ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (পিপিই) ডিগ্রি লাভ করেন।
স্ট্রিম ডেস্ক

শিক্ষাজীবন শেষে বদরুদ্দীন উমর ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেও দ্রুত ঝুঁকে পড়েন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি, লেখালেখি ও আন্দোলনের পথে। পরে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনা থেকে বামপন্থী তাত্ত্বিক লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন চিন্তক ও সংগ্রামী রাজনীতিক হিসেবে। শিক্ষক থেকে রাজনীতিক—এই রূপান্তরের মধ্য দিয়েই তাঁর জীবনের প্রধানতম দিকটির পরিচয় পাওয়া যায়। শিক্ষকতা, রাজনীতি ও লেখালেখির দীর্ঘ যাত্রায় তিনি রেখে গেছেন গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার।
বদরুদ্দীন উমর ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন অবিভক্ত ভারতের অন্যতম খ্যাতনামা রাজনীতিক আবুল হাশিম। তিনি বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (পিপিই) ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে বদরুদ্দীন উমর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষকতা জীবন ত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতি ও লেখালেখিতে পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন। এই সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের ফল ছিল।
ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এই আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ গবেষক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর রচিত তিন খণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ "পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি" ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অনুসন্ধানে এক অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত। আহমদ ছফা এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেছিলেন যে, উমর যদি জীবনে আর কিছু না-ও করতেন, তবু এই গ্রন্থের জন্যই তিনি বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বদরুদ্দীন উমর কেবল একজন লেখক বা গবেষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী। ষাটের দশকে তাঁর 'সাম্প্রদায়িকতা', 'সংস্কৃতির সংকট' এবং 'সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা' গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হলে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়েন এবং বিতর্কের জন্ম দেন। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) যোগ দেন এবং পার্টির মুখপত্র 'সাপ্তাহিক গণশক্তি' সম্পাদনা করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এর সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি 'সংস্কৃতি' নামক বামপন্থী সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।
তাঁর মৃত্যুর বছর তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, তিনি সরকারি ও বেসরকারি কোনো পুরস্কার গ্রহণ করেননি এবং এই পুরস্কার গ্রহণ করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্য এবং সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন আমৃত্যু। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশ এক অসাধারণ চিন্তক, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও নির্ভীক রাজনীতিবিদকে হারালো, যা জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

শিক্ষাজীবন শেষে বদরুদ্দীন উমর ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেও দ্রুত ঝুঁকে পড়েন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি, লেখালেখি ও আন্দোলনের পথে। পরে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনা থেকে বামপন্থী তাত্ত্বিক লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন চিন্তক ও সংগ্রামী রাজনীতিক হিসেবে। শিক্ষক থেকে রাজনীতিক—এই রূপান্তরের মধ্য দিয়েই তাঁর জীবনের প্রধানতম দিকটির পরিচয় পাওয়া যায়। শিক্ষকতা, রাজনীতি ও লেখালেখির দীর্ঘ যাত্রায় তিনি রেখে গেছেন গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার।
বদরুদ্দীন উমর ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন অবিভক্ত ভারতের অন্যতম খ্যাতনামা রাজনীতিক আবুল হাশিম। তিনি বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি, পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স (পিপিই) ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে বদরুদ্দীন উমর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষকতা জীবন ত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতি ও লেখালেখিতে পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন। এই সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের ফল ছিল।
ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এই আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ গবেষক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর রচিত তিন খণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ "পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি" ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অনুসন্ধানে এক অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত। আহমদ ছফা এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেছিলেন যে, উমর যদি জীবনে আর কিছু না-ও করতেন, তবু এই গ্রন্থের জন্যই তিনি বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বদরুদ্দীন উমর কেবল একজন লেখক বা গবেষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী। ষাটের দশকে তাঁর 'সাম্প্রদায়িকতা', 'সংস্কৃতির সংকট' এবং 'সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা' গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হলে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়েন এবং বিতর্কের জন্ম দেন। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) যোগ দেন এবং পার্টির মুখপত্র 'সাপ্তাহিক গণশক্তি' সম্পাদনা করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এর সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি 'সংস্কৃতি' নামক বামপন্থী সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।
তাঁর মৃত্যুর বছর তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, তিনি সরকারি ও বেসরকারি কোনো পুরস্কার গ্রহণ করেননি এবং এই পুরস্কার গ্রহণ করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্য এবং সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন আমৃত্যু। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশ এক অসাধারণ চিন্তক, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও নির্ভীক রাজনীতিবিদকে হারালো, যা জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রযুক্তির ইতিহাসে ১৯২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বর্তমান যুগে আমরা যে টেলিভিশনকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছি, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল এই দিনটিতেই। স্কটিশ প্রকৌশলী জন লগি বেয়ার্ড সেদিন প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টেলিভিশন’ বা প্রকৃত টেলিভিশন জনসমক্ষে প্রদর্শন কর
৩ ঘণ্টা আগে
দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১ দিন আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
১ দিন আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে