শোয়েব সাম্য সিদ্দিক

মোবাইল ফোনের কয়েকটি ক্লিকে হাজার টাকার ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থাকে আমরা যত সহজ মনে করি, এর পেছনের গল্পটা তত সহজ নয়। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ন্যানো লোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও এখন অনেক মানুষ ছোট অঙ্কের ঋণ পাচ্ছেন। কিন্তু এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এখনো কম।
দেশের ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ ষাট হাজার গ্রাহক এই ধরনের ঋণ নিয়েছেন। ঋণের পরিমাণ পাঁচশো থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত আর সুদের হার সর্বোচ্চ নয় শতাংশ। খেলাপির হার এক শতাংশেরও কম। সংখ্যাগুলো দেখলে মনে হতে পারে বেশ নিখুঁত সাফল্যের গল্প। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মসৃণতা কি স্থায়ী, নাকি এটি কেবল একটি বাজারের শৈশবের ছবি, যা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে বাধ্য?
জামানত না থাকায় যিনি কখনো ব্যাংকের চৌকাঠ পেরোননি, তার জন্যও এই ঋণ নাগালের মধ্যে চলে আসে। কাগজপত্রের দীর্ঘ প্রক্রিয়া নেই বলে হঠাৎ অসুস্থতা বা ফসলের জন্য সারের টাকা জোগাড়ের মতো জরুরি প্রয়োজনে এই ঋণ সত্যিকার অর্থে জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে। নারী গ্রাহকদের জন্য এটি এক ধরনের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার। কারণ পুরুষ অভিভাবক বা জামিনদারের অনুমতি ছাড়াই একজন নারী নিজের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি ঋণ নিতে পারছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য এই সেবা নগদ প্রবাহের ঘাটতি মেটানোর একটি দ্রুত সমাধান, দোকানের পণ্য ফুরিয়ে গেলে সপ্তাহখানেকের জন্য যে ছোট মূলধন দরকার হয়, তা এখন প্রথাগত ব্যাংকের চেয়ে অনেক কম সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রতিটি ছোট ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করার মধ্য দিয়ে একজন গ্রাহক নিজের অজান্তেই একটি আনুষ্ঠানিক ঋণ ইতিহাস তৈরি করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের প্রথাগত ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করে দিতে পারে।
তবে এই সহজলভ্যতার একটি গাণিতিক দিক আছে, যা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। ৯ শতাংশ সুদ শুনতে নামমাত্র মনে হলেও, ঋণের মেয়াদ যেহেতু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ, বার্ষিক শতকরা হারে হিসাব করলে প্রকৃত খরচ প্রথাগত ব্যাংক ঋণের চেয়ে বহু গুণ বেশি দাঁড়ায়।
ন্যানো লোন নিয়ে এখানেই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে। যে ঋণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বাড়ানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে, সেটিই যদি দরিদ্র গ্রাহকের জন্য তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, তাহলে এই অন্তর্ভুক্তি কতটা কার্যকর হচ্ছে? বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বলছে, প্রথম দিকে যে ঋণ জরুরি প্রয়োজন মেটানোর কথা ছিল, সময়ের সঙ্গে তা একটি বড় অংশের গ্রাহকের জন্য নিজেই একধরনের চক্রে পরিণত হয়। এক ঋণের কিস্তি মেটাতে আরেক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, এবং প্রতিটি নতুন ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন সুদ, যা ধীরে ধীরে পরিবারের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকিটি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একজন গ্রাহক গড়ে নয়বারের বেশি ঋণ নিচ্ছেন। এই তথ্যটি আমাদের গভীরভাবে ভাবা উচিত। প্রশ্ন হলো, এই পুনরাবৃত্তি কি প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার লক্ষণ, নাকি ছোট ছোট মাসিক ঘাটতি পূরণের একটি নিয়মিত অভ্যাসে রূপান্তরিত হচ্ছে? উত্তরটি স্পষ্ট নয়, কারণ বাংলাদেশে এখনো এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একজন গ্রাহক একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছেন কি না, বা তার মোট ঋণভার কত—তা এখনো নিয়মিতভাবে কেউ পরিমাপ করছে না। যত দিন এই তথ্যভিত্তিক নজরদারি না আসছে, তত দিন খেলাপির নিচু হার দিয়ে খাতের প্রকৃত স্বাস্থ্য বিচার করা কিছুটা আগাম সিদ্ধান্তই থেকে যায়।
তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নটিও আলাদা গুরুত্ব দাবি করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি গ্রাহকের মোবাইল লেনদেনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করে, যা প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত করলেও এই তথ্য কীভাবে সংরক্ষিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়ে স্বচ্ছতা এখনো ততটা প্রকাশ্য নয়। গ্রাহকের সম্মতি ঠিক কোন পরিমাণ তথ্যের ওপর প্রযোজ্য, সেই সম্মতি একবারের জন্য না বারবার ব্যবহারযোগ্য, এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো নীতিমালায় স্পষ্ট নয়। গ্রাহক সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই কাঠামো এখনই দাঁড় করানো দরকার, নইলে ভবিষ্যতে তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে যে অভিযোগ উঠবে, তা সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের সামনে ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে এই খাত সম্ভবত দুটো দিকের যেকোনো একটিতে বাঁক নেবে। এক দিকে যদি নিয়ন্ত্রক কাঠামো বাজারের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, তাহলে ন্যানো লোন ধীরে ধীরে একটি পরিণত আর্থিক পরিষেবায় রূপ নেবে, যেখানে গ্রাহকের ঋণের বিবরণী একটি জাতীয় ক্রেডিট প্রোফাইলে যুক্ত হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রথাগত ব্যাংকিং পণ্যের দিকে উত্তরণ করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অর্থনীতিতে একটি প্রকৃত আর্থিক গতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষক পরিবার ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার মূলধারায় প্রবেশ করবেন।
অন্য দিকে যদি বাজারের আকার বাড়তে থাকে অথচ পর্যবেক্ষণ ও নীতিমালা একই জায়গায় স্থবির থেকে যায়, তাহলে বর্তমান নিচু খেলাপির হার এবং নিয়ন্ত্রিত সুদের হার কয়েক বছরের মধ্যেই চাপে পড়তে পারে, বিশেষত যখন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান গ্রাহক টানতে শর্ত শিথিল করতে পারে। আর ঠিক তখনই পুনরাবৃত্ত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা একটি সমস্যায় রূপ নিতে পারে, যদি ততদিনে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রস্তুত না থাকে।
বাংলাদেশকে এখন একই সঙ্গে ন্যানো লোনের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং এর ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রথমত, বারবার ঋণ নেওয়ার প্রবণতা পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এখনই তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে কোনো গ্রাহক ঋণচক্রে আটকে পড়ার আগেই তা চিহ্নিত করা যায়। দ্বিতীয়ত, তথ্য সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট ও প্রকাশ্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে গ্রাহকের কোন তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে তা স্পষ্টভাবে বলা থাকবে। তৃতীয়ত, বাজারে আরও বেশি তফসিলি ব্যাংক, বিশেষায়িত ফিনটেক এবং সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতে হবে, যাতে সুদের হার দীর্ঘ মেয়াদেও নিয়ন্ত্রিত থাকে। চতুর্থত, ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো বিকল্প মাধ্যম সচল রাখতে হবে, যাতে যাদের হাতে স্মার্টফোন নেই তারাও এই সুবিধার বাইরে না থেকে যান।
ন্যানো লোন বাংলাদেশের লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষের জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুবিধার গুরুত্ব অস্বীকার করার কারণ নেই। তবে বাজার যত বড় হবে, ঝুঁকিও তত স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশ এখন এমন একটি পর্যায়ে আছে, যেখানে আজকের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে ন্যানো লোন ভবিষ্যতে একটি টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মডেল হবে, নাকি নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে নতুন আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করবে।

মোবাইল ফোনের কয়েকটি ক্লিকে হাজার টাকার ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থাকে আমরা যত সহজ মনে করি, এর পেছনের গল্পটা তত সহজ নয়। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ন্যানো লোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও এখন অনেক মানুষ ছোট অঙ্কের ঋণ পাচ্ছেন। কিন্তু এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এখনো কম।
দেশের ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ ষাট হাজার গ্রাহক এই ধরনের ঋণ নিয়েছেন। ঋণের পরিমাণ পাঁচশো থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত আর সুদের হার সর্বোচ্চ নয় শতাংশ। খেলাপির হার এক শতাংশেরও কম। সংখ্যাগুলো দেখলে মনে হতে পারে বেশ নিখুঁত সাফল্যের গল্প। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মসৃণতা কি স্থায়ী, নাকি এটি কেবল একটি বাজারের শৈশবের ছবি, যা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে বাধ্য?
জামানত না থাকায় যিনি কখনো ব্যাংকের চৌকাঠ পেরোননি, তার জন্যও এই ঋণ নাগালের মধ্যে চলে আসে। কাগজপত্রের দীর্ঘ প্রক্রিয়া নেই বলে হঠাৎ অসুস্থতা বা ফসলের জন্য সারের টাকা জোগাড়ের মতো জরুরি প্রয়োজনে এই ঋণ সত্যিকার অর্থে জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে। নারী গ্রাহকদের জন্য এটি এক ধরনের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার। কারণ পুরুষ অভিভাবক বা জামিনদারের অনুমতি ছাড়াই একজন নারী নিজের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি ঋণ নিতে পারছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য এই সেবা নগদ প্রবাহের ঘাটতি মেটানোর একটি দ্রুত সমাধান, দোকানের পণ্য ফুরিয়ে গেলে সপ্তাহখানেকের জন্য যে ছোট মূলধন দরকার হয়, তা এখন প্রথাগত ব্যাংকের চেয়ে অনেক কম সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রতিটি ছোট ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করার মধ্য দিয়ে একজন গ্রাহক নিজের অজান্তেই একটি আনুষ্ঠানিক ঋণ ইতিহাস তৈরি করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের প্রথাগত ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করে দিতে পারে।
তবে এই সহজলভ্যতার একটি গাণিতিক দিক আছে, যা প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। ৯ শতাংশ সুদ শুনতে নামমাত্র মনে হলেও, ঋণের মেয়াদ যেহেতু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ, বার্ষিক শতকরা হারে হিসাব করলে প্রকৃত খরচ প্রথাগত ব্যাংক ঋণের চেয়ে বহু গুণ বেশি দাঁড়ায়।
ন্যানো লোন নিয়ে এখানেই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে। যে ঋণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বাড়ানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে, সেটিই যদি দরিদ্র গ্রাহকের জন্য তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, তাহলে এই অন্তর্ভুক্তি কতটা কার্যকর হচ্ছে? বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বলছে, প্রথম দিকে যে ঋণ জরুরি প্রয়োজন মেটানোর কথা ছিল, সময়ের সঙ্গে তা একটি বড় অংশের গ্রাহকের জন্য নিজেই একধরনের চক্রে পরিণত হয়। এক ঋণের কিস্তি মেটাতে আরেক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, এবং প্রতিটি নতুন ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন সুদ, যা ধীরে ধীরে পরিবারের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকিটি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একজন গ্রাহক গড়ে নয়বারের বেশি ঋণ নিচ্ছেন। এই তথ্যটি আমাদের গভীরভাবে ভাবা উচিত। প্রশ্ন হলো, এই পুনরাবৃত্তি কি প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার লক্ষণ, নাকি ছোট ছোট মাসিক ঘাটতি পূরণের একটি নিয়মিত অভ্যাসে রূপান্তরিত হচ্ছে? উত্তরটি স্পষ্ট নয়, কারণ বাংলাদেশে এখনো এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। একজন গ্রাহক একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছেন কি না, বা তার মোট ঋণভার কত—তা এখনো নিয়মিতভাবে কেউ পরিমাপ করছে না। যত দিন এই তথ্যভিত্তিক নজরদারি না আসছে, তত দিন খেলাপির নিচু হার দিয়ে খাতের প্রকৃত স্বাস্থ্য বিচার করা কিছুটা আগাম সিদ্ধান্তই থেকে যায়।
তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নটিও আলাদা গুরুত্ব দাবি করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি গ্রাহকের মোবাইল লেনদেনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করে, যা প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত করলেও এই তথ্য কীভাবে সংরক্ষিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়ে স্বচ্ছতা এখনো ততটা প্রকাশ্য নয়। গ্রাহকের সম্মতি ঠিক কোন পরিমাণ তথ্যের ওপর প্রযোজ্য, সেই সম্মতি একবারের জন্য না বারবার ব্যবহারযোগ্য, এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো নীতিমালায় স্পষ্ট নয়। গ্রাহক সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই কাঠামো এখনই দাঁড় করানো দরকার, নইলে ভবিষ্যতে তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে যে অভিযোগ উঠবে, তা সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের সামনে ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে এই খাত সম্ভবত দুটো দিকের যেকোনো একটিতে বাঁক নেবে। এক দিকে যদি নিয়ন্ত্রক কাঠামো বাজারের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, তাহলে ন্যানো লোন ধীরে ধীরে একটি পরিণত আর্থিক পরিষেবায় রূপ নেবে, যেখানে গ্রাহকের ঋণের বিবরণী একটি জাতীয় ক্রেডিট প্রোফাইলে যুক্ত হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রথাগত ব্যাংকিং পণ্যের দিকে উত্তরণ করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অর্থনীতিতে একটি প্রকৃত আর্থিক গতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষক পরিবার ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার মূলধারায় প্রবেশ করবেন।
অন্য দিকে যদি বাজারের আকার বাড়তে থাকে অথচ পর্যবেক্ষণ ও নীতিমালা একই জায়গায় স্থবির থেকে যায়, তাহলে বর্তমান নিচু খেলাপির হার এবং নিয়ন্ত্রিত সুদের হার কয়েক বছরের মধ্যেই চাপে পড়তে পারে, বিশেষত যখন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান গ্রাহক টানতে শর্ত শিথিল করতে পারে। আর ঠিক তখনই পুনরাবৃত্ত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা একটি সমস্যায় রূপ নিতে পারে, যদি ততদিনে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রস্তুত না থাকে।
বাংলাদেশকে এখন একই সঙ্গে ন্যানো লোনের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং এর ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রথমত, বারবার ঋণ নেওয়ার প্রবণতা পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এখনই তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে কোনো গ্রাহক ঋণচক্রে আটকে পড়ার আগেই তা চিহ্নিত করা যায়। দ্বিতীয়ত, তথ্য সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট ও প্রকাশ্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে গ্রাহকের কোন তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে তা স্পষ্টভাবে বলা থাকবে। তৃতীয়ত, বাজারে আরও বেশি তফসিলি ব্যাংক, বিশেষায়িত ফিনটেক এবং সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতে হবে, যাতে সুদের হার দীর্ঘ মেয়াদেও নিয়ন্ত্রিত থাকে। চতুর্থত, ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো বিকল্প মাধ্যম সচল রাখতে হবে, যাতে যাদের হাতে স্মার্টফোন নেই তারাও এই সুবিধার বাইরে না থেকে যান।
ন্যানো লোন বাংলাদেশের লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষের জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুবিধার গুরুত্ব অস্বীকার করার কারণ নেই। তবে বাজার যত বড় হবে, ঝুঁকিও তত স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশ এখন এমন একটি পর্যায়ে আছে, যেখানে আজকের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে ন্যানো লোন ভবিষ্যতে একটি টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মডেল হবে, নাকি নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে নতুন আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করবে।
.png)

সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ একটি নতুন ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইয়েমেন, বাংলাদেশ, নাইজেরি
২০ মিনিট আগে
সিঙ্গাপুরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর মডেল হিসেবে ধরা হয়। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইউয়ের সময়ে এই ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, যা ২০২৬ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে এসে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ পেয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেট আধিপত্যের এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, কুৎসা, ঘৃণা বাক্য, চরিত্রহনন, গুজব, ভুয়া খবর, ডিপ ফেক, চিপ ফেক কনটেন্ট প্রকাশ করে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট, চাকুরি এবং রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস নতুন কিছু নয়। এমনকি ব্যক্তিগত তথ্য (অডিও, ভিডিও, ছবি) প্রকাশ করে একজন নাগরিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ারও উদ
১৯ ঘণ্টা আগে
বাজারে যাওয়া মানুষ মাত্রই জানেন, দাম কেবল সংখ্যা নয়; সংসারের খরচের হিসাব। নিত্যপণ্যের দাম যখন সপ্তাহে সপ্তাহে বদলায়, তখন সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন সীমিত আয়ের মানুষ। বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি চার-পাঁচ বছর ধরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে আছে।
২০ ঘণ্টা আগে