ‘বেঙ্গলের হিরো’। সেখানে হাঁটতে থাকা একটি শিশুর মুখে বসানো হয়েছিল এক নবাগত অভিনেতার চেহারা। প্রেমিকার গলায় ঝুলে সে বলছে, ‘ডার্লিং, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?’ সেই মুখটি ছিল উত্তম কুমার চট্টোপাধ্যায়ের। যাকে আমরা চিনি ‘উত্তম
১৬ ঘণ্টা আগে
মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলের ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশংসিত গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এই নিবন্ধটি ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই ‘আইডেন্টিটি অব আ মুসলিম ফ্যা
১৭ ঘণ্টা আগে